সর্বশেষ
শুক্রবার ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৬ নভেম্বর ২০১৮

পুরুষদের অল্প বয়সে মৃত্যুর ৫ কারণ

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৭

1321186701_1485902409.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর নতুন এক গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে পুরুষদের গড় আয়ু নারীদের তুলনায় ৫ বছর কম।

পুরুষদের গড় আয়ু কমে যাওয়ার কারণগুলোও গবেষণার রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। সিডিসি’র রিপোর্ট অনুযায়ী অল্প বয়সে পুরুষদের মৃত্যুর পেছনে ৫টি কারণকে দায়ী করা হয়েছে।

১. ধূমপান : পুরুষরা নারীদের চেয়ে ধূমপান বেশি করে। সিডিসির রিপোর্ট অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ শতাংশ পুরুষ ধূমপান করে আর নারীদের মধ্যে এর হার ১৫ শতাংশ। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী পুরুষদের ৪০ শতাংশ ধূমপায়ী হলেও বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ ধূমপায়ী।

এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. জেসিকা কুক বলেন, ‘ধূমপান একজন মানুষের আয়ু ১৫ বছর পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।’ সুতরাং এখনই ধূমপানকে না বলুন।

২. মদ্যপান :নারীদের চেয়ে পুরুষদের মদ্যপানের হার দ্বিগুণ। সিডিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরুষেরা প্রতি ২ ঘণ্টায় ৫ বা ততোধিকবার মদ্যপান করে থাকেন। তা ছাড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে মাতাল অবস্থায় ড্রাইভিংয়ের হারও নারীদের চেয়ে দ্বিগুণ, তাই মদ্যপান সংক্রান্ত মৃত্যুর হারও তাদের বেশি।

মদ্যপানে মুখ, গলা, লিভার, এবং কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই পুরোপুরি মদ্যপান ছেড়ে দেওয়াটাই সবচেয়ে মঙ্গলজনক। তবে পুরোপুরি ছাড়তে না পারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যতালিকাগত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিদিন ১২ আউন্সের বেশি বিয়ার খাওয়া উচিত নয়।

৩. ডাক্তার না দেখানো : পুরুষদের একটি চরম বাজে অভ্যাস হলো ডাক্তার এর অফিসকে এড়িয়ে চলা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথের একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি ৪ জনে ১ জন পুরুষ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসকের কাছে যান না। আর এর পেছনে অজুহাত হিসেবে পুরুষেরা ব্যস্ততা, পরীক্ষা, খারাপ লাগছে এবং ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ফলে খারাপ কোনো কিছু ধরা পড়ার ভয়- এগুলোকেই তুলে ধরেন।

কিন্তু ডাক্তারকে এড়িয়ে চলা একটি বড় সমস্যা। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো অবস্থাগুলো তাড়াতাড়ি ধরা পড়লে, তা ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো আরো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। এ ছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এটাও নিশ্চিত করে যে, আপনি নিরাপদ আছেন। সুতরাং, নিয়মিত ডাক্তার দেখান। সময় না থাকার অজুহাত আর নয়।

৪. বিনোদনের উপায় খুঁজে বের করুন : অনেকের জীবনে স্ট্রেসের মাত্রা বেড়েই চলেছে। আমেরিকান মনস্তাত্ত্বিক অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএ) এক পরিসংখ্যানে অংশ নেওয়া পুরুষদের এক-তৃতীয়াংশ জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় তারা আরো বেশি অবসাদগ্রস্থতায় ভুগেছেন।

বেশি স্ট্রেস শরীরে অধিক পরিমাণে অ্যাডরেনেলাইন ও করটিজল এর মতো হরমোন নিঃসরণ করে, যা রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বাড়িয়ে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট অ্যাটাক এবং রাস্তায় স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলে।

তাই আপনি যদি দীর্ঘায়ু লাভ করতে চান তাহলে স্ট্রেসের বিরুদ্ধে এখনই যুদ্ধ ঘোষণা করুন। খুঁজে বের করুন আপনার জন্য উপযুক্ত বিনোদনের মাধ্যমটি।

৫. মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন : সিডিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ আত্মহত্যা সংঘটিত হয় পুরুষদের মাধ্যমে। তার মানে বিশ্বব্যাপী যত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে তার ৮০ শতাংশই করে পুরুষেরা। পুরুষদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যার অবস্থান সপ্তম।

এর পেছনে একটি সম্ভাব্য অন্তর্নিহিত ফ্যাক্টর হলো পুরুষরা বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে কথা বলাটা এড়িয়ে চলেন। আর এ দুটি বিষয়ই পুরুষদের আত্মঘাতী হওয়ার ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।

তাই যদি আপনি বিষণ্নতা উপসর্গের সম্মুখীন হন দ্রুত আপনার ডাক্তারের অ্যাপয়েনমেন্ট নিন। তাহলে তিনি হয়তো ওষুধ বা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আপনার চিকিৎসার সুপারিশ করতে সক্ষম হবেন।

তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ

 

ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ৬০৩০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন