সর্বশেষ
শুক্রবার ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৬ নভেম্বর ২০১৮

মহাশ্বেতা দেবী'র 'হাজার চুরাশির মা'

শনিবার, জুলাই ৮, ২০১৭

2126827324_1499489416.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
'হাজার চুরাশির মা' হল র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী রচিত একটি বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই উপন্যাসটি রচিত হয়।

কাহিনী সংক্ষেপ:
হাজার চুরাশির মা হল এমন এক মায়ের (সুজাতা) গল্প যার ছেলেকে (ব্রতী) তার আদর্শের জন্য রাষ্ট্র পাশবিকভাবে হত্যা করে। লাশকাটা ঘরে ব্রতীর লাশের নম্বর ছিল ১০৮৪। তা থেকেই উপন্যাসের নামকরণ করা হয়েছে।

‘হাজার চুরাশির মা’-তে ব্রতীর মৃত্যুকে একটা বেদনার চাদরে মুড়ে তার মা সুজাতাকে দিনযাপন করতে দেখা যায়। একদিকে প্রবল কর্তৃত্ববাদী, অন্যদিকে লম্পট স্বামীর বিপরীতে নিজের প্রতিবাদ নিজের মতো করে জারি রেখেছিলেন সুজাতা। তার এই প্রতিবাদের সঙ্গীও ছিল পরিবারের ভেতরে একমাত্র ব্রতী।

ব্রতী সংস্কৃতি চর্চা করতো, কবিতার কাগজ বের করতো, সে নন্দিনী নামের একটি মেয়েকে ভালোবাসত, যে নন্দিনী নিজেও একজন নকশালপন্থী। ব্রতীরা ‘খতমের লাইনে’ কেন চলে গিয়েছিল? কেন তাকে নিশ্চিন্ত আরামের জীবন টানলো না? কেন সে তার শ্রেণির চেয়ে অনেক নিচে থাকা আরো কিছু তরুণের সঙ্গে ভিড়ে গিয়ে সমাজবদলের সশস্ত্র পথ বেছে নিলো? তাদের সঙ্গে সুখি পরিবারের ছেলেরাও ছিল, কিন্তু তারাও প্রাণ দিল। বারবার এই প্রশ্নগুলি সামনে এসেছে।

মহাশ্বেতা এসবের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সমাজের যে ছবিটা হাজির করেন, সেই সমাজটা ভেতরে ভেতরে সমস্ত মূল্যবোধ হারিয়েছে, গলে পচে দুর্গন্ধময় হয়ে গেছে। বাইরে এর চকচকে ভাব থাকলেও ভেতরে ভয়াবহ ক্যান্সার: ‘‘সব যেন কীটদুষ্ট, ব্যাধিদুষ্ট, পচাধরা, গলিত ক্যানসার। মৃত সম্পর্কের জের টেনে মৃত মানুষেরা বেঁচে থাকার ভান করছে।

সুজাতার মনে হল অমিত, নীপা, বলাই, এদের গায়ের কাছে গেলেও বোধহয় শবগন্ধ পাওয়া যাবে। এরা ভ্রুণ থেকেই দুষ্ট, দূষিত, ব্যধিগ্রন্ত। যে সমাজকে ব্রতীরা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল সেই সমাজ বহুজনের ক্ষুধিত অন্ন কেড়ে নিয়ে এদের সযত্নে রাজভোগে লালন করে, বড় করে। সে সমাজ জীবনের অধিকার মৃতদের, জীবিতদের নয়।’’

ফলে ‘হাজার চুরাশির মা’ হয়ে ওঠে একদিকে মৃতের জন্য শোক, অন্যদিকে এই সব চলমান শবদের প্রতি আমর্ম ঘৃণার কাহিনি।

১৯৯৮ সালে গোবিন্দ নিহালনি এই উপন্যাসটি অবলম্বনে হিন্দিতে 'হাজার চৌরাসি কি মা' নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিল।

১৯৯৬ সালে মহাশ্বেতা দেবী এই উপন্যাসটির জন্য জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছিলেন।দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাষ্ট্রপতি নেলসন ম্যান্ডেলা তার হাতে এই পুরস্কারটি তুলে দেন।

ঢাকা, শনিবার, জুলাই ৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ১৪৭৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন