সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যৌতুকের দাবির কারণে বিয়ে ভেঙে দেন যে সাহসী নারী!

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৬

1712336176_1481175248.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বাংলাদেশে বিয়েতে যৌতুক দাবি করার বিষয়টি আইনে নিষিদ্ধ হলেও, অনেকটা গোপনেই যৌতুকের লেনদেন হয়। কনেপক্ষও বেশিরভাগ সময় মেয়ের সুখ-শান্তি ও কল্যাণের কথা চিন্তা করে যৌতুক প্রদান করেন। কিন্তু সেখানেই একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন বরগুনার মেয়ে ফারজানা ইয়াসমিন।

২০১১ সালে ফারজানার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের আসরে বরপক্ষ যৌতুক দাবি করে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে যৌতুকলোভী বরকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি এবং নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দেন।

পড়াশোনা শেষ করে এখন তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছেন। বিয়েও করেছেন। বিবিসির বিশেষ অনুষ্ঠানমালা 'শত নারী'তে ফারজানা বলেছেন তার প্রতিবাদের কথা, বলেছেন কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন।

"সবাই জানে যে যৌতুকের দাবিটা পুরনো বিষয়। আমার কিন্তু বিয়ে হয়ে গিয়েছিল, যখন তুলে দেবে তখন তারা এমন দাবী করে। তখন মনে হচ্ছিলো যে আমি একটা মাস্টার্স পাশ মেয়ে, একটা চাকরিও করছিলাম-কেন মেনে নেব?।

"তাছাড়া ওই মুহুর্তে ওদের যে ব্যবহার ছিল যে যৌতুক না দিলে পাঁচ বছরেও মেয়েকে ঘরে তুলে নেবে না। এতটা অপমানিত হয়েছিলাম আমি, তখনই বিয়ে ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমি স্যাক্রিফাইস করার মানসিকতা রাখি, নতুন জায়গায়ে গেলে পরিবারে মানিয়ে নেয়ারও বিষয় আছে ভালো থাকার জন্য।"

"কিন্তু ওদের কথায় এমন অপমানবোধ এসেছিল যা আমার জীবনেও হয়নি- এটাই আমাকে সাহস জুগিয়েছিল। নিজের অজান্তেই সাহস পেয়েছিলাম বলে জানান ফারজানা ইয়াসমিন।

কয়েকজন মুরুব্বি এটা বলেছিলেন এ বিয়ে ভেঙে গেলেতো আবার বিয়ে দিতে হবে। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এটা মেনে নিতে। কিন্তু আমার বাবা একটাই কথা বলেছিল মেয়ে যা করছে সেটাই ঠিক তাই সেটা সমর্থন করতে হবে। বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেবার পর পরিবারের অনেকে সমর্থন পেয়েছিলেন ফারজানা।

সেই সিদ্ধান্ত সামনে পথ চলতে অনেকটা সাহস ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে ফারজানার জীবনে। তিনি নতুন করে জীবন শুরু করেছেন। একটা ভালো চাকরিও করছেন, সংসারও করছেন।


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ১৩৩৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন