সর্বশেষ
বুধবার ৩০শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৪ নভেম্বর ২০১৮

পেশা হিসেবে 'অনলাইন টুরিস্ট গাইড'

বুধবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৬

1562427077_1476872717.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
অনলাইন ট্যুরিস্ট গাইড হতে পারে আপনার জন্য চমৎকার একটি পেশা। যেখানে কাজের পাশাপাশি পাবেন আনন্দ, সম্মান এবং আয়ের ভালো একটি উৎস। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে দেশসেবার বড় একটি সুযোগ। নিজের দেশকে সারা বিশ্বের কাছে বড় করে তোলার, গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থাপন করার এত সহজ পদ্ধতি বোধ হয় আর হয় না। সেই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও অবদান রাখতে পারবেন সরাসরি।

আসুন জেনে নেয়া যাক অনলাইন টুরিস্ট গাইড সম্পর্কে।

আগেই বলে রাখা ভালো, এখানে আপনি গাইড হবেন শুধু বিদেশি টুরিস্টদের। আর এই কারণেই অনলাইন ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে নিজের একটা সিগনেচার তৈরি করে সেটাকে ভেরিফাইড করে তুলতে হবে বিভিন্ন কার্যকারণ দিয়ে। যেন আপনার সিগনেচারের প্রতি আকৃষ্ট হন বিদেশি টুরিস্টরা।

টুরিস্ট গাইড যাকে বলে
ট্যুরিস্ট বা পর্যটক যখন কোথাও বেড়াতে যান, তখন সেখানকার সবকিছুর সঙ্গে তার পরিচয় না থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই তিনি এমন একজন অপারেটর বাছাই করেন, যিনি সহজেই তাকে বেড়ানোর স্থানগুলোতে নিয়ে যেতে, সেগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করতে আর বুঝিয়ে দিতে সক্ষম। এই অপারেটরই হলেন টুরিস্ট গাইড। সাধারণত নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে একেকজন টুরিস্ট গাইড কাজ করে থাকেন।

যোগ্যতার মাপকাঠি
অনেকেই আছেন, বেড়াতে পছন্দ করেন। আর এই মনোভাব থেকেই নিজেকে টুরিস্ট গাইড হিসেবে গড়ে তুলে থাকেন। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, একধাপ এগিয়ে অনলাইন টুরিস্ট গাইড হিসেবে নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলবেন আজ বরং সে ব্যাপারটি জানা যাক।

এ পেশায় নিজেকে জড়াতে চাইলে আপনার মধ্যে যে গুণগুলো থাকা চাই-

পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচার-আচরণে স্মার্টনেস। কথা বলায় স্পষ্টবাদী ও সাবলীল। ইংরেজিতে বিশেষ দক্ষতা। উপস্থাপনায় সুন্দর ভঙ্গি। অনলাইনে জানাশোনা এবং নিজ দেশের দর্শনীয় ও সুন্দর স্থানগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা ইত্যাদি। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণাই আপনাকে এই পেশায় যোগ্যতর হিসেবে উপস্থাপন করবে।

এই ব্যাপারগুলোর কিছু আছে যা আপনাকে নিজের চেষ্টাতেই আয়ত্ত করতে হবে, আর বাকিগুলো শিখে বা জেনে নিতে হবে কোথাও থেকে বা কারও কাছ থেকে। এ পেশায় আসার ব্যাপারে আপনি যখন নিবেদিতপ্রাণ হতে পারবেন, তখনই পা বাড়ানো ভালো।

ধরে নিচ্ছি, আপনি ওপরের যোগ্যতাগুলো অর্জন করেছেন। এবার আপনার জন্য পরবর্তী ধাপ হচ্ছে নিজেকে অনলাইন টুরিস্ট গাইড হিসেবে উপস্থাপন করার উপায় জানা। এজন্য আপনাকে অনলাইনে একটি সিগনেচার তৈরি করতে হবে। এটা খুবই সহজ। অনলাইনের এই স্বর্ণযুগে আপনার হাতের মুঠোয় রয়েছে বিস্তর সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু যেহেতু 'বিস্তর' থেকে নির্দিষ্ট 'প্রয়োজনীয়'টা খুঁজে বের করা ঝামেলা এবং কখনও কখনও অসাধ্য প্রায় হয়ে পড়ে, তাই আমরা আপনাকে নির্দিষ্ট করে দেব কোথায় থেকে শুরু করলে নিজের সিগনেচারকে পরিচিত করে তোলা আপনার পক্ষে সহজ ও সম্ভব হবে।

'লোনলি প্ল্যানেট'
মজার ব্যাপার হলো, টুরিস্টদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে তথ্যবহুল ওয়েবসাইটটির নাম 'লোনলি প্লানেট' যা হোক, আপনি শুরু করুন এখান থেকেই। এই ওয়েবসাইটটিতে লাখ লাখ পর্যটক প্রতিদিন ভিজিট করছেন নির্দিষ্ট তথ্য সম্পর্কে জানার জন্য। আবার কেউ কেউ এই সাইট ভিজিট করছেন বেড়ানোর নতুন কোনো স্থান খুঁজে পাওয়ার জন্য। আপনার কাজ হচ্ছে এই সাইটে যোগ দেয়া এবং যারা বাংলাদেশে বেড়ানো সম্পর্কে জানতে চান তাদের তথ্য দেয়া।

আরেকটা কাজ হলো- যারা নতুন স্থানে বেড়াতে আসতে চান, বাংলাদেশের সুন্দর সুন্দর পর্যটন অঞ্চলগুলোর কথা উল্লেখ করে তাদের আগ্রহী করে তোলা। সম্ভব হলে তাদের বাংলাদেশের সুন্দর সুন্দর টুরিস্ট স্পটগুলোর ছবি দেখান।

বিশ্বায়নের যুগে পিওর বা নিখাঁদ গ্রাম সম্পর্কে আগ্রহ অনেকের। বাংলাদেশে উত্তরবঙ্গ, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলসহ রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর গ্রাম। সেসব গ্রামের কথা বর্ণনা করুন। ছবি দেখান। বলুন, কেউ চাইলেই এই গ্রামের মানুষের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারে, তাদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা করে গ্রাম্য জীবনের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। হ্যাঁ, সত্যিই এটা অনেকে চান। ইট-কাঠ-পাথরের শহরে যারা থাকেন, তারা একটা নির্মল গ্রাম্যজীবনে কয়েকদিন থাকার জন্য উতলা হয়ে পড়েন। সুতরাং এটা তাদের কাছে লোভনীয়।

এভাবে আমাদের দেশের সুন্দর ব্যাপারগুলোও তুলে ধরতে পারেন 'লোনলি প্ল্যানেট' ওয়েবসাইটে। আমাদের দেশের বৃষ্টি, বর্ষা এগুলো যে কোনো দেশের চেয়েও সুন্দর। বর্ষা শুরু হলে গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ টিনের ঘরে বসে শোনার ও দেখার মুহূর্ত অসাধারণ না!

'ফেসবুক'
এই 'লোনলি প্ল্যানেট' অবশ্যই বড় স্থান। তবে এটিই শেষ বা একমাত্র জায়গা নয়, সুযোগ আছে আরও। এ রকমই একটি বড় মাধ্যম ফেসবুক। ফেসবুকে বেড়ানোর তথ্যসমৃদ্ধ অনেক বড় বড় পেজ, গ্রুপ আছে। ওইগুলোতে যোগ দিন। বাংলাদেশের বেড়ানোর জায়গাগুলো নিয়ে ডকুমেন্ট তৈরি করে আপলোড করুন। টুরিস্টদের আগ্রহী করে তোলার জন্য সুন্দর স্থানগুলোর বর্ণনা ও ছবি দিন।

নিজেকে পরিচিত করুন
আপনার ব্যাপারে যত সম্ভব অনলাইনের বিভিন্ন জায়গায় লিখুন। সম্ভব হলে নিজের একটা ওয়েবসাইট তৈরি করুন, সেখানে নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন। বাংলাদেশের প্রতিটি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে লিখুন। গ্রাম্যজীবন সম্পর্কে লিখুন। তারপর বিভিন্ন জায়গায় আপনার ওয়েবসাইটটির কথা ছড়িয়ে দিন। ওয়েবসাইটে অবশ্যই আপনার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম রাখবেন। আর যদি ওয়েবসাইট না থাকে, তাহলে নিজের একটা ইমেইল অ্যাড্রেস দিন সর্বত্র। ঠিকই দেখবেন দু'একজন করে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন অনেক বিদেশি। আর এভাবে যোগাযোগের মাধ্যমেই আপনি তাদের সঙ্গে চুক্তিতে যাবেন।

ভুলেও যা করবেন না
লোনলি প্ল্যানেট বা ফেসবুকে বাংলাদেশ সম্পর্কে লেখার সময় ভুলেও আগে থেকে উল্লেখ করবেন না আপনি টুরিস্ট গাইড বা এ রকম কিছু। আপনি জাস্ট ইনফরমেশন দেবেন। কেউ কিছু জানতে চাইলে উত্তর দেবেন বা পরে জেনে জানাবেন বলবেন, এর বেশি নয়। হ্যাঁ, কেউ যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করে বাংলাদেশে এলে তাকে গাইড করতে পারবেন কি-না, তখন অবশ্যই টুরিস্ট গাইড হিসেবে নিজের পরিচয় দেবেন।

অর্থ লেনদেন বা পারিশ্রমিক
একটা কথা মনে রাখবেন, বিদেশিরা আমাদের অতিথি। আর দ্বিতীয় কথা হলো, ওরা যদি একবার এসে উপভোগ করেন, তাহলে বারবার আসবেন। বন্ধু-বান্ধব-পরিজন নিয়ে আসবেন। নানাজনকে রেফার করবেন আপনার কাছে। অনলাইনে আপনার সম্পর্কে লিখবেন। সুতরাং তাদের সঙ্গে পারিশ্রমিক নিয়ে তর্কে না যাওয়াই ভালো। তারপরও 'লোনলি প্ল্যানেট' থেকে দেখে নিতে পারেন টুরিস্টদের পারিশ্রমিকের ব্যাপারটা। শুধু একটা ব্যাপার জানুন, টুরিস্ট সর্বনিম্ন আপনাকে যেটা অফার করবে, সেটাও আপনার কল্পনার চেয়ে অনেক অনেক বেশি হয়ে উঠতে পারে!

তাহলে শুরু করে দিন আজকে থেকেই। প্রথমেই নিজেকে গড়ে তুলুন। তারপর নিজেকে উপস্থাপন করুন এবং সর্বশেষ ক্লায়েন্টের সঙ্গে ডিল করুন। মনে রাখবেন, এই ক্যারিয়ারে আপনি ফুলটাইম কিংবা ফ্রিল্যান্স দু'ভাবেই কাজ করতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে দেশের ভাবমূর্তির কথাই আপনাকে সবার আগে ভাবতে হবে। আপনার দায়িত্ব দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করা।

ঢাকা, বুধবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // এই লেখাটি ১০১৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন