সর্বশেষ
সোমবার ২৮শে কার্তিক ১৪২৫ | ১২ নভেম্বর ২০১৮

যোগ্য আর্টিস্টরাও এখন কাজ পায় না: হুমাইরা হিমু

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৬

435928894_1476377825.jpg
কাহহার সামি :
''জুতা যতই দামী হউক সেটা থাকে পায়ে আর টুপি যতই সস্তা হউক না কেন সেটা থাকে মাথায়। প্রথমে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এভাবে বলার জন্য। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যোগ্যতা থাকলে পায়ের জুতা কখনো মাথায় আসেনা। দর্শক যতক্ষন আমাকে গ্রহণ করবে ততক্ষন আমি মিডিয়াতে কাজ করে যাব। Agenda setting এর কারণে হয়ত অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন আর্টিস্ট এখন কাজ পায় না। তবে আমার বিশ্বাস যোগ্যতা থাকলে কাজের অভাব হয় না। আর যোগ্যতা ছাড়া কাজে আসলে তাও নিজেকে বেশি দিন টিকিয়ে রাখা যায় না।'' এভাবে মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিডিলাইভ টোয়েন্টিফোরের সাথে কথা বললেন সহস্রাধিক নাটকে অভিনয় করা বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু।

অভিনয়, বর্তমান ব্যস্ততা এবং পারিপার্শিক বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন কাহহার সামি, ছবি তুলেছেন যাহিন ইবনাত।

বিডিলাইভ: বর্তমান ব্যস্ততা কেমন? তা কি নিয়ে?

হিমু: সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। ধারাবাহিক নিয়ে ব্যস্ত আছি। ডিবি, মশাল আর এখন চলছে 'কমেডি-৪২০'। এটি পরিচালনা করছেন ফরিদুর রহমান। বৈশাখী টিভিতে প্রচার হবে এটি।

বিডিলাইভ: গেল ঈদে কয়টি নাটকে অভিনয় করেছেন?

হিমু: একটাতেও করি নাই। কারণ কেউ আমাকে নেয় নাই তাই।

বিডিলাইভ: দ্বিতীয় শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন, এর অভিজ্ঞতা নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

হিমু: ওই সময় এতটা বুঝতাম না যে মঞ্চ জিনিসটা কি। মঞ্চে সবার সামনে অভিনয় করতে হবে এটাই অনেক বড় ব্যাপার ছিল। আর মামাদের হাত ধরে উঠেছিলাম। তখন খুব ছোট ছিলাম মামারা সবাই মাথায় করে নাচত। তখন সময়টা খুব মজার গিয়েছিল। সেই থেকে অভিনয়টা নেশা হয়ে গিয়েছিল।

বিডিলাইভ: অভিনয় জগত নিয়ে অনেকের নেগেটিভ চিন্তা-ভাবনা আছে, এর কারণটা কি বলবেন?

হিমু: আসলে কি প্রত্যেকটা কর্পোরেট হাউসগুলোতে অনেক নোংরামী হয় বা হচ্ছে সেগুলো কেউ চোখে দেখে না। কারণ সেগুলো মানুষের সামনে আসেনা। আর আমাদের এখানে কোনো কিছুর গোসিপ হলে সেগুলো নিয়ে মানুষ ঘাটাঘাটি করে বেশি, জানাজানি হয় বেশি, এদিকে মানুষের আগ্রহ থাকে বেশি, জানতে চায় বেশি সেজন্যে মিডিয়া নিয়ে অনেকের খারাপ ধারণা থাকে। কিন্তু আমাদের চেয়ে খারাপ অন্যান্য লাইনগুলো আছে, অন্যান্য পেশাগুলোতেও আছে।

বিডিলাইভ: কোন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

হিমু: যে কোনো চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে চাই। আমি যে কোনো চ্যালেঞ্জিং কাজ পছন্দ করি। যেটা হয়ত সম্ভব না করো পক্ষে সেটা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

বিডিলাইভ: ব্যক্তিগত জীবন ও মিডিয়া কোনটা বেশি উপভোগ করেন?

হিমু: দুটোই! যখন যে কাজে থাকি। যখন কাজে থাকি তখন বাসার কথা মনে থাকে না। আবার যখন বাসায় থাকি তখন কাজের কথা মনে থাকে না। যখন যে কাজে থাকি সে কাজটাই উপভোগ করি।

বিডিলাইভ: বর্তমান দর্শকরা দেশীয় নাটকের চেয়ে বাহিরের নাটক সিরিয়াল বেশি দেখছেন, এর কারণটা কি?

হিমু: কারণ তারা তাদের নাটকগুলো ভালোই বানাচ্ছে। আমাদের দেশে সাধারণত বাজেট সেরকম থাকছে না। অন্যান্য দেশে দেখা যায় নাটকের মান বাড়ে। যে কোনো জিনিসেরই দাম কিন্তু বাড়ে, কমে না। দেখা গেল তারা একটা নাটক দুই লক্ষ দিয়ে বানালো, এরপর তিন লক্ষ দিয়ে বানালো ভালো কিছু পাওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের দেশে নাটক বানানোর ক্ষেত্রে অংকটা কমে। দেখা যায় এখন ৮০ কিংবা ৭০ হাজার টাকা দিয়েও নাটক তৈরি হয়। অথচ আগে কিন্তু দুই লক্ষ আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে নাটক তৈরি হত, তখন কিন্তু নাটকের মান ভালোই ছিল।

বিডিলাইভ: এর জন্য দায়ী করবেন কাকে? প্রযোজক নাকি চ্যানেলের মালিক কে?

হিমু: সবাই কে! এটা একটা সার্কেল। যেমন ধরেন আমি যদি এখন বলি প্রযোজক। নাহ, কারণ সে নাটকটা বিক্রি করতে হবে, বিক্রি করবে চ্যানেলের কাছে। চ্যানেল নাটকটা কিনে তা আবার চালাতে হবে। তারাও দেখা যায়, অফিসের ওয়ার্কার থাকে, অন্যান্য থাকে যার জন্য তারা এতটা বাজেট দিতে পারে না। এটা হচ্ছে আসলে একটা পুরো সার্কেল। এই সার্কেলটা উন্নত না হলে সম্ভব না। একজন কে দোষারোপ করে লাভ নেই।



বিডিলাইভ: বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া- সংস্কৃতিমনা পাত্র পেলে বিয়ের পিড়িতে বসবেন বললেন, এমন সিদ্ধান্ত কেন?

হিমু: সংস্কৃতিমনা এমনটা নয়। আমি যাকে বিয়ে করবো সে আমার কাজটাকে পছন্দ করবে। সে সংস্কৃতিমনা হবে কিনা সেটাত আমি জানি না। তবে আমার কাজটাকে সে পছন্দ করবে এমনটাই চাই।

বিডিলাইভ: 'আমার বন্ধু রাশেদ' এর পর চলচ্চিত্রে আর কোনো অফার এসেছে?

হিমু: চিন্তার জগত থেকে বললেন- না। সবাই আমাকে বলে আপু তুমি ছবি করো না কেন? আমি তাদের সরাসরি বলি আমাকে কেউ নেয় না ফিল্মে, আমি কি বলবো। আমি কি বলবো- না ভাইয়া স্ক্রিপ্ট ভালো লাগে নাই, খুব বেচে বেচে কাজ করবো। আমি এত ঝামেলার মধ্যে নাই। আমার কথা হচ্ছে আমাকে কেউ নেয় না, তাই কাজ করা হয়ে উঠে না।

কাজ করার ইচ্ছা আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ইচ্ছা তো অবশ্যই আছে। তবে সুযোগ হলে কাজ করবো।

বিডিলাইভ: কার অভিনয়টা আপনাকে বেশি প্রভাবিত করে?

হিমু: সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে ফেরদৌসী মজুমদার, তারপর হুমায়ন ফরীদি ছিলেন, সুবর্ণা মোস্তফা। এদের অভিনয়টা বেশ ভালোই প্রভাবিত করে।

বিডিলাইভ: নাটকে আইটেম গানে নাচ করলেন, এ নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

হিমু: একটু হাঁসির পর- ওটাকে ঠিক আইটেম গান বলব না। বলা যেতে পারে যাত্রার আইটেম গান। গানটা যখন করি অভিজ্ঞতা নিয়েই করি। কোন এক শীতে রাত ১২ টার পর আমি আমার এক ভাইয়ার সাথে চাদর মুড়ি দিয়ে যাত্রা দেখতে যাই, যাতে চেহারা না দেখা যায়। বাস্তবে যাত্রার নাচ দেখে আমি 'থ' হয়ে গেলাম। পরে ওদের সাথে কথাও বলি। তবে যেটাই করিনা কেন অভিজ্ঞতা নিয়ে করা হয়। গানটা করতে গিয়ে অনেক মজা হয়েছে। অভিনয়ের খাতিরে চরিত্রটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। সবাই বেশ প্রশংসা ও করেছে।

বিডিলাইভ: অবসর সময় কিভাবে কাটে?

হিমু: অবসর সময় আমি বাসায় কাটাতে পছন্দ করি। ওই সময়টায় বাসায় নিজের কাজ করতে অনেক ভালো লাগে। নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিজেই তৈরি করি।

বিডিলাইভ: বিডিলাইভকে সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
হিমু: বিডিলাইভকেও ধন্যবাদ।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ১০০১৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন