সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মনকে প্রশান্তি দিতে যেতে পারেন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬

1744894677_1474747767.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি-ই বলা যায় বাংলাদেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটে এই জলপ্রপাতে।

সমতল থেকে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে জলরাশি এর গা বেয়ে অবিরাম ধারায় সাঁ সাঁ শব্দে নিচে পড়ছে। পানির এই সাঁ সাঁ শব্দ আপনাকে করবে রোমাঞ্চিত। পানির অবিরাম পতনের ফলে নিচে সৃষ্টি হয়েছে কুণ্ডের। আর কুণ্ডের প্রবাহমান স্রোতধারা শান্তির বারিধারার মতো মাধবছড়া দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মাধবকুণ্ডের নামকরণ সম্পর্কে কথিত আছে যে, শ্রীহট্টের রাজা গঙ্গাধ্বজ ওরফে গোবর্ধন পাথারিয়া পাহাড়ে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ শুরু করলে সেখানে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মাটির নিচে একজন সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। তখন তিনি ওই সন্ন্যাসীর পদবন্দনা ও স্তূতি করলে সন্ন্যাসী তাকে নানা উপদেশসহ মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশ তিথিতে তাকে এ কুণ্ডে বিসর্জন দিতে নির্দেশ দেন। সন্ন্যাসী বিসর্জিত হওয়া মাত্র তিনবার মাধব, মাধব মাধব নামে দৈববাণী হয়। সম্ভবত এ থেকেই মাধবকুণ্ড নামের উৎপত্তি।

দেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড
তবে এর বিপরীত মতও রয়েছে। মহাদেব বা শিবের পূর্বনাম মাধব এবং এর নামানুসারে তার আবির্ভাব স্থানের নাম মাধবকুণ্ড। এ কুণ্ডের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে শিবমন্দির। যে পাহাড়টির গা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে এ পাহাড়টি সম্পূর্ণ পাথরের। এর বৃহৎ অংশজুড়ে রয়েছে ছড়া। ছড়ার উপরের অংশের নাম গঙ্গামারা ছড়া আর নিচের অংশের নাম মাধবছড়া। পাহাড়ের উপর থেকে পাথরের ওপর দিয়ে ছুটে আসা পানির স্রোত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হঠাৎ খাড়াভাবে উঁচু পাহাড় থেকে একেবারে নিচে পড়ে যায়। এতে দুটি ধারা সৃষ্টি হয়। একটি বড়, একটি ছোট। বর্ষাকালে ধারা দুটি মিশে যায়।

জলরাশি যেখানে পড়ছে তার চতুর্দিকে পাহাড়, নিচে কুণ্ড। কুণ্ডের মধ্যভাগে অনবরত পানি পড়ছে। এই স্থান অনেক গভীর। কুণ্ডের ডান পাশে একটি পাথরের গহ্বর বা গুহার সৃষ্টি হয়েছে। ১৩৪২ সালে বিষ্ণুদাস সন্ন্যাসী মাধবকুণ্ডের পশ্চিমাংশে কমলা বাগান তৈরি করেন, সেই কমলা বাগান আজও রয়েছে।

মূল জলপ্রপাতের বাম পাশে প্রায় ২০০ গজ দূরে আরও একটি পরিকুণ্ড নামের জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকেও অনবরত পানি পড়ছে। কিন্তু সেখানে যাওয়াটা খুবই কষ্টকর। যাতায়াতের সুবিধা হলেও ওখানেও পর্যটকদের ভিড় বাড়বে।

যেভাবে যাবেন:
মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী থানা বড়লেখার ৮ নম্বর দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের অধীন গৌরনগর মৌজার অন্তর্গত পাথারিয়া পাহাড়ের গায়ে এই জলপ্রপাতের স্রোতধারা বহমান। মাধবকুন্ড সিলেট সদর থেকে ৭২ কিলোমিটার, মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার, কুলাউড়া রেলওয়েজংশন থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। দেশের যে কোন জায়গা থেকে সড়ক পথে সরাসরি বাস নিয়ে  মাধবকুন্ডে যাওয়া যায়।

এছাড়া রেলপথেও সুবিধা আছে। ট্রেনে গেলে নামতে হবে কুলাউড়া স্টেশনে আর সেখান থেকে মাইক্রোবাস, অটোরিকশাযোগে যেতে হবে কাঠালতলীতে। কাঠালতলী থেকে আপনি রিক্সা, অটো রিক্সায় বা স্কুটারে মাধবকুন্ড যেতে পারবেন। আর মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা শহর থেকে আপনি রিক্সা ভাড়া করেও মাধবকুন্ড যেতে পারেন। এজন্য আপনাকে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ভাড়া গুনতে হবে। আর স্কুটার ভাড়া জনপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অথবা আপনি মাইক্রোবাস বা সিএনজি রিজার্ভ করেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে ভাড়া বেশি গুনতে হবে।

কোথায় থাকবেন:
পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ পর্যটন করর্পোরেশন এখানে থাকা-খাওয়ার সুবিধার্থে একটি রেস্টুরেন্ট, রেস্টহাউস ও বসার জন্য কিছু শেড নির্মাণ করেছে। সেখানে পর্যটন কর্পোরেশনের ডাক বাংলোতে পূর্বানুমতি নিয়ে রাত যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বড়লেখায়ও রয়েছে ভালো মানের হোটেল।

সর্তকতা:
মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে সৌন্দর্য অবলোকনের সাথে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। জলপ্রপাতের মূল চূড়ায় উঠলে বা কুপের মধ্যখানে নেমে পড়লে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মাধবকুন্ডে বেড়াতে গেলে জলপ্রপাতের চূড়ায় উঠা বা লেকে সাঁতার কাটার সময় সর্তক থাকা উচিত। সাতার না জানলে কখনোই পানিতে নামা যাবে না।

ঢাকা, রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ১০০২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন