সর্বশেষ
বুধবার ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইচ্ছা ছিলো, সাত লাখ টাকা অায় করবো: নিরব

সোমবার, এপ্রিল ১০, ২০১৭

1716388888_1491841972.jpg
কাহহার সামি :
বাংলাদেশের অভিনেতাদের মধ্যে বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয় অভিনেতা নিরব। মডেলিং থেকে উঠে এসেছেন অভিনয়ের জগতে। অনেক কষ্ট করেই তার অাজকের অবস্থান। সামনে বহু পথ পাড়ি দিতে চান তিনি। দেখতে চান সেরা হিসেবে। এসব বিষয় বর্তমান ব্যস্ততা সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিডিলাইভের সাথে একান্তে কথা বলেছেন তিনি।

গেলো চলচ্চিত্র দিবসে এফডিসিতে বসে জানিয়েছেন অনেক কিছু। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাহহার সামি।

কেমন আছেন?
নিরব: আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছি।

বিশেষ দিবসে (চলচ্চিত্র দিবস) বিশেষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত তার কারণ কি?
নিরব: না অনেকে আসছে, হয়ত আপনাদের নজরে আসেনাই। আসলে অনেক গরম আজ, তাই অনেকে আসছে আবার গেছে।

র‍্যালিতে চেনা জানা আর্টিস্টদের উপস্থিতি প্রশ্নবোধক?
নিরব: না এটা আসলে আমাদের কারো কাম্য ছিলনা, যেহেতু এটা বিএফডিসির সারাদিন ধরে একটি উৎসব, সেহেতু সবার উপস্থিতি থাকা খুব দরকার ছিল বলে আমি মনে করি।

বর্তমানে আপনি কি কি মুভিতে কাজ করছেন?
নিরব: বর্তমানে রফিক সিকদারের একটি ছবি করছি 'ভুলা তো যায়না তারে' আমি আর তানহা তাস্নিয়া। 'হৃদয় জুড়ে' নামের একটি সিনেমায় টালিগঞ্জের নায়িকা প্রিয়াঙ্কা সরকারের সাথে কাজ করছি, ইতিমধ্যে কাজ করেছি সাইফ চন্দনের 'টার্গেট', রয়েল খানের 'গেম রিটার্ন' এছাড়া আরো অনেক ছবি রেডি হয়ে আছে যা এখন মনে পড়ছেনা।

শুরুটা হয়েছিল মডেলিংয়ের মাধ্যমে। সুযোগটা এল কিভাবে?
নিরব: আমার মডেলিংয়ে আসার পিছনে বড় ভূমিকা ছোটবেলার বন্ধু ডেভিডের। ২০০৩ সালের কথা। সবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। হঠাৎ একদিন ডেভিড তার ফটোসেশনে তোলা ছবি আমাকে দেখায়। তখনই আমার মাথায় ভূত চেপে বসে, আমিও ওর মতো ফটোসেশন করবো। কিন্তু ফটোসেশনের জন্য চাই সাড়ে চার হাজার টাকা। আমার কাছে এত টাকা ছিল না। বড় ভাইয়া, আপুদের কাছে ব্যাপারটি খুলে বললাম। ওরা আমাকে টাকা দিল। সে টাকা নিয়ে ফটোগ্রাফার তানভির হোসেনের কাছে নিজের ফটোশেসন করাই। তার মাধ্যমেই একটি ফ্যাশন হাউজের মডেল হওয়ার সুযোগ মেলে, সেটি ছিল স্টিল ফটোশুট। সেই ফটোশুটে আমার বিপরীতে ছিল অভিনেত্রী তিশা।

আপনার র‍্যাম্প মডেলিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
নিরব: ২০০৪ সালে আমার র‍্যাম্পে হাঁটা শুরু হয়। র‍্যাম্পের সুযোগ মিলেছিল বন্ধু ডেভিডের মাধ্যমে। এক মন্ত্রীর আয়োজিত ফ্যাশন শোতে প্রথম র‍্যাম্পে হাঁটি। এরপর দশটির মতো ফ্যাশন শোতে র‍্যাম্প মডেল হিসেবে কাজ করেছি। সেগুলোর মধ্যে বাটেক্সপো শো ছিলো অন্যতম। আমি 'ইউ গট দ্য লুক' প্রতিযোগিতার শীর্ষ পাঁচে ছিলাম।

সিনেমাতে অভিষেক হল কিভাবে?
নিরব: একটি মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সিরিজ বিজ্ঞাপনের পর আমার কাছে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। ২০০৯ সালে শাহীন সুমনের পরিচালনায় 'মন যেখানে হৃদয় সেখানে' সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে অভিষেক হল।

অভিনেতা হিসেবে কাউকে রোল মডেল মনে করেন?
নিরব: সালমান শাহ। স্কুলবেলায় এই অভিনেতার পাগল ভক্তদের মধ্যে আমি একজন ছিলাম। আমি জানতে পেরেছিলাম, সালমান শাহ পারিশ্রমিক হিসেবে সাত লাখ টাকা পেতেন। আমারও ইচ্ছা হল, সিনেমাতে অভিনয় করে সাত লাখ টাকা কামাবো। একেবারেই ছেলেমানুষি চিন্তা। আমি তার সিনেমা হলে গিয়ে দেখতে কত কাণ্ড ঘটিয়েছি। মূলত তার অভিনয় দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি চলচ্চিত্রে একদিন জায়গা করে নেব।

মুভি ব্যবসা সফল করতে না পারার জন্য অনেকে পাইরেসি আর সিনেমা হল কে দায়ী করেন? আপনার ক্ষেত্রেও কি তাই?
নিরব: না মুভির ব্যবসা সফল না হবার জন্য শুধু এই কারণ দুটি হতে পারেনা, তবে আমার কাছে মনে হয় আমরা দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী ছবি করতে পারছিনা, দর্শক এখন ইউটিউব এ যে ধরনের ছবি দেখে অভ্যস্ত টা আমরা করতে পারছিনা। বিশেষ করে আমাদের বাজেট কম, পাইরেসির ব্যাপার তো আছেই এছাড়া সিনেমা হল গুলো আসলে দর্শক উপযোগী নয়, তাছাড়া আনুসাঙ্গিক আরো অনেক কারণ আছে যে কেন আমরা অন্যান্য দেশের মত আমাদের ছবির সফলতার মুখ দেখতে পারিনা।
 
বাংলাদেশি মুভিতে ভিলেন সংকট। নায়কের বিপরীতে অভিনয় ফুটিয়ে তুলার মত তেমন ভিলেন নাই, তাহলে দর্শক কি খালি নায়কের পার্ট দেখার জন্য হলে আসবে?
নিরব: আসলে ঠিকই বলেছেন আগে প্রিয় মুখ থেকে মান্না ভাই, মিশা ভাই উনারা এসেছিলেন কিন্তু এখন সবাই নায়ক হতে আসে, ভিলেন হতে কেউ আসেনা। সত্যিকার অর্থে প্রত্যেকটা চরিত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ, এক মিশা ভাই'ত আর একসাথে আটশ ছবিতে কাজ করতে পারবেনা তাই আসলে বিষয়টাতে আর মনযোগী হতে হবে সবাইকে।

লেখক তার স্ক্রিপ্ট লেখার সময় বিভিন্ন চরিত্রের জন্য বিভিন্ন আর্টিস্টকে চিন্তা করে তার লেখা সম্পন্ন করে । কিন্তু সে সব কাল্পনিক আর্টিস্ট আসলে কি ঐ মুভিতে কাজ করার সুযোগ পায়?
নিরব: না আসলে এটা একটা বড় সমস্যা আমাদের দেশে। প্রযোজকরা নিজের স্বজনদের নিয়ে ছবি বানাতে আসেন, আর যখন যাকে ইচ্ছা তাকে দিয়ে যেকোনো মুভিতে কাজ করান। এটা একটা বড় সমস্যা আমাদের দেশে, ছবি ব্যবসা সফল না হবার জন্য।

যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মতামত যদি বলতেন?
নিরব: যৌথ প্রযোজনার ছবি আসলে করা যাই যদি তাতে সমবণ্টনের বিষয়টি ঠিক থাকে। এছাড়া সরকারি কিছু নিয়ম কানুন আছে। যদি এসব মেনে কাজ করা হয় তাহলে ঠিক আছে।
 
আমাদের দেশের সম্পদ 'শাকিব খান' যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করছেন, তিনি কি সে সব সরকারি নিয়ম কানুন মেনে কাজ গুলো করছেন?
নিরব: আসলে এই বিষয় নিয়ে আমার কোন ধারনা নাই, আর সরকারি নিয়ম সমুহ ও আমার জানা নাই। তাই আমি এই বিষয় নিয়ে কিছু বলতে পারছিনা।
 
সিনেমা হল গুলোতে দর্শক শূন্য থেকে দর্শক পূর্ণ করতে কি কি পরিকল্পনা নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?
নিরব: ঐ’যে আগে বলেছি, সিনেমা হল গুলোর পরিবর্তন, বাজেট বৃদ্ধি, কাহিনির উন্নতিকরন, কাহিনি বুঝে সঠিক চরিত্রের জন্য সঠিক মানুষ নির্ধারন, এছাড়া পাইরেসি বন্ধে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখা উচিত বলে আমি মনে করি।

ভবিষ্যতে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?
নিরব: অভিনেতা হিসেবে আমি নিজেকে ভালো অবস্থানে দেখতে চাই। ভালো সিনেমাতে অভিনয় করতে চাই। হলবিমুখ মধ্যবিত্ত দর্শককে আবার হলে ফিরিয়ে আনতে চাই। অভিনেতা হিসেবে নিরব কতটা সফল, তা দর্শকই বলবে।

ধন্যবাদ আপনাকে।
নিরবঃ ধন্যবাদ আপনাকে ও আপনার পোর্টাল কে।


ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ১০, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ১২৩৪০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন