সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিন আজ

মঙ্গলবার, জুন ২০, ২০১৭

1396109188_1497933453.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
নারী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত ‘জননী সাহসিকা’ কবি সুফিয়া কামালের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। শুধু নারী আন্দোলন নয়, সব গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সামনের কাতারে।

আমৃত্যু মুক্তবুদ্ধি চর্চার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। বরেণ্য এই কবির জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'কবি সুফিয়া কামাল রচিত সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে। কবির জীবন ও আদর্শ এবং তার অমর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজসংস্কার, নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

বাংলার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সুফিয়া কামালের ছিল আপসহীন ভূমিকা। নারীদের সংগঠিত করে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশাত্মবোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে তিনি ছিলেন সর্বদা সচেষ্ট।'

১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে সুফিয়া কামালের জন্ম। বাবা সৈয়দ আবদুল বারী পেশায় ছিলেন আইনজীবী। সুফিয়ার সাত বছর বয়সে তার বাবা গৃহত্যাগ করেন। মা সৈয়দা সাবেরা খাতুনের স্নেহস্পর্শে তিনি বড় হতে থাকেন।

১৯১৮ সালে সুফিয়া কামাল মায়ের সঙ্গে কলকাতায় যান। সেখানে থাকার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও বেগম রোকেয়ার মতো দিকপালদের সান্নিধ্য পান।

১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’। এ কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রশংসা।

কবিতা ছাড়াও লিখেছেন গল্প, স্মৃতিকথা, ছড়া, ভ্রমণসহ নানা কিছু। তার গল্পগ্রন্থ ‘কেয়ার কাঁটা’। ভ্রমণকাহিনী ‘সোভিয়েত দিনগুলি’। স্মৃতিকথা ‘একাত্তরের ডায়েরি’। তিনি ৫০টিরও বেশি পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পদক উল্লেখযোগ্য।

সুফিয়া কামাল ১৯৪৭ সালে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। আজীবন এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছিলেন। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর তিনি মারা যান।

তার জন্মদিন উপলক্ষে মহিলা পরিষদের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে কবি সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতা, কবি সুফিয়া কামাল সম্মাননা পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ ছাড়া সভায় ‘মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং শিক্ষা ও সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা প্রদান করবেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞনী ড. অনুপম সেন। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আজ সকাল ১০টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম সভাপতিত্ব করবেন।

ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ২০, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ২৫৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন