সর্বশেষ
সোমবার ৯ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে একাই লড়ছেন নারী চিকিৎসক মুহারাম

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬

447714211_1474615049.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
দুই বছর ধরে যুদ্ধ চলছে ইয়েমেনে। এছাড়া দেশটিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রায় দেড় বছর ধরে চলছে অবরোধ। এ অবস্থায় ইয়েমেনের লাখো মানুষ খাদ্যাভাবে ভুগছে, অনেকে মারাও যাচ্ছে।

এই দুঃসময়ে কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশটির বন্দর শহর হুদায়দার এক নারী চিকিৎসক বিপন্ন মানবতাকে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। ওই নারী চিকিৎসকের নাম আসওয়াক মুহারাম। তিনি ২০ বছর ধরে চিকিৎসা পেশায় আছেন। দীর্ঘ এই পেশাজীবনে নিজ দেশ ইয়েমেনের এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতি আর দেখেননি তিনি।

মুহারামের ভাষ্য, সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষের যে করুণ চিত্র একসময় টিভিতে দেখতেন, আজ নিজ দেশেই তা দেখছেন। এমন দৃশ্য ইয়েমেনে দেখতে হবে, তা কখনো ভাবেননি।

অনেক বছর ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার হয়ে ইয়েমেনে কাজ করেছেন মুহারাম। কিন্তু যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকাংশ সংস্থা ইয়েমেন ছেড়েছে। যেসব সংস্থা এখনো ইয়েমেনে আছে, তাদের কার্যক্রম খুবই সীমিত।

ইয়েমেনের মানুষের এই কঠিন সময়ে মুহারাম এগিয়ে এসেছেন। তিনি তাঁর সর্বোচ্চ দিয়ে মানুষের সেবা করছেন। নিজের খরচে অসুস্থদের ওষুধ দিচ্ছেন। ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিচ্ছেন। নিজের গাড়িকে ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।

ইয়েমেনে আমদানি করা খাদ্য আনার ক্ষেত্রে বন্দর শহর হুদায়দা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। কিন্তু শহরটি এখন অবরুদ্ধ। সেখানে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট দেদার বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় বন্দর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অবকাঠামো।

মুহুর্মুহু বোমা আর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এ ব্যাপারে মুহারাম বলেন, যদি কেউ বিমান হামলায় নিহত না-ও হয়, তা হলে তার মৃত্যু হবে অসুস্থতা ও ক্ষুধায়। এর চেয়ে কষ্টকর আর কিছু নেই।

চিকিৎসক মুহারাম এককভাবে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। তিনি তাঁর গাড়িতে ওষুধ নিয়ে গ্রামে গ্রামে ছুটে যান। অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা দেন। সাধ্যমতো জরুরি খাবারেরও ব্যবস্থা করেন।

যুদ্ধের ভয়াবহতা মুহারামের পরিবারকেও ছুঁয়ে গেছে। তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সেই সময়ে মুহারাম হাসপাতালে গিয়ে সাহায্য পাননি। দেশের এই পরিস্থিতিতে একপর্যায়ে দুই সন্তান নিয়ে জর্ডান চলে গেছেন মুহারামের স্বামী।

নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মুহারাম বলেন, ‘একজন চিকিৎসক, মা ও স্ত্রী হিসেবে আমি ক্লান্ত।’

মুহারাম জানান, সংঘাতের প্রভাবে ধনীরা এখন মধ্যবিত্তে পরিণত হয়েছে। মধ্যবিত্তরা হয়েছে গরিব। আর গরিবেরা ক্ষুধায় ধুঁকছে।

যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের লাখো মানুষ ঘর বাড়িছাড়া হয়েছে। দেশটির সব বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিজ দেশেই বন্দী হয়ে পড়েছে ইয়েমেনিরা।

দেশটির অনেক শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে তারা মৃত্যুর মুখে। এমনকি তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছে না। কারণ দেশটির অনেক হাসপাতাল বন্ধ রয়েছে। যেসব হাসপাতাল খোলা রয়েছে, তার অবস্থাও ভালো নয়। এর মধ্যেই মানবসেবা চালিয়ে চাচ্ছেন মুহারাম।


ঢাকা, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // টি এ এই লেখাটি ১৪০৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন