সর্বশেষ
বুধবার ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রবীন্দ্রনাথ ও কাছারী বাড়ি

সোমবার, মে ৮, ২০১৭

1177681521_1494219256.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
'আমাদের ছোট ছোট নদী- চলে বাঁকে বাঁকে- বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে' বিশ্বকবির বিখ্যাত কবিতা যা কবিগুরুর জ্ঞানের অনন্য ছোঁয়া।

'তোমরা নিজের পায়ে দাঁড়াও, তোমাদের সবার মঙ্গল হোক-তোমাদের সবাইকে এই আর্শীবাদই আমার শেষ আর্শীবাদ' যা ১৯৩৭ সালে কবিগুরু শেষবারের মতো এই পতিসরে এসে লিখেছিলেন।

কবি নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর তার কাছারী বাড়িতে এসে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকা-বাঁকা নাগর নদীকে নিয়ে লিখেছিলেন। এছাড়াও বিশ্বকবি তার বিখ্যাত কবিতা 'দুই বিঘা জমি', 'সন্ধ্যা' সহ অসংখ্য বিখ্যাত সাহিত্য রচনা করেছেন এই পতিসরের কাছারী বাড়িতে এসে।

নওগাঁ শহর থেকে পতিসরের দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার এবং আত্রাই হতে ৪৬ কিলোমিটার। নওগাঁ এবং আত্রাই হতে মাইক্রোবাস, বাস, সিএনজি যোগে পতিসরে যাওয়া যায়। প্রায় এক বিঘা জমির উপর অবস্থিত কবির এই কাছারী বাড়ি। এখানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে কবির ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র।

সূত্রে জানা, ১৮৩০ সালে বিশ্বকবির পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এই কালিগ্রাম পরগনাকে ক্রয় করে ঠাকুর পরিবারের জমিদারির অংশে অর্ন্তভুক্ত করেন।

১৮৯১ সালে ১৩ জানুয়ারী বিশ্বকবি প্রথম আসেন পতিসরের কাছারী বাড়িতে জমিদারি দেখাশোনা ও খাজনা আদায় করতে। সেই সময় এই পরগনা থেকে খাজনা আদায় হত প্রায় ৫০,৪২০টাকা।

বিশ্বকবি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তার পুরস্কারের অর্থ থেকে তিনি এই পরগনার প্রজাদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার জন্য ৭৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।

এই প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার প্রজাদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার লক্ষে কবি ১৯৩৭ সালে পতিসরে এসে তার ছেলে রথীন্দ্রনাথের নামে 'কালিগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনষ্টিটিউশন' স্থাপন করেন এবং এই প্রতিষ্ঠানের নামে ২০০ বিঘা জমি দান করেন।

১৯৩৪ সালে কবির ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই এলাকার প্রজাদের জন্য সর্বপ্রথম আধুনিক সময়ের কলের লাঙ্গল এনেছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালিন সরকার ১৯৫২ সালে এক অডিন্যান্স বলে কালিগ্রাম পরগনার জমিদারি কেড়ে নেয়।

তারপর থেকে ঠাকুর পরিবারের সদস্যরা পতিসর আসা বন্ধ করেন। তৎকালীন রবীন্দ্র বিরোধী পাকিস্তান সরকার ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পতিসরে কোন অনুষ্ঠান করতে দেয়নি।

এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৯৪ সালে সরকারি ভাবে পতিসরের এই রবীন্দ্র কাছারী বাড়ি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে আসা হয় এবং সরকারি ভাবে প্রতি বছর এখানে বিশ্বকবির জন্মোৎসব উদযাপন করা হয়।

এ বছর ১এপ্রিল কাছারী বাড়ি প্রবেশের জন্য টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫টাকা, মাধ্যমিকের পর হতে সকল পর্যায়ে ১৫টাকা, সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০টাকা এবং ইউরোপের নাগরিকদের জন্য ১০০টাকা হিসেবে টিকেটের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

কবি গুরুর এই স্মৃতি বিজড়িত কাছারী বাড়ির পরিসর বৃদ্ধি, মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি, দেশের ও বিদেশের কবি ভক্তদের এখানে এসে থাকার আবাসিক সুব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সহ আরো অনেক উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে এই স্থানের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন।

লেখক: নাজমুল হক নাহিদ।

ঢাকা, সোমবার, মে ৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৫৯৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন