সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৩রা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিয়ের আগে যেসব বিষয়ে দু'জনকেই জানতে হবে

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬

356823772_1482828002.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
'জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে- এ তিনই বিধাতার হাতে' আমাদের সমাজে প্রচলিত এই প্রবাদটি সবারই জানা। বিয়েতে অনেকে পরিবারের বড়দের মতামতকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। বিয়ের মাধ্যমে একজন পুরুষ এবং একজন নারী সব থেকে বেশি নিকটে আসে। এছাড়াও দীর্ঘপথ একসাথে চলার প্রত্যয় নেয়। তাই বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্ক গড়ে তুলতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে মানুষ কতো রকমের আয়োজন করে।

দুজনের সুখের জীবনের জন্য হিসাব-নিকাশ এবং পরিকল্পনা করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা এমনই বিশেষ ৫ ধরনের বিষয় তুলে ধরেছেন। গাঁটছড়া বাঁধার আগে বেশ কিছু বিষয় সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া ভালো।

পারিবারিক ও জেনিটিক অবস্থা :
বিয়ের আগে একে অপরের পরিবার নিয়ে আলোচনা করা ভালো। হবু বর-কনের পরিবার এবং তার স্বাস্থ্য সচেতনেতা সম্পর্কে আলোচনা। কারো পরিবারে বিশেষ কোনো বংশগত রোগ বা কোনো সদস্যের বিশেষ সমস্যা থাকলে সে সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া ভালো। সার্জারি, ক্রনিক সমস্যা বা জেনেটিক অবস্থাসহ অন্যান্য বড় স্বাস্থ্যগত তথ্য জানাটা জরুরি।

বিয়ের আগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাউন্সেলিং করার পেশাদার মানুষ রয়েছেন। তারা বিয়ের আগে বর ও কনের জেনেটিক ব্লাড ডিসঅর্ডার পরীক্ষা করতে বলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়া সাধারণ সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। এ সমস্যায় দেহে অল্প পরিমাণ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়। হিমোগ্লোবিমানের মাত্রা কম থাকে। আর এ সমস্যা স্বামী-স্ত্রীর থাকলে শিশুও একই সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়। তাই এ ধরনের বিভিন্ন বিষয়ে জেনে নিতে হবে।

অর্থনৈতিক অবস্থা :
অনেকে অনেক রকমের কথা বললেও বাস্তব জীবনে অর্থের গুরুত্বকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
আমাদের সমাজে বরের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। আসলে উভয়ের উভয় পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। অর্থ বিষয়ক জটিলতার কারণে বিবাহিত জীবন বিপর্যস্ত হতে পারে। আয় সম্পর্কে ধারণা, ভবিষ্যতের চিন্তা, ঋণের পরিমাণ ইত্যাদি সম্পর্ক মৌলিক ধারণা থাকতে হবে।

আইনি জটিলতা :
প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব ঝামেলা থাকতে পারে। বিশেষ করে আইনি জটিলতা থাকলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে। যদি থাকে তবে তা কি ধরনের এবং একে সামলাতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা দরকার। বিশেষ করে কারো পরিবারের বিরুদ্ধে অপরাধ বিষয়ক অভিযোগ রয়েছে কিনা তা জানা জরুরি। এখানে স্বচ্ছতা দরকার। নয়তো ভবিষ্যতে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস :
একটা সময় ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে মানুষের মাঝে অনেক রক্ষণশীলতা ছিল। এখনো আছে। তবে অনেক কমে এসেছে। তবুও যার যার বিশ্বাস অনুযায়ী কিছু জানার থাকলে জেনে নিতে হবে। প্রত্যেক মানুষই ধর্ম ও সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত। বিয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে। এমনকি দুজনের ধর্ম-সংস্কৃতি এক হলেও ভিন্ন চিন্তা-ধারার অধিকারী হতে পারেন দুজনই। এ বিষয়ে খোলা-মেলা আলাপ করে নিতে হবে।

আচরণগত বৈশিষ্ট্য :
পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আমাদের চিন্তা-চেতনা ও আচরণ কেমন? এ বিষয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর নির্ভর করবে আপনি সমাজের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হবেন। বিয়ের আগে বর-কনের আচরণগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া দরকার। বিয়ে, সংবার, সন্তান এসব নিয়ে দুজনের আচার-আরচণ কি হবে তা জানাটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সন্তান ও অন্যান্য :
ধর্মীয় বিধি-নিষেধ ও সংস্কৃতির কারণে অনেকে হয়তো সন্তান ও নিজেদের চাহিদার বিষয়ে কথা বলতে পারেন না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে কথা বলাটা প্রয়োজন। বিয়ের পর এটা বাস্তব বিষয়। কাজেই এড়িয়ে গিয়ে লাভ নেই। সন্তান নেয়ার বিষয়ে দুজনের কি কি ইচ্ছা ও পরিকল্পনা রয়েছে তা নিয়ে কথা বলতে হবে। আর যৌনতা সব মানুষের জীবনেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের একটি। তাই বিধি-নিষেধ টপকে না গিয়ে যতটা সম্ভব এ বিষয়ে আলাপ করা ভালো।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ২২৮৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন