সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

বিমান ভ্রমণে যেসব বিষয় জেনে রাখা ভালো

বুধবার, জুন ২১, ২০১৭

1847834096_1498025662.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
কোনো দেশের দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হলো বিমানবন্দর। যাত্রী ওঠানামা থেকে শুরু করে আকাশপথে যোগাযোগের পুরো ব্যবস্থাই নিয়ন্ত্রিত হয় বিমানবন্দর থেকে। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। শুধু এ কারণে নয়, নিরাপদ বিমানযাত্রা ও যাত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থেই বিমানবন্দরে যাত্রীদের কিছু নিয়মকানুন কঠোরভাবে মানতে হয়। বিমানবন্দরের এসব নিয়মকানুন না মানা হলে ব্যক্তি যেমন অন্যের কাছে বিরক্তি ও ঝামেলার পাত্র হবেন, তেমনি নিজের দেশ ও জাতীয়তাকেও লজ্জার মুখে ফেলেন।

এমন অনেকে আছেন যারা বিমানবন্দরের নিয়ম না জানার কারণে নিজেরা প্রায় সময়েই নাজেহালে পড়েন। নিরাপত্তা লাইন থেকে বোর্ডিং গেটে ব্যাগ দেয়ার বাইরেও বিমানবন্দরে অনেক কিছু করা আছে। যা বিমানবন্দরে সময়-অর্থ দুটাই বাঁচাবে।এগুলো হলো-

বিমানসংস্থা ও বিমানবন্দরের অ্যাপ ডাউনলোড না করা :
বিমানবন্দরে গিয়ে শুধু নয়, যাওয়ার আগেই এ অ্যাপ ডাউনলোড করা দরকার। বেশিরভাগ এয়ারলাইনের অ্যাপ আছে যা স্মার্টফোনে ডাউনলোড করা যায়। এর মাধ্যমে ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে ঘর থেকে বের হওয়ার আগেই আপনি জানতে পারবেন। বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল-ডিপারচার পর্দার চেয়ে এসব অ্যাপ তুলনামূলকভাবে বেশি আপডেট থাকে। বেশিরভাগ বিমানবন্দর ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে ম্যাপ, সেবাসমূহের তালিকা অ্যাপে যুক্ত করে থাকে।  

অনলাইনে চেক ইন :
অনলাইনে চেক ইন করলে অনেক ঝামেলা থেকে এড়িয়ে যাওয়া যায়। দেখা যায় আপনি অকারণে লাইন দেখলেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অনলাইনে চেক ইন করা থাকলে বিমানবন্দরে ও বিমানের ভেতরে করণীয় সম্পর্কে দ্রুত জানতে পারবেন। সেক্ষেত্রে টিকেট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। অনলাইনে দ্রুত চেক ইন করলে বিমানে পছন্দসই আসন বেছে নিতে পারবেন সহজে। কাউন্টার লাইনে অকারণ সময় নষ্ট করা লাগে না।

নিজের সঙ্গে খাবার রাখা :
বিমানবন্দরে খাবারের দাম বেশি হলেও মান খুব কম সময়েই ভালো হয়। সুতরাং ঘর থেকেই কিছু খাবার সঙ্গে রাখতে পারেন। এতে ভ্রমণের ঝক্কিটাও কমবে। শুধু তরলজাতীয় খাবার ছাড়া প্রায় সব খাবারই বিমানবন্দরে নেয়া যায়। সময় বাঁচাতে টিএসএর সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা পাওয়া যাবে।  

সঠিক কাপড় পরা :
শুধু নিজের আরামের জন্যই নয়, লাইনে দ্রুত এগিয়ে থাকার কথা মাথায় রেখে কাপড় পরা ভালো। জাঁকজমকপূর্ণ গহনা বা বেল্ট এড়িয়ে চলুন। পায়ের জুতাটাও সাধারণই থাকুক। পোশাক-আশাকে সাধারণ থাকলে দ্রুতই নিরাপত্তা চেকিং শেষ হবে।

ভালো আচরণ করুন :
বিমানবন্দরে নানা কারণে আপনার অন্যের সাহায্যের দরকার হতে পারে। তাই রুক্ষ আচরণ করবেন না। যতটুকু সম্ভব ভালো আচরণ করুন এবং রাগ বা বিরুক্তি দেখাবেন না কাউকে। গেটে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেকেই তাড়াহুড়ো করেন। আগে যেতে না পারলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ধৈর্য ধরুন এবং মুখে হাসি রাখুন। ভালো আচরণের মাধ্যমে আপনি বিমানবন্দরে এবং বিমানের ভেতরে বাড়তি সুবিধা পাবেন। সৌজন্যতার সঙ্গে চাইলে অনেক ক্ষেত্রে পছন্দমতো সিটও বদলানো যায়।  

বিমানবন্দরের লাউঞ্জের জন্য পাস কিনুন :
অভিজাত শ্রেণির না হলে বিমানবন্দরে পদে পদে আপনাকে ঝামেলা পোহাতে হবে। কিন্তু কিছু কৌশল অবলম্বনে করলে আপনাকে তা স্বস্তি এনে দেবে। আপনি চাইলে বিমানবন্দরের লাউঞ্জের জন্য পাস কিনতে পারবেন। এতে শান্তিতে বিশ্রাম করতে পারবেন। কোনো কোনো লাউঞ্জে ওয়াই ফাই সুবিধাও থাকে। এখানে ভালো খাবার এবং পানীয় পাওয়া যায়।  

বিমানবন্দরের ওয়াইফাই ব্যবহারে সাবধান থাকা :
বিমানবন্দরে ফ্রিতে ওয়াইফাই সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে ফ্রি মানেই নিরাপদ নয়। তাই এই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রাদন করবেন না। এতে বিপদ ঘটতে পারে। ভ্রমণ থেকে ফিরে এসে হয়তো দেখবেন সামাজিক যোগাযোগের সাইটে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে, ব্যাংকের অর্থ চুরি হয়েছে এবং ঘরে ডাকাতি হয়েছে।  

নিজের লাগেজ চিহ্নিত করা :
বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী থাকে। তাদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আপনার লাগেজ মিলে যাওয়ার ঘটনাও কাকতালীয় হবে না। তাই রঙ্গিন কিছু দিয়ে নিজের ব্যাগ চিহ্নিত করে রাখুন। চাইলে যোগাযোগের ঠিকানাও লিখে রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে হারিয়ে গেলেও লাগেজ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা হয় না :
অনেকেই বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা পার হওয়ার সময় নিজের সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বের করেন এবং সবগুলোই এক্সরে মেশিনে দেন। বিমানবন্দরে সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির পরীক্ষা করা হয় না। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এবং প্লে-স্টেশন, এক্সবক্স বা নিনডোর মতো ক্যাসেট ব্যবহৃত যন্ত্র এক্সরে করার প্রয়োজন হয়। মোবাইল, স্মাটফোন, ট্যাব বা ইরিডারের মতো যন্ত্র এক্সরে করার প্রয়োজন নেই, শুধু নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা পার হওয়ার সময় পকেট থেকে বের করে দেখালেই হলো।

হাতেই রাখুন বোডিং পাস ও পরিচয়পত্র :
নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে যাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়ই বোডিং পাস ও পরিচয়পত্র হাতে নিতে হবে। এতে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে যাওয়ার পর আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত হবে এবং লাইনে থাকা সবাই এতে উপকৃত হবেন।

বিমানবন্দরে বা বিমানে সানগ্লাস পরবেন না :
বিমানবন্দরে প্রবেশ ও বিমানে ওঠার পর সানগ্লাস না পরাটাই ভালো। অনেক ক্ষেত্রে কোনো স্থান থেকে পালানো বা চেহারা লুকোনোর ক্ষেত্রে সানগ্লাস ব্যবহৃত হয়। বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে শীর্ষ সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রীয় নির্দেশে আটকের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা ও ছবি থাকে।

বিমানবন্দরে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে এসব চেহারা মেলানোর চেষ্টা করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তাই সানগ্লাসে চেহারা ঢেকে রাখলে নিরাপত্তাকর্মীদের সন্দেহ হতে পারে।

হাসিঠাট্টার মাত্রা বজায় রাখুন :
বিমান বন্দরে হাসিঠাট্টার মাত্রা বজায় রাখুন। এখানে অধিকাংশ মানুষই ব্যস্ত। এমন ব্যস্ততার মধ্যে অনেকেই ঠাট্টাকে ভালোভাবে নেবে না। আর নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ঠাট্টা করতে যাওয়ায় হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

ঢাকা, বুধবার, জুন ২১, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৪৪০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন