সর্বশেষ
রবিবার ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৮ নভেম্বর ২০১৮

তিন্দুর বড় পাথর; স্বর্গীয় সৌন্দর্যে হৃদয় জুড়িয়ে যাবে

বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৬

2054724100_1480515760.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
সবুজ শ্যামল এই বাংলাদেশের বেশিরভাগ সৌন্দর্য মণ্ডিত স্থান রয়েছে তিন পার্বত্য জেলায়। তার মধ্যে বান্দরবান যেন ভ্রমনপিপাসুদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। অপরূপ সৌন্দর্যের এ জেলায় দর্শনীয় স্থানের শেষ নেই। তবে সেসবের মধ্যে যে স্থানটি আপনার হৃদয়ে দাগ কেটে নেবে সেটি হলো তিন্দুর বড় পাথর।

ঝর্ণার পানিতে বয়ে চলা নদীর মধ্যেই বিশাল বিশাল পাথর যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার মধ্য দিয়ে নৌকায় করে যাওয়ার সময় যে অনুভূতি জাগে তা ভোলার নয়।

দেশের মধ্যে এত অপরূপ দৃশ্য রয়েছে তা হয়তো অনেকেই জানেনা। আবার অনেকে দেশের পর্যটন কেন্দ্রের প্রতি আগ্রহের চেয়ে বিদেশে যেতে বেশী পছন্দ করেন। তাদেরকে এখানে একবার ঘুরে আসার আহ্বান করা যেতেই পারে।

দেশের আনাচে কানাচে এরকম অসংখ্য সৌন্দর্য রয়েছে। আর দিন দিন সেগুলোকে মানুষের নজরে আনছেন তরুন সমাজ।

আসুন দেখে নেই বড় পাথরের খুটিনাটি....

কিভাবে যাওয়া যায়:
ঢাকা – বান্দারবান যাওয়ার ইউনিক, এস আলম, ডলফিন এর বাস আছে। রাত ১১:৩০ টায় কলাবাগান থেকে ছেড়ে যায়। ভাড়া ৩০০-৩৫০ টাকা। এখান থেকে চান্দের গাড়ী নিয়ে সোজা থানচি। আপনি চান্দের গাড়ী রিজার্ভ করে নিতে পারেন। খরচ পড়বে ৩০০০ টাকার মত।

তবে লোকাল চান্দের গাড়ীতে গেলে ভাড়া পড়বে ১০০-১৫০ টাকা করে। মাঝে বলিপাড়ায় কিছুক্ষন যাত্রা বিরতি। সকালে রওনা দিলে দুপুরের মধ্যে থানচি পৌছে যাবেন।

সবার আগের কাজ BDR কে আপনার বিস্তারিত পরিচয় দিয়ে তাদের পারমিশন নেয়া। বাজারেই খাওয়া দাওয়া করে নিতে পারেন। খরচ খুব বেশী পড়বে না। এখন নৌকা আর মাঝি ঠিক করতে হবে। এখানে আলাদা কোন গাইড নাই। মাঝিরাই গাইডের কাজ করবে। খরচ ডিপেন্ড করবে আপনি কয়দিনের জন্য নৌকা রিজার্ভ করবেন। প্রতিদিনের জন্য প্রায় ৮০০-৯০০টাকা পড়বে।

বান্দারবান-থানচি থেকে তিন্দু (এখানে রাতে থাকতে পারেন সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বারের বাসায়, আর যদি আপনার তাবু থাকে তাইলে অনায়াসেই থাকতে পারেন। খাওয়া দাওয়ার চিন্তা নাই। প্রতিজনের থাকা খাওয়ার খরচ প্রতিদিন ২০০টাকা করে পড়বে )

Related image

দ্বিতীয় দিন তিন্দু থেকে রেমাক্রি হয়ে ছোট মওদক- বড় মওদক (রেমাক্রি রাতে থাকতে পারেন উপজাতিদের বাসায়, তাবু থাকলে তাতেও থাকতে পারেন)।

বান্দরবানের থানচি ইউনিয়নের মধ্যে পরে তিন্দু, রেমাক্রি। পাথুরে নদীর পাশ ঘেষে গেছে এই জায়গাগুলি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি এবং বাংলাদেশের জলসীমায় সমাপ্ত যে দুটি নদী রয়েছে সাঙ্গু তার মধ্যে একটি।

এখানে সাঙ্গু নদীর তলদেশে পাথর আর পাথর। যেন পাথরের রাজ্য। ছোট আর মাঝারি পাথরের ওপর শ্যাওলার আধিপত্য। এ নদীরই উজানের দিকে একটি এলাকার নাম তিন্দু। তিন্দু মাতৃতান্ত্রিক মারমা ও মুরংদের আবাসস্থল।

এখানে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার উপজাতি বসবাস করে। তিন্দু থেকে বড় পাথর ঘণ্টাখানেকের পথ। ভয়ংকর খরস্রোতা বাঁক আর সৃষ্টির রহস্যের বড় পাথর, এখানে প্রতিবছর অনেক লোক মারা যায় তাই এই অঞ্চলের অধিবাসীরা এইসব রাজা পাথরের পুজা করে।
Related image

অবস্থান:
থানছি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের সাঙ্গু নদীতে রাজা পাথরের অবস্থান। সাঙ্গু নদী দিয়ে রেমাক্রি ইউনিয়নে যাওয়ার মাঝপথে বিশাল আকৃতির বড় বড় পাথরের মিলনক্ষেত্র চোখে পড়বে। এ পাথরের ফাঁক দিয়ে নৌকা নিয়ে পাড়ি দিতে হয়।

এছাড়া থানচি থেকে রেমাক্রি খাল বেয়ে উপরের দিকে ট্রলার বেয়ে উঠতে উঠতে ঠিক ২ ঘণ্টা পর তিন্দু পেরিয়ে একটু সামনে গেলেই পেয়ে যাবেন অদ্ভুত সে বড় পাথর এলাকা। এখানে পৌঁছানাের পর শুধু মনে হবে আপনি রয়েছেন স্বপ্নের ভেতর, ঘোরলাগা যে স্বপ্নের দৃশ্য চোখ থেকে কোনোদিন মুছবে না।


ঢাকা, বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ৬৮৭৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন