সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

আয়েশা ফয়েজের 'শেষ চিঠি'

সোমবার, জুন ১৯, ২০১৭

1669086119_1497844333.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বইটির প্রথম পাতাটা পড়ে শেষ করা যায় না! চোখ পানিতে ভরে ওঠে। একজন মা মৃত ছেলেকে উদ্দেশ্য করে লিখছেন, ‘আমার এত আদরের বাচ্চাটি আমাকে ছেড়ে তুমি কোথায় গেলে? বাবা, তোমার কি একবারও মনে হয় নাই যে তোমার একটা দুঃখী মা আছে ...।’

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ ছেলের সঙ্গে এভাবেই লিখে লিখে কথা বলতেন। ছেলে হুমায়ূনকে উদ্দেশ্য করে মায়ের লেখা সেই কথামালা নিয়ে ‘তাম্রলিপি’ বের করেছে ‘শেষ চিঠি’ নামের বই।

বইটি থেকে একটি কাহিনী:
'নব্বইয়ের যে কোন একদিন। হুমায়ূন আহমেদের হাতিরপুলের ফ্ল্যাট। আর একদিন পরেই বাকের ভাইয়ের ফাঁসি। মিছিল করছে জনতা। মিছিল থেকে হুমায়ুন আহমেদের বাসায় ইট পাটকেল ছোড়া হল। স্লোগান উঠল "বাকের ভাইর ফাঁসি হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে"। পরিস্থিতি খারাপ দেখে হুমায়ুন আহমেদ বাসা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন। যাওয়ার আগে গেলেন মা আয়েশা ফয়েজের সাথে দেখা করতে। আয়েশা ফয়েজ তার ছেলেকে বললেন- ছেলেটাকে ফাঁসি না দিলে হয়না? হুমায়ুন আহমেদ বললেন- সম্ভব না আম্মা।'

শ্যুটিং শেষ।

'বাকের নামক নাটকের চরিত্রের ফাঁসিতে অভিমানি মা কয়েকদিন ছেলের সাথে কথাই বললেন না। হুমায়ুন আহমেদের মা বলে কথা। পাগল ছেলের পাগলী মা।'

এমনই এক কঠোর, মমতাময়ী, রত্নগর্ভা মায়ের শেষ বই "শেষ চিঠি"।

লেখিকা পরিচিতি:
আয়েশা ফয়েজ ১৯৩০ সালের ২৩ মার্চ, মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। খুব শখ ছিল তার পড়াশোনা করার, ক্লাস টুতে বৃত্তিও পেয়েছিলেন। সেই সময় পড়াশোনার চল ছিল না বলে তা হয়ে ওঠেনি। বিয়ের পর লেখক স্বামীর উৎসাহে বেগম ও ডিটকেটিভ পত্রিকায় কিছু গল্প লিখেছেন।

স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধে স্বামীর মৃত্যুর পর শুরু হয় তার ভয়াবহ জীবন। কঠিন সংগ্রামে তার ছয় ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছেন। তার ছেলেমেয়েরা এখনো বলে, ‘মা না থাকলে আমরা ভেসে যেতাম!' মহীয়সী এই নারী ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান|


ঢাকা, সোমবার, জুন ১৯, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৫১০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন