সর্বশেষ
শনিবার ৭ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

তিন মেয়র কি অসহায়

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৭, ২০১৭

1354112977_1501158810.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরী। তিন মেয়রের সদিচ্ছা থাকলেও কী করতে পারেন তারা? জানালেন অসহায়ত্বের কথা।

৪০ বছরের দূষণে সব বিপর্যস্ত: আনিসুল
‘জলাবদ্ধতা কমবে কীভাবে? খাল দিয়ে পানি যাচ্ছে না। ৪০ বছরের বর্জ্য, অপরিকল্পনা, অচল ড্রেন, দখল, দূষণে সবকিছু বিপর্যস্ত হয়ে আছে।’ রাজধানীর জলাবদ্ধতা সম্পর্কে এ কথা বলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।

গতকাল যখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় তখন তিনি মিরপুরের সাংবাদিক কলোনি এলাকায় খালের ওপর দাঁড়িয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ দেখাশোনা করছিলেন।

এ সময় টেলিফোনে তিনি বলেন, 'আমি এর আগে বনানী খালের অবস্থা দেখে এসেছি। আমার মাঝে মাঝে খুব অসহায় বোধ হয়। মনে হয় আমার হাতে যদি একটা জাদুর কাঠি থাকত, তাহলে হয়তো একদিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করা যেত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শত কোটি টাকা দিলেও একদিনে নগরীতে তৈরি হওয়া অজস্র সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য আমরা পরিকল্পনা মতো কাজ করার চেষ্টা করছি। বেশ কিছু জায়গায় সফলতা এসেছে। আমরা দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।'

তিনি আরও বলেন, 'এসব কাজ মেয়রের আওতাভুক্ত নয়। কিন্তু তারপরও আমরা করি। কারণ আমরা জনপ্রতিনিধি, মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছে। সব প্রকল্পের টাকা একবারে পাওয়া যায় না, তাই সব কাজ একসঙ্গে চাইলেও করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে কাজ করে যাচ্ছি। একদিকে ময়লা পরিষ্কার করি, অন্যদিকে ময়লা ফেলে নোংরা করা হয়। তাই সবাইকে নগরের সমস্যা সমাধানে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।'


সমন্বয়হীনতায় হচ্ছে না সমাধান: খোকন
'নগরীতে মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছে অর্ধশতাধিক সেবা সংস্থা। কিন্তু সমন্বয়, নজরদারি এবং জবাবদিহিতার অভাবে মানুষের দুর্ভোগের সমাধান হচ্ছে না।'

কীভাবে ওয়াসার অবহেলায় জলজট তৈরি হয়, সে বর্ণনা দিতে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এ কথা বলেন।

মেয়র আরও বলেন, 'আমি ১২টার দিকে এলাকার জলজটের অবস্থা দেখতে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে গিয়েছি। তখন বৃষ্টি হয়ে পানি জমতে শুরু করেছে। ধানমন্ডি এলাকার পানি সোনারগাঁও হোটেলের পেছনে মেশিন দিয়ে পাম্প করে কল্যাণপুর খালে ফেলে ওয়াসা। কিন্তু ঠিক সময়ে বন্ধ ছিল ওয়াসার পাম্প মেশিন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে হাঁটু পানি হয়ে যায় এলাকাতে। ওয়াসার নজরদারি ও জবাবদিহিতা না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।'

তিনি বলেন, 'আমরা নাজিমুদ্দিন রোডের কাজ শুরু করেছি। এরপর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনামাফিক কাজ শুরু করব। ওয়াসা আমাদের ড্রেনের দায়িত্ব হস্তান্তর করার বিষয়ে বলেছে। কিন্তু ড্রেনের ভিতরে কঠিন ময়লা জমে ড্রেনগুলো দিয়ে পানি যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শুধু ড্রেনের দায়িত্ব নিলে কাজ সম্ভব নয়। এর জনবলসহ সার্বিক বিষয় দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় দিতে হবে। এসব কাজ জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। নইলে এ সমস্যার সমাধানে কাজ করা কঠিন।'


ধারণ ক্ষমতা কমায় জলাবদ্ধতা : নাছির
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, 'প্রাকৃতিক বৈরী আচরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, সমতলে পানির ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরীতে বার বার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন জোয়ারের পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা হচ্ছে।'

চসিক মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তিতে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দিন আরও বলেন, 'জলাবদ্ধতায় নগরবাসী কষ্ট পাচ্ছেন। তা আমি বুঝতে পারছি। তাই সত্যিকার অর্থে এ মুহূর্তে আমিও ভালো নেই।'

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এটি নিরসনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আন্তরিক চেষ্টা থাকলে ক্রমবর্ধমান এ জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব। কেবল পরিকল্পনা আর প্রকল্প নিলে হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে।'

সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় প্রসঙ্গে চসিক মেয়র বলেন, 'সব সংস্থাকে সমন্বয় করতে সরকার একটি পরিপত্র প্রকাশ করেছে। তবে পরিপত্র জারির আগে থেকেই আমি সব সেবা সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি। এর পরও যদি উন্নয়নকাজগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা না যায়, তা দুঃখজনক।'

তিনি বলেন, 'সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে। তারা নিজস্ব গতিতে চলে। ফলে তাদের ওপর বেশি কিছু চাপিয়ে দেওয়ার মতো আইন তো নেই। তবে এজন্য প্রয়োজন মেয়রের হাত শক্তিশালী করা। অথরিটি না থাকলে তো কাজের কাজ কিছুই হবে না। তা ছাড়া সরকারের পরিপত্র মানার জন্য যদি সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বাধ্য করা হয়, তাহলেও হতে পারে।'

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৭, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ৯৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন