সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২০ নভেম্বর ২০১৮

হুমায়ুন আজাদের ৭০তম জন্মবার্ষিকী আজ

শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৭

1202847474_1493359582.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
হুমায়ুন আজাদ ছিলেন বাংলাদেশি কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সমালোচক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী, কিশোর সাহিত্যিক এবং রাজনীতিক ভাষ্যকার। আজ ২৮ এপ্রিল তার ৭০তম জন্মবার্ষিকী।

হুমায়ুন আজাদ বাংলাদেশের প্রধান প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখক যিনি ধর্ম, মৌলবাদ, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কারবিরোধিতা, নারীবাদ, রাজনৈতিক এবং নির্মম সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য ১৯৮০'র দশক থেকে ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

জন্ম:
১৯৪৭ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে তার নানাবাড়ি কামাড়গাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন আজাদ। তার জন্ম নাম ছিলো হুমায়ুন কবীর। বাবা আবদুর রাশেদ ও মা জোবেদা খাতুন। তিন ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে আজাদ ছিলেন পিতামাতার প্রথম পুত্রসন্তান।  

শিক্ষাজীবন:
আজাদ রাড়িখালের স্যার জে সি বোস ইন্সটিটিউশন-এ চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।  ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৬৮ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন:
হুমায়ুন আজাদ পেশায় শিক্ষক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে  তার কর্মজীবন শুরু হয় চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে  কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হন।

সাহিত্যকৃতি:
গতানুগতিক চিন্তাধারা তিনি সচেতনভাবে পরিহার করতেন। তার নারী (১৯৯২), দ্বিতীয় লিঙ্গ (২০০১) এবং পাক সার জমিন সাদ বাদ (২০০৪) গ্রন্থ তিনটি বিতর্কের ঝড় তোলে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়।

কবিতা:
গদ্যের জন্য বেশি জনপ্রিয় হলেও হুমায়ুন আজাদ আমৃত্যু কাব্যচর্চা করে গেছেন। তিনি ষাটের দশকের কবিদের সমপর্যায়ী আধুনিক কবি। সমসাময়িক কালের পরিব্যাপ্ত হতাশা, দ্রোহ, ঘৃণা,  প্রেম ইত্যাদি তার কবিসত্বার প্রধান নিয়ামক। প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম অলৌকিক ইস্টিমার যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। পরবর্তীতে তার অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়।

প্রবন্ধ:
১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় প্রবন্ধের বই নারী। আর এই বইয়ের প্রকাশের পর বিতর্কের ঝড় উঠে। ফলে ১৯৯৫ সালে নারী বইটি নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ সরকার। অবশ্য ৪ বছর পর ২০০০ সালে বইটি আবার পুনর্মূদ্রিত হয়। তার আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম গ্রন্থে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের দূরবস্থার সাহসী বর্ণনা আছে। লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী  প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।

মৃত্যু:
২০০৪ সালে ৭ আগস্ট জার্মান কবি হাইনরিখ হাইনের ওপর গবেষণা বৃত্তি নিয়ে জার্মানি যান। ২০০৪ সালে ১১ আগস্ট জার্মানিতে রাতে একটি পার্টি শেষে নিজ আবাসস্থলে ফিরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হুমায়ুন আজাদ।

১২ আগস্ট ফ্ল্যাটের নিজ কক্ষে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মরদেহ কফিনে করে জার্মানি থেকে ঢাকায় আনা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে ইসলামি প্রথায় জানাযার নামাজ শেষে তার মরদেহ জন্মস্থান রাড়িখালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই ইসলামি প্রথায় সমাহিত করা হয়।

ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৭০১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন