সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

কৃত্রিমভাবে মহিষের ভ্রূণ উৎপাদনে সফল বাকৃবি গবেষক

রবিবার, মে ২৮, ২০১৭

206269509_1495946057.jpg
বাকৃবি প্রতিনিধি :
মহিষের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও কৃত্রিমভাবে ভ্রূণ উৎপাদনের জন্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের পশুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, তিনি জাপান থেকে বংশবৃদ্ধি জীবপ্রযুক্তির (রিপ্রডাক্টিভ বায়োটেকনোলজি) উপর পিএইচডি এবং পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।

মহিষের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও কৃত্রিমভাবে ভ্রূণ উৎপাদনের ওপর গবেষণার জন্যে তাকে পুরস্কার হিসেবে ২০১৭ সালের ১৬ই মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গবেষণা অনুদান চেক প্রদান করেন। মনে করা হচ্ছে, এই গবেষণা পুরস্কার তার কর্মস্পৃহাকে আরো ত্বরান্বিত করবে এবং তার গবেষণা কার্যক্রম বেগবান হবে।

তিনি তার গবেষণা থেকে বলেন, আমাদের দেশের দেশী জাতীয় মহিষ যত্নের অভাবে কম উৎপাদনশীল হয়ে থাকে। কেননা অধিকাংশ মহিষ উর্বর না। দেশে মহিষের কৃত্রিম প্রজননের কোনো সুব্যবস্থা নেই। কিছু এন জি ও (যেমনঃ লাল তীর) মহিষের কৃত্রিম প্রজননের জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দেশী জাতীয় মহিষের ডিম্বাণু আকারে ছোট এবং অনুর্বর হয়। ডিম্বাণু ছোট হওয়ার জন্যে সেগুলো নিষিক্ত হয় না, ফলে মহিষের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
 
মহিষের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে তিনি কৃত্রিম ভাবে এই ছোট ডিম্বাণু বড় করার উপায় উদ্ভাবন করেন। তিনি বলেন, ডিম্বাণু বড় করার মাধ্যমে সেগুলো নিষিক্ত করা সম্ভব এবং কৃত্রিমভাবে ঐ বড় ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ উৎপাদন করা সম্ভব। পরবর্তীতে সেই ভ্রূণ থেকে মহিষের বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, উন্নত জাতের মহিষের (যেমনঃ নিলীরাভি, মুরাহ্) সিমেন দেশী জাতীয় মহিষের সাথে সঙ্করায়নের মাধ্যমে যে বাচ্চা উৎপাদন হবে, সেই বাচ্চা থেকে অধিক পরিমাণে দুধ পাওয়া যাবে।

প্রাণিজ আমিষের একটি অন্যতম উপাদান হলো দুধ। একজন মানুষকে সুস্থ-স্বাভাবিক থাকার জন্যে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ মিলিলিটার দুধ খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে দুধের উৎপাদন মাথাপিছু ১২৫ মিলিলিটার। অর্থাৎ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী দুধের উৎপাদন শতকরা ৫০ ভাগ ঘাটতি রয়েছে।

দুধ উৎপাদনে যে গবাদি পশু গুলো ভূমিকা রাখে সেগুলোর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশে গরু দুধ উৎপাদনে মূল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দুধ উৎপাদনে প্রথম দশটি দেশের পরিসংখ্যান থেকে জানা যে, দুধ উৎপাদনে গরুর পাশাপাশি মহিষের অবদানও অনেক বেশি। পুষ্টি মানের দিক থেকে মহিষের দুধ গরুর দুধের চেয়ে ভালো।

মহিষের দুধে ফ্যাট বেশি থাকায় গরুর দুধের চেয়ে বেশি সুস্বাদু হয়। দুধ উৎপাদনে ভারত বিশ্বে প্রথম। ভারতের মোট দুধের শতকরা প্রায় ৬৫ ভাগ দুধ আসে মহিষ থেকে। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে মহিষের সংখ্যা খুবই কম।

২০১৬ সালের বিবিএস এর পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, আমাদের দেশে যেখানে গরুর সংখ্যা ২ কোটি ৩৭ লক্ষ ৮৫ হাজার সেখানে মহিষের সংখ্যা ১৪ লক্ষ ৭১ হাজার। এই জন্যে দুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে আছে। আর দুধের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মহিষের ওপর গবেষণা করে যাচ্ছেন।


ঢাকা, রবিবার, মে ২৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩৩৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন