সর্বশেষ
রবিবার ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের পছন্দের জায়গা 'তিনাপ সাইতার'

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬

114144990_1473566118.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের আরেকটি জনপ্রিয় জায়গা জলপ্রপাত 'তিনাপ সাইতার'। ঢাকা-বান্দরবান-রোয়াংছড়ি-রনিনপাড়া-নিয়েই তিনাপ সাইতার গঠিত। ঢাকার কল্যাণপুর, সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুলের যেকোনো বাস কাউন্টার থেকে বান্দরবানগামী বাসে চড়তে হবে। শ্যামলী, হানিফ, ইউনিকসহ বেশ কিছু বাস আছে। নন-এসি ভাড়া পড়বে ৬২০ টাকা আর এসি হাজারের মতো।

ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি রাতের বাসে ওঠেন, তাহলে একদম সকালে এসে পৌঁছাবেন বান্দরবান। বাস যেখানে থামবে সেখান থেকে রোয়াংছড়ি যাওয়ার বাসস্ট্যান্ডে যেতে টমটম ভাড়া ১০ টাকা। রোয়াংছড়ির বাস এক ঘণ্টা পরপর ছাড়ে, কাজেই বান্দরবানে নেমে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর জনপ্রতি ৬০ টাকা ভাড়া দিয়ে চলে যান রোয়াংছড়িতে।

পৌঁছাতে সময় লাগবে ঘণ্টা দেড়েক। তবে চাইলে হোটেল হিলভিউর সামনে থেকে মাহেন্দ্রও রিজার্ভ নেওয়া যায়। খরচ পড়বে ১০০০-১২০০-এর মধ্যে। ১২ থেকে ১৪ জনের দল হলে মাহেন্দ্র খুবই চমৎকার বাহন। সময় লাগবে এক ঘণ্টার মতো।

রোয়াংছড়িতে নামার পর গাইডকে সঙ্গে নিয়ে যে কয়দিন থাকবেন সেই কয়দিনের উপযোগী চাল, ডাল, মসলা, মুরগি, ডিম, আনাজপাতি যা চান কিনে নিতে পারেন। বলে রাখলে গাইড নিজেও আগেভাগে বাজার করে রাখতে পারে। ভালো গ্রিপের স্যান্ডেল পাওয়া যায় রোয়াংছড়ি বাজারে। জোড়াপ্রতি দাম ১৫০ টাকার মতো পড়বে। এখানে রাধামন নামে একটি হোটেল আছে, ক্লান্ত লাগলে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নিতে পারেন।

কক্ষপ্রতি ঘণ্টায় ১৫০-২০০ টাকা ভাড়া নেবে। চাইলে এখানে রাতও কাটাতে পারেন। এসি রুম ১৫০০ টাকা আর নন এসি রুম ৫০০ টাকা নিবে। রাধামন ছাড়াও প্রায় একই খরচে একই সুবিধাসমেত বেশ কয়েকটি হোটেল পাবেন। সে যা হোক, বিশ্রাম শেষে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হবে ‘রনিনপাড়া’।

রনিনপাড়ার রাস্তায়
রনিনপাড়ায় পৌঁছানোর দুটি পদ্ধতি আছে। চাঁদের গাড়িতে যেতে পারেন অথবা হেঁটেও যাওয়া যায়। চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ নিলে খরচ পড়বে ৫৫০০ টাকার মতো। দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে খাড়া এক পাহাড়ে কাছে নামিয়ে দেবে। সেখান থেকে ঘণ্টাখানেক হেঁটে যেতে হবে। আর আপনি যদি খুবই কষ্টসহিষ্ণু হন আর পাহাড় দেখে মনটা যদি উশখুশ করে, তাহলে রোয়াংছড়ি থেকেই নেমে পড়ুন রাস্তায়। রোয়াংছড়ি শহরের পাশেই পাহাড়ি ছড়া ধরে হাঁটতে হবে বেশ কিছুক্ষণ। এরপরে চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে রনিনপাড়া পৌঁছাতে ঘণ্টা ছয় সময় লাগবে। প্রকৃতিপ্রেমী হলে অবশ্য শুরুতে বেশ উপভোগই করবেন। কখনো দেখবেন পাশের খাড়া পাহাড় উঠে গিয়েছে বহুদূর, কখনো দেখবেন দুই পাশ থেকে বিস্তৃত ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সারি, আবার কখনো হাঁটতে হবে ঠাসবুনোটের জঙ্গলের মাঝের সরু রাস্তা দিয়ে।

রনিনপাড়ার কিছুটা আগে একদম খাড়া একটা রাস্তা বেয়ে নামতে হবে, বৃষ্টি হলে এই রাস্তাটি বেশ বিপজ্জনক। রোয়াংছড়ি থেকে রনিনপাড়ার যাওয়ার রাস্তার মাঝপথে পাইখ্যংপাড়া পড়বে। খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লে এখানে কিছুক্ষণ বসতে পারেন।

রনিনপাড়ায় পৌঁছে বিশ্রাম নেবেন। এখানে গাইডই সর্বেসর্বা। সেই আপনার থাকা, গোসল, খাওয়ার বন্দোবস্ত করবে। রনিনপাড়ার বেশির ভাগ মানুষই বম জাতির। পাশাপাশি এখানে বেশ কিছু তঞ্চংগ্যাও থাকেন। চায়ের দোকানও আছে, আছে পানির বন্দোবস্ত। আশপাশের দুর্গম অঞ্চলের তুলনায় রনিনপাড়া এক স্বর্গ বললেও চলে।

তিনাপের পথে
তিনাপ সাইতারে যেতে হলে চেষ্টা করবেন যতটা সকাল সকাল সম্ভব যাত্রা শুরু করার। তিনাপ সাইতার রনিনপাড়া থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরত্ব অবস্থিত। যেতে কমবেশি চার ঘণ্টা সময় লাগবে। ভরাপেটে পাহাড়ে হাঁটা খুবই কষ্টকর। তাই হালকা কিছু খেয়ে বেরুনোই ভালো। ব্যাগ-ট্যাগ সঙ্গে নেওয়ার চিন্তা দূরে রাখবেন! সঙ্গে শুধু পানি আর অন্যান্য টুকিটাকি নেবেন। রনিনপাড়া থেকে ঘণ্টা দেড়েক হাঁটলে পৌঁছাবেন দেবাছড়াপাড়ায়। চাইলে সঙ্গে নুডলস বা স্যুপজাতীয় কিছু নিয়ে এসে এখানে রান্না করতে পারেন।

দেবাছড়া পাড়া থেকে আপনাকে নামতে হবে পাহাড়ি ছড়ায়। এই রাস্তাটি চমৎকার। দুই পাশে জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়, মাঝে মাঝে গয়ালের দেখা পাবেন। এরা হলো বন্য গরু (গৌর) আর গৃহপালিত গরুর সংকর। চোখ খোলা রাখলে সাপ অথবা কাঁকড়াও চোখে পড়তে পারে। তবে সাবধানে থাকতে হবে। যেসব পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটবেন, সেগুলো পানি আর শ্যাওলার কল্যাণে খুবই পিচ্ছিল।

ছড়া থেকে উঠে আপনাকে বেশ খানিকটা পাহাড় বাইতে হবে। এখানকার রাস্তা কষ্টসাধ্য, কিন্তু বিপজ্জনক নয়। হাঁটতে হাঁটতে পাহাড়ে ওপর থেকেই চোখে পড়বে বিশাল পাইন্দু খাল। পাইন্দু খালের আগে আগে বেশ খাড়া একটা পাহাড়ি রাস্তা নেমে গিয়েছে, এটা দিয়ে নামার সময় একটু সাবধানে নামা ভালো।

তিনাপ সাইতার পাইন্দু খাল দিয়েও যাওয়া যায়, আবার কিছুটা ঘুরপথে পাহাড় দিয়েও যাওয়া যায়। পাইন্দু খালের রাস্তা বেশি সুন্দর সেই সঙ্গে বিপদের আশঙ্কাও কিঞ্চিত বেশি। খালের কোনো কোনো জায়গায় প্রচণ্ড স্রোত, পা রাখাই দায়। গাইড দক্ষ হলে অবশ্য অনায়াসে আপনাকে এগুলো পার করিয়ে নেবে। তবে বর্ষাকালে পাইন্দু খাল দিয়ে না যাওয়াই ভালো। সাতাঁর না জানলে তো অবশ্যই না।

তবে যে পথেই যান, তিনাপের কাছাকাছি পৌঁছালেই পানির গর্জন কানে আসবে। তারপরে আর কি, সামনেই দেখবেন সেই প্রকাণ্ড জলপ্রপাত। আশপাশে পড়ে আছে বিশালকায় সব পাথর আর স্রোতের তোড়ে ভেসে আসা গাছ। আর দুই পাশ দিয়ে খাড়া জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড় শত ফুট উপরে উঠে গিয়েছে। যেকোনো একটা পাথরে উঠে যান, কিংবা প্রপাতের তলায় গিয়ে ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। শরীর মন জুড়িয়ে আসবে। যাত্রাপথের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য এর থেকে বড় টনিক আর নেই।

ঢাকা, রবিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ১০৮৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন