সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নান্দনিকতা যেখানে সীমা ছাড়িয়েছে

সোমবার, আগস্ট ২২, ২০১৬

986615236_1471842660.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
সিলেটের কানাইঘাটের সীমান্ত এলাকায় চারদিকে সবুজবেষ্টিত চা বাগান, সারি সারি গাছ, পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বালুর মাচানে স্বচ্ছ পানির নাচুনি, বহমান নদী। অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে প্রাকৃতিক নৈসর্গের আরেক রূপের নাম 'লোভাছড়া'।

লোভাছড়া থেকে ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয় খুব বেশি দূরে নয়। এখাকার যে কোন উঁচু পাহাড়ে উঠলে মেঘালয়ের খাসিয়া জৈন্তা পাহাড় খুব কাছে থেকে দেখা যায়। লোভাছড়ায় আছে একটি চা বাগান, নাম লোভাছড়া টি এস্টেট।

সিলেট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত লোভাছড়া নদীর পাশেই ব্রিটিশ আমলে প্রায় ১৮৩৯ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে লোভাছড়া চা-বাগান।

এখানকার বাড়তি আকর্ষণ 'খাসিয়া পুঞ্জি'। এখানকার খাসিয়াদেরও আদি নিবাস ছিল খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়। অনেক আগে থেকে লোভাছড়ায় এদের বাস। লোভাছড়া থেকে ৫ কি.মি. উত্তরে গভীর জঙ্গলের ভিতরে কয়েকটি বিশাল আকৃতি পাথর রয়েছে। এক একটি পাথরের উচ্চতা হবে প্রায় ৩০ ফুট। প্রতিটি পাথর গোলাকার। চওড়া হবে প্রায় ৫০ ফুট। এই পাথরগুলোর অবস্থান পাহাড়ের নিচে।
পাহাড়ের কোলজুড়ে গাছপালার সবুজ বর্ণিল রংয়ে আচ্ছাদিত হয়ে আছে লোভাছড়া চা-বাগান।  মাটির রাস্তা ধরে যতদূর এগুনো যায় চোখে পড়ে ছোট-বড় নানা ধরনের গাছপালা। চা-বাগানের মাঝে গাছগুলো সারি-সারিভাবে সাজানো। এর সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করে।

লোভাছড়ার পাশ দিয়ে ভারত সীমান্তে হারিয়ে গেছে 'নুনগাঙ। নুনগাঙ প্রায় নদীর মতো হলেও এটি আসলে ঘোলা পানির একটি খাল যা লোভাছড়া নদী থেকে উৎপন্ন হয়েছে। খালের ওপর বেশ পুরনো, তবে এখনো মজবুত স্টিলের তৈরি একটি ব্রিজ রয়েছে, যার উপরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ-ভারত উভয় সীমান্তের পাহাড়ঘেরা আবছা ছবি চমৎকারভাবে ভেসে ওঠে।

ভোরে লোভাছড়া বাগানে হরিণ, খরগোশ, আর বন মোরগ চোখে পড়ে। রাতের আঁধারে শোনা যায় বাঘের গর্জন। এক কথায় লোভাছড়া চা-বাগান বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম। বাগান কর্তৃপক্ষের একটি বিশাল আকৃতির পোষা হাতি রয়েছে, যেটি সবসময় বাগানে অবাধ চলাফেরা করে।

লোভাছড়ায় পর্যটকের জন্য থাকার কোন সুব্যবস্থা না থাকলেও বাগান মালিক কর্তৃপক্ষের জন্য রয়েছে ৪টি বাংলো। বাংলোগুলোর বাহ্যিক দৃশ্যগুলোও বেশ নান্দনিক। বাংলোর কাছাকাছি জায়গায় রয়েছে কয়েকটি কফি গাছ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব এই রূপ লোভাছড়া কেবল পর্যটক আকর্ষণ নয়, দেশের অর্থনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লোভাছড়া বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে চলা লোভা নদী থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক পাথর উত্তোলন করেন। এই নদীর পাথর ও বালু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে যায়।
লোভাছড়া এলাকার জনসাধারণ চাষাবাদ এবং পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এলাকার মানুষগুলো খুবই সহজ সরল। লোভাছড়ায় টিলার উপর একটি প্রাচীন জমিদার বাড়ি রয়েছে। ১৯০৯ সালে একজন সমাজসেবক ইংরেজ মেজর লোভাছড়ায় এসে জমিদারির গোড়াপত্তন করেন।

যেভাবে যাবেন লোভাছড়ায়
সিলেট শহর থেকে তিনটি সড়কে কানাইঘাট সদরে পৌঁছার সুযোগ আছে। বাস অথবা সিএনজি-অটোরিকশাযোগে সরাসরি দরবস্ত-চতুল হয়ে কানাইঘাট সদরে যাওয়া যায়। অন্যদিকে, গোলাপগঞ্জ-চারখাই-শাহবাগ হয়ে জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে কানাইঘাট পৌঁছা যাবে। এছাড়া গাজী বুরহান উদ্দিন সড়ক দিয়ে সিলেট-গাছবাড়ী সড়ক দিয়ে কানাইঘাট সদরে পৌছার সুযোগ রয়েছে।

সিলেট শহর থেকে কানাইঘাট সদরে বাসভাড়া সর্বোচ্চ ৬০ টাকা এবং সিএনজি-অটোরিকশা ভাড়া সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। রিজার্ভ সিএনজি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। তিন পথেই সিএনজিতে যাওয়া যাবে কানাইঘাটে। চলতি বছর কানাইঘাটে সুরমা নদীর উপর ব্রিজ চালু হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হয়েছে।

কানাইঘাটে পৌঁছার পর বাজার থেকে নৌকায় করে যেতে হবে লোভাছড়ায়। জনপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা নৌকা ভাড়া লাগবে। এছাড়া রিজার্ভ নৌকা নিলে ৩০০ টাকার বেশি হবে না। আর লোভাছড়া ঘুরতে সময় লাগবে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। সবুজে আচ্ছাদিত অপরূপ বন, স্বচ্ছ পানির ঝর্ণা আর নদী, পাথরের মাচানসমৃদ্ধ লোভাছড়া, যা আপনাকে বিমোহিত করবেই।

ঢাকা, সোমবার, আগস্ট ২২, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // এই লেখাটি ৭৩৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন