সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৫ নভেম্বর ২০১৮

৫ দিনে সেই নারীর ওজন কমল ৩০ কেজি

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৭

445189411_1487414042.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
ভারতে চিকিৎসা করাতে আসা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ওজনের নারী মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার ইমান আহমেদ আব্দুলাটির শরীরে অবস্থা উন্নতির দিকে। সইফি হাসপাতালে ডা. মুফাজ্জল লাকদাওয়ালার অধীনে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। পাঁচ দিনে তার শরীরের ওজন ৩০ কেজি কমেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তিনি নড়াচড়াও করতে পারছেন। খবর: হিন্দুস্থান টাইমস

অতিরিক্ত ওজনের কারণে ইমান আহমেদ আব্দুলাটি নানা অসুখে ভুগছেন। ৫০০ কেজি ওজনের এই নারী হাঁটাচলা তো দূরের কথা, নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না। ৩৬ বছর বয়সী এই নারীর অবস্থা যখন আশঙ্কাজনক তখন তিনি ভারতের মুম্বাইয়ে অস্ত্রোপচার করাতে আসেন।

গত শনিবার ভোর ৪টার দিকে মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন ইমান। গত ২৫ বছর তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। এক মাস ভারতের সইফি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলবে। তারপর অস্ত্রোপচার হবে। তিন মাস ধরে ডা. মুফাজ্জল লাকদাওয়ালা ও তার টিমের তত্ত্বাবোধানে রয়েছেন ইমান। তারাই ইমানকে মিসর থেকে মুম্বাই আনার সমস্ত ব্যবস্থা করেন।

গত ১৩ বছর ধরে তিনি বিছানায়। নড়াচড়া করার ক্ষমতাটুকুও নেই। ইমানকে প্রথমে আনা হয় একটি বিশেষ মালবাহী বিমানে। বিমান থেকে ক্রেনে করে নামিয়ে তোলা হয় এক বিশেষ ট্রাকে। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বাই এর চার্নি রোডের সাইফি হাসপাতালে।

হাসপাতালের দোতলায় ইমানের জন্য তৈরি বিশেষ খাটে শোয়ানোও হয় ক্রেনে করে। মুম্বাইয়ের হাসপাতাল পর্যন্ত আনতেই খরচ হয় প্রায় ৮০ লাখ টাকা, জানান ড. লাকড়াওয়ালা।

তিনি জানান, ৩৫ বছর বয়সি ইমানের চিকিৎসার জন্য মাসখানেক ধরে চলবে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা। করা হবে নানা ধরণের টেস্ট। দেখা হবে লেপটিনের মতো জেনেটিক ত্রুটি আছে কিনা। ইমানের  জেনেটিক টেস্টের রিপোর্ট দেখে পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হবে। দেহের জলীয় পদার্থ নিষ্কাশনেও সময় লাগবে চার সপ্তাহের মতো। চিকিৎসা সূচির মধ্যে আছে দুটো অপারেশন, ডায়েট প্ল্যান, ফিজিওথেরাপি ইত্যাদি।

জন্মের সময় ইমানের ওজন ছিল ৫ কেজি। খাওয়া-দাওয়া, জামা-কাপড় বদলানসহ সব কাজের জন্যই ইমানকে তার মা ও বোনের ওপর নির্ভর করতে হয়।

চিকিৎসকরা বলেন, এলিফ্যান্টিয়াসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই শরীর ফুলতে শুরু করে তার। ১১ বছর বয়স থেকেই বেশি ওজনের কারণে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না। বাড়িতে হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করতে হত। এরপর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন ইমান। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // ই নি এই লেখাটি ২১৫৭৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন