সর্বশেষ
রবিবার ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যেসব অভ্যাসে মস্তিষ্কের ক্ষতি

শুক্রবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৭

76752995_1492151830.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসই আপনার মস্তিষ্কের ব্যাপক ক্ষতি করছে। হয়তো সেই ব্যাপারে আপনি জানেনই না। এতটুকু জানেন এটা আমার অভ্যাস তাই আমাকে করতেই হবে। কিন্তু সেটি যদি হয় বড় ধরণের ক্ষতির কারণ তাহলে আজই ঝেড়ে ফেলুন সেইসব অভ্যাস।

সতেজ ও সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য আমাদের প্রতিদিন কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। এগুলো না হলে মস্তিষ্কের বড় ক্ষতি হতে পারে-

১. হেডফোনে উচ্চ শব্দে গান
হেডফোনে ফুল ভলিউমে গান মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে একজনের শ্রবণশক্তি লোপ ঘটাতে পারে। বয়স্কদের মধ্যে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়ার সাথে মস্তিষ্কের রোগ আলজেইমার ও ব্রেইন টিস্যু নষ্ট হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এর একটা কারণ হতে পারে, আশপাশের ঘটনাগুলো বোঝার জন্য এ ধরনের সমস্যায় ভোগা লোকজনের মস্তিষ্ককে অধিক পরিশ্রম করতে হয়। তাই ডিভাইসের ভলিউম ৬০% এর বেশি বা একটানা দুই ঘণ্টার বেশি গান শোনা এড়িয়ে চলুন।

২. নিঃসঙ্গতা
প্রাকৃতিকভাবেই মানুষ সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে চায়। ফেসবুকে বন্ধু সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। কাছের বন্ধুর সংখ্যা অল্প হলেও এ ধরনের মানুষ অনেক বেশি হাসিখুশি ও কর্মদক্ষ হয়। সেই সাথে আলজেইমারের সম্ভাবনাও কম থাকে তাদের। ঘরে নিজেকে একা মনে হলে বন্ধুদের ডেকে এনে শুরু করতে পারেন যে কোন আয়োজন।

৩. সকালের নাশতা না খাওয়া
যারা সকালবেলার নাশতা খান না, তাদের রক্তের শর্করা কমে যায়। এতে মস্তিষ্কে পুষ্টি কম পৌঁছায় এবং মস্তিষ্ক শক্তি পায় না।

৪. প্রয়োজনের চেয়ে কম ঘুম
কিছু বদ-অভ্যাস রয়েছে যা আমরা কম-বেশি প্রায় সবাই করে থাকি। কিন্তু কিছু বদ-অভ্যাস রয়েছে যা মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। এরকম একটি হলো প্রয়োজনের চেয়ে কম ঘুমানো। এটি ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) ও আলজেইমারস রোগের কারণ হতে পারে। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়েই ঘুমাতে যাওয়া উচিত। ঘুমে সমস্যা হলে অ্যালকোহল, ক্যাফেইন ও সন্ধ্যার পর ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।

৫. শরীরচর্চা না করা
নিয়মিত শরীরচর্চা না করলে ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। শুধু মস্তিষ্কের রোগই নয় এর ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। আর এর সবগুলোই আলজেইমারের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এর থেকে মুক্তি পেতে ম্যারাথনের মত দৌড়ের প্রয়োজন নেই। পার্কে বা বাসার আশপাশে আধ ঘণ্টার হাঁটাই এর জন্য যথেষ্ট। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৬. ধূমপান ছাড়তে না পারা
ধূমপান মস্তিষ্কের আয়তন ছোট করে ফেলতে পারে। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের জন্য এই বদভ্যাসটিকে দায়ী করা হয়। সেই সাথে ডিমেনশিয়া ও আলজেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয় ধূমপান। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে এটি।

৭. প্রাকৃতিক আলোর অভাব
পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলোর অভাব বিষণ্ণতা বা অবসাদের মত মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে যা মস্তিষ্ককে মন্থর করে ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রাকৃতিক আলো থাকলে ভালোভাবে কাজ করে আমাদের মস্তিষ্ক।

৮. বেশি চিনি খাওয়া
বেশি চিনি খাওয়া প্রোটিন এবং পুষ্টির শোষণকে প্রভাবিত করে। এর কারণে অপুষ্টির সমস্যা হয়। এটি মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।


ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ৮১৩০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন