সর্বশেষ
শনিবার ৭ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দাদির জুতা কেনা হলো না আশিকের, পারবেও না কোনোদিন

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬

588466356_1473535776.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
দাদির নতুন জুতা কিনে সোজা বাড়িতে যেতে চেয়েছিল আশিক। কিন্তু বারো বছরে কিশোর আশিকের সব স্বপ্ন থেমে গেছে টঙ্গীর বয়লার বিস্ফোরণে। নিহত আশিক আর কখনোই দাদিকে জুতা কিনে দিতে পারবে না।

আশিকের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না দাদি ফাতেমা বেগম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিলাপ করছিলেন তিনি।

ফাতেমা বেগম বলেন, 'আশিকের সঙ্গে তার শেষ দেখা বুধবার'। ময়মনসিংহ থেকে টঙ্গীর বাসায় এসেছিল। সেদিন আশিক বলেছিল, রোববার বেতন পেয়ে আমার জন্য জুতা কিনে বাড়িতে আসবে। তিনি বলছিলেন, 'বড় আদরের নাতি আশিক। ওরা দুই ভাই আমার জোড়া কবুতর'।

আশিকদের বাসা টঙ্গীর ট্যাম্পাকো কারখানার লাগোয়া। আশিকের বাবা রনি মিয়া বলেন, কারখানার বয়লারের একেবার কাছেই তাদের শৌচাগার। আশিক ঘুম থেকে উঠে প্রস্রাব করার জন্য সেখানে গিয়েছিল। যাওয়ার পরপরই ভবনের ওপর থেকে আগুনের ফুলকি এসে তার গায়ে পড়ে। এতে দগ্ধ হয় আশিক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর দুপুরের দিকে মারা যায়।

ঢাকা মেডিকেলে আশিকের লাশ রাখা ঘরের সামনে বারবার যাচ্ছিল তার ছোট্ট বোন রিয়া। ভাইয়ের লাশ দেখে বিলাপ করছিল সে, 'ভাইয়া তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে?' রিয়াও টঙ্গীর বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে। বুধবার দাদির সঙ্গে তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে যায়। আশিকের মৃত্যুর খবর শুনে সে তার দাদির সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে আসে।

আশিকের বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশিক টঙ্গীর শহীদ স্মৃতি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। কয়েক দিন আগে সে স্থানীয় একটি সুতার কারখানায় খণ্ডকালীন কাজ শুরু করে।

সূত্র: প্রথম আলো

ঢাকা, রবিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ২৪৪৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন