সর্বশেষ
রবিবার ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

তাড়াশে হাটে হাটে ধান্ধাবাজির ঘর

রবিবার, জুলাই ৩০, ২০১৭

671996056_1501404442.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শত বর্ষের ঐতিহ্যবাহী হাটে হাটে হাট পেরিফেরি জায়গায় গড়ে উঠছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ধান্ধাবাজির দোকান ঘর। এ সকল ধান্ধাবাজির নির্মাণ করা দোকান ঘরগুলো বছরের পর বছর বন্ধই থাকে। সময় সুযোগ বুঝে প্রভাবশালীরা উচ্চমূল্যে তা বিক্রি করে কামিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা।

জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার শত বছরের পুরানো বিনসাড়া, গুল্টা, রানীরহাট, নওগাঁ, উলিপুর, বারুহাঁস, মাধাইনগরসহ ১০-১২টি হাটের সরকারি জায়গায় অবৈধ দখলে নিয়ে হাট পেরিফেরির জায়গায় প্রভাবশালীরা প্রায় ২ শতাধিক পাকা ও আধাপাকা ধান্ধাবাজির দোকান ঘর নির্মাণ করে বছরের পর বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যদিও হাট পেরিফেরির জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা অবৈধ তারপর ওই ধান্ধাবাজির দোকান ঘর নির্মাণ করার পর সময় সুযোগ বুঝে গোপনে হাত বদল করে লাখ লাখ কামিয়ে নিচ্ছেন ওই সকল প্রভাবশালীরা। ওই সকল দোকান ঘর নির্মাণকারী মালিকেরা কোনো ব্যবসায়ীও নন তারপরও এ ধরনের অবৈধ কাজ করে পার পেলেও দেখার কেউ নেই।

এর ফলে সরকার একদিকে যেমন মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছেন। অন্যদিকে হাটের জায়গা সংকুচিত হয়ে আসায় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের অসুবিধার মধ্য দিয়ে অল্প জায়গার মধ্যে গাদাগাদি করে অথবা রাস্তায় বসে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছে।

সরোজমিনে হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিনসাড়া হাটে ৪৪টি এ ধরনের ধান্ধাবাজির দোকান ঘর রয়েছে। এর মালিক সবাই স্থানীয় প্রভাবশালী। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার সরকারী হাটের পেরিফেরির জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণের পরপরই লাখ লাখ টাকায় কেনাবেচা করে নতুন করে জায়গা ধরার পায়তারাও করছেন। অথচ সপ্তাহে রোববার ও বুধবার বিনসাড়া হাটে এলাকার প্রায় ১০-১৫টি গ্রামের হাজারো ব্যবসায়ী, হাটুরে মানুষের আনাগোনা হয়। তারা হাটের মুল জায়গায় জায়গা না পেয়ে রাস্তায় দোকান পেড়ে বসতে বাধ্য হন।

অনুরুপ উপজেলার উলিপুর হাটের অবস্থা একই রকম। এখানে অবৈধ দোকান ঘর নির্মাণের ফলে মূলহাটের জায়গা ৪ ভাগের ৩ ভাগই ধান্ধাবাজির দোকান ঘরে ভরে উঠছে। থেমে নেই গুল্টা, রানীরহাট, নওগাঁ, বারুহাঁস, মাধাইনগরসহ আরো ১০-১২টি হাটের জায়গা।

উপজেলার বিনসাড়া হাটের ইজারাদার মো. আব্দুস সালাম অভিযোগ করে জানান, দোকানিদের দোকান নিয়ে বসার জায়গা প্রভাবশালীদের দখল করে ৪৪টি ঘর নির্মাণ করায় হাটের বেচাকেনা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এছাড়া রাস্তায় দোকান বসায় হাটের বারের দিনগুলোতে যান বাহন ও হাটুরেদের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।

ওই হাটের ইজারাদার আরো জানান, ওই হাটের প্রকৃত ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালীদের ধান্ধাবাজির ঘরগুলো উচ্ছেদের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

ওই হাটে আসা ভাসমান দোকানদার কোরবানী আলী, সবুর প্রামাণিক, আলতাব হোসেনসহ অনেকেই জানান, উপজেলার অধিকাংশ হাটগুলোতে দোকান নিয়ে বসার জায়গা না থাকায় হাটের রাস্তায় দোকান নিয়ে বসতে হয়।

এছাড়া স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এসকল ঐতিহ্যবাহী হাটগুলোতে পরিকল্পিতভাবে দোকান নির্মাণ ও হাট উন্নয়নের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার মুহাম্মদ মনসূর উদ্দিন বলেন, হাটের পেরিফেরির জায়গায় স্থায়ী দোকান ঘর নির্মাণ করা অবৈধ। যে সকল হাটে সরকারি হাট পেরিফেরি জায়গায় অবৈধভাবে দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা, রবিবার, জুলাই ৩০, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ১০৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন