সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

নকশিকাঁথায় লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া

শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০১৭

600052194_1492760022.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
কাঁথা এ দেশের কারুশিল্পের এক অনবদ্য সৃষ্টি। একসময় কাঁথা বলতে বোঝানো হতো পুরনো জীর্ণ কাপড় দিয়ে তৈরি মোটা শীতবস্ত্রবিশেষ। একসময় গ্রামীণ নারীরা তাদের পুরনো শাড়ি আর শাড়ির পাড় থেকে সুতা তুলে তৈরি করতো এই শীতবস্ত্র।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে এর ভিন্ন ভিন্ন নাম-খেতা, কেতা, কাতা ইত্যাদি। বাঙালি প্রতিটি পরিবারই কাঁথার সাথে পরিচিত। বর্ষাকালে গ্রামীণ নারীরা থাকে প্রায় অবসর। এসময়ই তারা নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে রঙিন সুতোয় তৈরি করতো বিভিন্ন নকশার কাঁথা- যা নকশিকাঁথা নামে পরিচিত।

নকশিকাঁথার কথকতা:
আমাদের শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ-সভ্যতা, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, গৌরবগাথা ও সুপ্রাচীন ঐতিহ্য নকশিকাঁথা। গ্রামীণ নারীদের শিল্পকর্ম হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত নকশিকাঁথা এখন আমাদের আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডেও অবদান রাখছে।  

এখন ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে তৈরি হচ্ছে নকশিকাঁথা। বাংলাদেশের রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, পাবনা, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ কুমিলা ও সিলেট অঞ্চলে তৈরি হতো এসব কাঁথা।

বিভিন্ন অঞ্চলে ফোঁড়, পাড় ও নকশা অনুযায়ী নকশিকাঁথা ভিন্ন ভিন্ন নামেও পরিচিত। এগুলো হলো : বরকা  ফোঁড়, তেজবি ফোঁড়, বাঁশপাতা ফোঁড়, কইতা ও বিছা ফোঁড় ইত্যাদি। পাড়ের নামে তোলো পাড়, তাস পাড়, নয়নলতা, নারিকেল পাতা ও নৌকাবিলাস আরও বহু নামের নকশিকাঁথা রয়েছে। শখের কাজে তৈরি এ কাঁথা এখন অনেকের ভাগ্যও বদলাচ্ছে।

আমাদের গ্রামের নারী শিল্পীদের হাতে বোনা এসব নকশিকাঁথা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। বিক্রি হয় দেশের অভিজাত দোকানেও। উচ্চবিত্তের বসতিতে শোভা বাড়ায় যে কাঁথা তার প্রস্তুতকারীদের খবর আর কে রাখে। অথচ তাদের যদি যথাযথ সহযোগিতা করা যেত তাহলে শিল্পের পাশাপাশি অর্জন করা যেত বৈদেশিক মুদ্রা। সমৃদ্ধ হতো আমাদের ঐতিহ্য।

ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ১০৮৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন