সর্বশেষ
শুক্রবার ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

'আদর্শ হিন্দু হোটেল'

রবিবার, জুন ১৮, ২০১৭

944839417_1497768447.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আদর্শ হিন্দু হোটেল' বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যােপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৪০ সালে উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায়। ইংরেজ সময়ের পটভূমিতে এ উপন্যাসে লেখক তৎকালীন ব্রাহ্মণ সমাজের একজন 'রাঁধুনী বামুণ', হাজারী দেবশর্মার জীবনকথা সুনিপুণ ভাবে তুলে ধরেছেন।

কাহিনী সংক্ষেপ:
রাণাঘাটের রেল-বাজারে বেচু চক্কত্তির "আদর্শ হিন্দু হোটেল" বিখ্যাত হোটেল। এই হোটেলে রাঁধুনি বামুণের কাজ করে হাজারী ঠাকুর। মাসিক সাত টাকা, দুইবেলা আহার পায় হোটেল থেকে। রাতে হোটেলেই ঘুমায় সে। তার বাড়ি এঁড়োশোলা গ্রামে, গ্রামে তার স্ত্রী, মেয়ে টেঁপি(আশালতা), ছেলে খোকা থাকে। সেখান থেকে কাজের সন্ধানে রাণাঘাট এসে সে বেচু চক্কত্তির হোটেলে কাজ করে পাঁচ বছর ধরে।

বেচু চক্কত্তির "আদর্শ হিন্দু হোটেল" এর উন্নতির পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হাজারী ঠাকুরেরই। তার মত ওস্তাদ বামুণ রাণাঘাটে আর কেউ নেই। যারা একবার তার হাতের রান্না খেয়েছে, তারা বারবার এসেছে তার রান্না খাওয়ার জন্য। প্রতিবারই, লোকজন এসে তার রান্না খেয়ে প্রশংসা করে যায়, হাজারী ঠাকুরও বড্ড খুশি হয় প্রশংসা বাক্য শুনে। হোটেলের একজন বাদে সবাই তাকে ভালো জানে, হাজারী ঠাকুর মানুষটাও আগাগোড়া ভালো।

হোটেলের একজনই তাকে দেখতে পারে না, পদ্ম ঝি। হাজারী ঠাকুর তাকে "পদ্মদিদি" ডাকে। এই পদ্মঝি'র কথাই হোটেলের শেষকথা। এমনকি বেচু চক্কত্তিও তার কথার ওপরে কথা বলেনা। বেচু চক্কত্তির সাথে পদ্মঝি'র কোনো সম্পর্ক আছে কী না এ নিয়েও লোকজন বহু কথা বলে।

পদ্মঝি পদে পদে হাজারী ঠাকুরকে অপমান করে, বেচু চক্কত্তির কাছে হাজারী ঠাকুর সম্পর্কে বহু মিথ্যাচার করে তাকে অপদস্থ করে প্রায়শই। এ নিয়ে হাজারী ঠাকুরের কোনো অভিযোগ নেই, সব মিথ্যা অপবাদ সে মুখবুজে সহ্য করে নেয়। পদ্মদিদিকে সে ভীষণ ভয়ও পায়।

হাজারী ঠাকুরের বড় ইচ্ছে, সে একটা হোটেল খুলবে। রান্না, বাজার করা সে জানেই। এখন চারশো টাকার মত হলেই সে হোটেল খুলতে পারে। কিন্তু, টাকা কে দেবে? হোটেল নিয়ে অনেক বড় পরিকল্পনা তার। কিন্তু, টাকার প্রসঙ্গ এলেই সব পরিকল্পনা কেমন যেন চুপসে যায়

একদিন, পদ্মঝি'র ষড়যন্ত্রে মিথ্যা চুরির অপবাদে হাজারী ঠাকুরকে 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' এর চাকরি ছাড়তে হয়। কপর্দকহীন হয়ে রাস্তায় নেমে আসে হাজারী দেবশর্মা।

এখন কী করবে হাজারী ঠাকুর? তার হোটেল করার স্বপ্ন কী সত্যি হবেনা?

মানুষটির অর্থ-বিত্ত না থাকলেও, স্বপ্ন দেখতে জানতো সে। আর নিজের উপর ছিল তার অগাধ বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের বলেই নিজের স্বপ্ন সত্যি করে দেখিয়েছে মানুষটি। সত্যি করেছে তার সেই আদর্শ হিন্দু হোটেলের স্বপ্ন!

ঢাকা, রবিবার, জুন ১৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৬৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন