সর্বশেষ
শনিবার ৭ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

'কালচারের সাথে যায় না এমন নাচানাচি করতে চাই না'

বুধবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৭

1717990917_1493214446.jpg
কাহহার সামি :
''বাস্তব জীবনে আমি খুবই সাধারণ থাকার চেষ্টা করি। মাটিতে থাকার চেষ্টা করি, আকাশে উড়ার চেষ্টা করি না। যদিও মানুষ অনেক সময় বলে যে তারকা আকাশে থাকে। আমার কছে মনে হয় যে প্রথমে আমি একজন মানুষ তারপর অভিনেতা। আকাশে না উড়ে সাধারণ থাকার চেষ্টা করি। আমি এখনো টং দোকানের চা উপভোগ করি। মনের কথা শুনি মন যা বলে তাই করি।''

জীবনের কথা ও পারিপার্শ্বিক বিষয় নিয়ে বিডিলাইভকে এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন অভিনেতা আফরান নিশো। সাক্ষাৎকার ও ছবি নিয়েছেন কাহহার সামি।

অভিনয় জগতে আসার ক্ষেত্রে অবদানটা কার বেশি ছিল?

নিশো: ছোটবেলা থেকে কোন ইচ্ছা ছিল না মিডিয়াতে কাজ করব। আর এখানে আসার ক্ষেত্রে আমার মনে হয় যেন অবদানটা আমার নিজেরই বেশি। আমার কথা হচ্ছে ভাবনাগুলো অনেক পরিবর্তন হয়। এ একমাত্র জায়গা যেখানে আমি সতর্ক ছাড়া থাকি আর ভাবনায় ভাবছি। এটা এমন একটা জায়গা যেখানে আমার ক্ষুধাটা বাড়ছে দিন দিন। অভিনয় করব অভিনয় করব এই ক্ষুধাটাই বাড়ছে। অনেকের ক্ষেত্রে অনেক অবদান থাকে তবে আমার ক্ষেত্রে কারো অবদান অতটা ছিল না। আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন আছে তারা যে খুব বেশি একটা আমাকে সাহায্য করেছে এমনটা না। বলে না যে এগিয়ে যাও তাও না। আমি নিজ উদ্যোগে, নিজের জায়গা থেকে কাজ করে করে হয়তবা আজকের আফরান নিশো।

২০০৩ সালে বিজ্ঞাপনের মধ্যদিয়ে মিডিয়াতে যাত্রা শুরু করেন। তারপর ২০০৬ সালে ছোটপর্দায় কাজ শুরু করেন দুই মাধ্যমের অভিজ্ঞতা নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

নিশো: দুইটা দুই মাধ্যম। একটার সাথে আরেকটার খুব বেশি একটা সম্পর্ক না। অভিনয়টা যে কোন প্লাটফর্মে হতে পারে। ফর্মগুলো আলাদা। কমার্সিয়াল কাজগুলো অনেক এগিয়ে। কারণ পুরো কাহিনীটা থাকে ৩০ সেকেন্ডের। সেখানে পরিচালকের চাহিদানুযায়ী কাজ করতে হয়। নাটক হচ্ছে অনেকটা বুঝে শুনে কাজ করতে হয়। এখানে চল্লিশ থেকে পয়তাল্লিশ মিনিট ধরে গল্পটা যায়। নাটক অনেকটা বাস্তবধর্মী।  অভিনয়ের ক্ষেত্রে মাধ্যমগুলো ভিন্ন থাকে। কিন্তু অভিনয়টা সব জায়গায় করতে হয়। যে এ মাধ্যমগুলো বুঝবে তার জন্য অভিনয় করাটা সহজ হবে।

সম্প্রতি ডুয়েট চরিত্রে অভিনয় করলেন। বাবা এবং ছেলে চরিত্রের, কাজটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং বটে। কেমন ছিল কাজটা?

নিশো: ‘সুখি মীরগঞ্জ’ নামের একটি ধারাবাহিক। এর পরিচালক সুমন আনোয়ার। আমার খুব পছন্দের একজন পরিচালক। সে অভিনয়টা যে অনুপাতে ভাল বুঝে লিখেও ভাল। পাশাপাশি সে অনেক সময় অভিনয়ও করে। একজন অভিনেতা। তবে হ্যাঁ, একই সাথে দু’টো চরিত্রে অভিনয় করাটা কঠিন। যেহেতু দায়ভার নিয়েছি যে অভিনয় করব এ কঠিন জিনিস সহজভাবে করাটাই হচ্ছে আমার প্রত্যেক দিনের কাজ। ঐ জায়গা থেকে তখন দায়িত্ববোধটা বেড়ে যায়। দু’টো চরিত্রকে আলাদা ভাবে আপডেট করতে হবে। ছেলে এবং বাবা দু’টো চরিত্র যখন একসাথে করতে হয় তখন খুব বেশি মনোযোগী হতে হয়। সেটা সুমন আনোয়ারের সেটে খুব ভাল পাওয়া যায়। একজন অভিনেতার মানসিক যে শান্তি সেটা সুমন আনোয়ার তৈরি করে দেয়। পরিবেশটা যখন একজন পরিচালক তৈরি করে দেয় তখন অভিনেতার ক্ষেত্রে অভিনয় করাটা সহজ হয়। দু’টো কেন তখন পাঁচটা চরিত্র করতেও অসুবিধা হয় না।

নিজের ভাবনা আছে যে আমি সবসময় হিরো হতে চাই না অভিনেতা হতে চাই। অভিনেতা হওয়ার চেষ্টা এটাতো শেষ হওয়ার কথা না। এর ক্ষুধাটা বাড়তেই থাকে। সেই জায়গা থেকে এসব চ্যালেঞ্জ নিতে আমার খুব পছন্দ। আর আমি তখনি খুব আনন্দিত হই যখন আমাকে কঠিন চরিত্রগুলোর জন্য ভাবা হয়। আমার মনে হয় তাদের বিশ্বাসটা আমার উপর জন্ম নিয়েছে। এটা আামার খুব ভাল লাগে।

বর্তমান মিডিয়াতে অনেকে মডেলিংয়ের পাশাপাশি দু’একটা নাটক করে নিজেকে হিরো বলে দাবি করে। এখানে আমার প্রশ্ন হিরোর আসল সংজ্ঞাটা কি?

নিশো: এটা হচ্ছে প্রচলিত একটা কথা। একজন নায়ককে হিরো বলে ডাকা হয়। এখানে সংজ্ঞাটা হচ্ছে হিরো সবসময় সু-দর্শন হবে এটা হচ্ছে ব্যক্তিত্ব। দর্শক ভাবে যে হিরো, সে সবসময় সু-দর্শন একজন যুবক। যারা রোমান্টিক হিরো সবসময় রোমান্সি করেছেন স্ক্রিনে। আমি এখানে যে হিরোর কথা বললাম সেটা নেগেটিভ অর্থেই বললাম। আমার দর্শনের জায়গা থেকে বলা। সবসময় প্রেমের চরিত্রের নায়ক থাকবে।

সহজভাবে বুঝানোর জন্য, আমি যদি শাহরুখ খানকে হিরো বলি, তাহলে আমির খানকে হিরো বলব না। সে হিরো কিন্তু অন্য ক্যাটাগরির হিরো। আমার সংজ্ঞায় প্রকৃত হিরো এমন হওয়া উচিত- একটা গল্পে গল্পটা মুচি কেন্দ্রীক। একজন মুচির জীবন কাহিনী সে প্রতিদিন কি করে না করে, তার বৌ আছে, সংসার আছে। এ গল্পে হিরো একজন মুচি। তথাকথিত আমাদের এখানে যে হিরোইজম সুটেড বুটেড হিরো, দেখতে সু-দর্শন। তাকে যদি ঐ মুচির চরিত্র করতে হয় তাহলে এসব হিরোইজম ভাংতে হবে। তাকে অভিনেতা হতে হবে। ঐ কথা থেকে আমি বলব হিরো হচ্ছে প্রত্যেকটা নাটকের গল্পে একটা হিরো থাকে সে হিরোটা দেখতে সু-দর্শন হবে। সে সবসময় স্যুট পরবে ইন করে শার্ট পরবে এরকম না।

আমাদের এখানে যারা বিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে সাচ্ছন্দবোধ করে না, সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে। ভারচুয়ালিটি একটু কম। আমার কাছে মনে হয় যে প্রত্যেকের উচিত অভিনেতা হয়ে ওঠা। অভিনেতা হয়ে উঠলে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র করলে সে আপনা আপনি হিরো হয়ে উঠবে।

কারো কাছে আপনি মডেল আবার কারো কাছে হিরো। কিন্তু নিজের কাছে কোনটা মনে হয় আপনাকে?

নিশো: আমি নিজের কাছে নিজে একজন অভিনেতা হতে চাই। মডেলিংয়ের সময় মডেলিং করেছি, র‍্যাম্পেও হাঁটা হয়েছে। কমার্সিয়াল কাজ করেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছি। আমরা যখন মডেলিং করতাম তখন এমনটাও শুনা যেত যে মডেলরা কখনো অভিনেতা হতে পারে না। কারণ আমাদের আগে যারা ছিল তারা হয়ত অভিনয়টা চেষ্টা করেননি অথবা প্রমাণ করেননি। অভিনয় করতে আসছেন ঠিকই কিন্তু সঠিকভাবে অভিনয় করতে পারেননি।

একটু হেসে নিশো বলেন- ‘এজন্য হয়ত বলে মডেলরা হ্যাংগার তারা নড়াচড়া করেন না।’ সেই জায়গাটা থেকেও একটা ক্ষুধা ছিল যে কোন একদিন আমি নিজেকে প্রমাণ করব মডেল থেকে অভিনেতা হওয়া যায়।

কখন আপনাকে প্রতিবাদী, কখন ডুয়েট, আবার কখন প্রেম বিনিময় করতে দেখা যায় ছোট পর্দায়। এমন কোন চরিত্র আছে যেটা প্রায় সময় করতে আগ্রহী?

নিশো: না! আমি আসলে একটা চরিত্রের উপর কখনোই টিকে থাকতে চাই না। একই ধরনের চরিত্র করে যাবো এমন চিন্তাও কখন আমার মাথায় আসে না। সবসময় ইচ্ছে হয় যে বিভিন্ন চরিত্রে আমি অভিনয় করব। যেখানে অনেক ধরনের চরিত্র থাকবে সেগুলো করতে চাই। সিনিয়ররা অনেকেই আমাকে বলেন প্রশংসা করেই বলেন তোমার এই বয়সে বা এই সময়ে গেটাপ বা চরিত্র নিয়ে এতো এক্সপেরিমেন্ট কেউ করে না। অনেকে প্রশংসা করেন সেটা আমি খুব উপভোগ করি। ভাল লাগে আমার।

কয়েকটা দৈনিকে ছয় মাস আগে বলেছিলেন- ভক্তদের বাড়ি গিয়ে দেখা করবেন, এমনটা আদৌ কি সম্ভব হয়ে উঠেছে কিনা?

নিশো: এটা আমার একটা ভাবনা ছিল যে দেখা করব। আমি ফেসবুকে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) লিখেছিলাম কথাটা। অনেক পত্রিকা এটাকে খবর উপযোগী করে লিখেছেন। আমার কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই এটা করেছে তারা।

তবে আমার মধ্যে এই ভাবনাটা সবসময় কাজ করে। যারা আমাকে পছন্দ করে আমাকে দেখতে চায়। তারা হয়ত মনে মনে খুঁজে যে নিশো ভাইয়ের বাসাটা কোথায়। এটাকে যদি বাদ দিয়ে আমি নিজেই আমার ভক্তদের বাড়িতে যাই তাদের চমকে দিই। তার মাকে মা ডাকি বোনকে বোন ডাকি। সবার বাসায় গিয়ে যদি একবেলা খাই। সেটা আমারও ভাল লাগবে তাদেরও হয়ত ভাল লাগবে। এ ভাল লাগার জায়গা থেকে আমার এ কথাটা শেয়ার করা। আমার ইচ্ছা আছে যাওয়ার, হয়ে উঠতেও পারে নাও পারে।

অনেক অভিনেত্রীর সাথে অভিনয় করলেন। এমন কেউ আছে কিনা যে তার অভিনয়টা ভাল লাগত এবং তার সাথে জুটিটা ভাল মানাত?

নিশো: আমি এটা বিচার করার কেউ না। তবে হ্যাঁ যারা অভিজ্ঞ তাদের সাথে কাজ করে আরাম পাওয়া যায়। বেটার রিঅ্যাকশন এবং বেটার অ্যাকশন দেয়। তাদের সাথে কাজ করে নিজেও শিখতে পারি। এমন থাকে না যে সুন্দর হতে হবে তারপর অভিনয়টা থাকবে। আমি মনে করি এটা বাদ দেয়া উচিত।

you have to look good then you have to performar No- you have to perform well then you have to look good. যেটা চরিত্র আছে সেটা অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে পারাটাই আসল। তার জন্যে অনেক সুন্দর হতে হয় না। এখানে অভিনয়টা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

বর্তমান নাটকগুলো দিন দিন দর্শক হারাচ্ছে- এমনটা শোনা যায়। এর পেছনে কি কারণ থাকতে পারে বলে মনে হয়?

নিশো: আমার তো এমনটা মনে হয় না যে দর্শক হারাচ্ছে। বর্তমানে দর্শক অনলাইনে অনেক নাটক দেখে। এটা বলা যায় যে টিভি চ্যানেল দেখা বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের দেশের নাটকের মান অনেক ভাল। যারা বলে নাটকের মান ঠিক নাই আমি বলব তারা হাওয়ায় ভাঁসছে। আগেও যেমন ভাল মন্দ মিলিয়ে কাজ হত এখন ভাল মন্দ মিলিয়ে কাজ হচ্ছে। এটা ভুল যে নাটকের মান ঠিক নাই। এখন যদি দর্শক বাংলা নাটক না দেখত তাহলে এত আয়োজন করে শ’ শ’ নাটক তৈরি হত না। এরকম যদি হয় যে দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তাহলে একজন আফরান নিশো এসময়ের একজন আফরান নিশো তৈরি হত না। মান নিয়ে কথাটা ভুল। আমি বলব এটা একটা অযৌক্তিক কথা।

অভিনয় জগতে সবার একটা আকাঙ্ক্ষা থাকে বড় পর্দায় নিজেকে দেখার। এমন কোন ইচ্ছা আছে চলচ্চিত্রে কাজ করার?

নিশো: চলচ্চিত্রে আমি গেলাম একটা করে দেখলাম! এমনটা আমি করতে চাই না। করার ইচ্ছা আছে তবে সেটা আমি ভাল ভাবেই করতে চাই। সেখানে আমি প্রতিদিনি চলচ্চিত্রের কাজই করব। তখন আর নাটকের কাজ করব না। ঐ জায়গা থেকে আমার মধ্যে একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে যে চলচ্চিত্রে হয়ত বা বছরে একটা কাজ করা যেতে পারে। তাই যাওয়া আর না যাওয়া একই কথা আমার কাছে। সবকিছু মিলিয়ে যখন পরিচালকরা অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন কাজ করা শুরু করবে। বলা যেতে পারে একটা সিনেমা নকল, যেটা আমার কালচার না এবং সে ধরনের নাচানাচি আমি করতেও চাই না। আমি গল্প নির্ভর কাজ করতে চাই। যেখানে অভিনয়টা অনেক বেশি গুরুত্বপুর্ণ। চলচ্চিত্রটা অনেক বড় একটা মাধ্যম। যেখানে প্রস্তুতিটাও অনেক বড় ব্যাপার। আমার কাছে মনে হচ্ছে যে আমি একাই প্রস্তুত করছি নিজেকে আর সবাই চিন্তাও করছে না। আবার অফার যে আসছে না এমনটাও না, অনেক অফারই আসে। নাটকে এখন এত বেশি ব্যস্ত সেখান থেকে এটা বন্ধ করে চলচ্চিত্রে যাওয়া কষ্টের। নতুন ভাবে শুরু করা। এটা নতুন একটা ক্যারিয়ার, নতুন একটা ভাবনা। তবে প্রস্তুতি চলছে ব্যাটে-বলে মিল হলেই শুরু করে দিব। নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই চলচ্চিত্র করব। এমনটা না যে চলচ্চিত্র করব আরো পরিচিতির জন্য।

প্রিয় অভিনেতা:- হুমায়ুন ফরিদী।
প্রিয় অভিনেত্রী:- সুবর্ণ মোস্তফা, ফেরদৌসী মোজুমদার।
প্রিয় খাবার:- বর্তমানে ডিম, কলা, দুধ।
প্রিয় জায়গা:- নদীর পাড়, পাহাড়।

নিজের করা প্রিয় নাটক কোনটি:- সবগুলোই! যখনি আমার কাছে গল্পগুলো প্রিয়(ভাল লাগা) মনে হয়েছে তখনি কাজ করেছি।

বিডিলাইভ এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
নিশো: ধন্যবাদ বিডি লাইভ পরিবারকে।

ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ৩১৪০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন