সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

৯৬ বছরের পুরোনো 'বোস কেবিন'

সোমবার, জুলাই ৩১, ২০১৭

955855220_1501481590.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জে রয়েছে প্রায় ৯৬ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ বোস কেবিন। এই ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অসংখ্য বরেণ্য মানুষের স্মৃতি। এই বোস কেবিনকে এক নামে চেনে নারায়ণগঞ্জসহ বাংলাদেশের অনেক মানুষ।

বোস কেবিনের পথ:
ঢাকা থেকে ফতুল্লা হয়ে নারায়ণগঞ্জ যাওয়া যাবে। আবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে কাঁচপুর সেতুর আগে ‘সাইনবোর্ড’ থেকে ডানের রাস্তা হয়েও নারায়ণগঞ্জ যাওয়া যাবে। চাইলে আপনি রেলগাড়িতেও যেতে পারেন। যেভাবেই হোক নারায়ণগঞ্জ নেমে চেম্বার রোডে এলেই যে কাউকে বললে বোস কেবিন দেখিয়ে দেবে। বোস কেবিনে গিয়ে ভ্রমণজনিত ক্লান্তি মুছে একটু আয়েশ করে বসুন। তারপর খাবারের ফরমাশ দিন। দেখবেন চলে এসেছে বোস কেবিনের গরম গরম মজাদার সব খাবার।

বোস কেবিনের ইতিহাস:
১৯২১ সাল। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু স্টিমারে চেপে নারায়ণগঞ্জ এসে নামলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভুলুবাবু নামের এক চায়ের দোকানদার কড়া ও হালকা লিকারের দুই কেটলি চা বানিয়ে থানায় চলে আসেন। ভুলুবাবু নেতাজির চা-প্রীতির কথা আগে থেকেই জানতেন। নেতাজি চা পান করে খুব প্রশংসা করলেন, সঙ্গে আশীর্বাদ। নেতাজির এমন আশীর্বাদ বিফলে যায়নি। ভুলুবাবুর ছোট্ট সেই চায়ের দোকান দিন দিন খ্যাতি পেয়ে আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বোস কেবিন নামে।

বোস কেবিনের প্রতিষ্ঠাতা নৃপেন চন্দ্র বসু। সবাই তাকে ভুলুবাবু নামে চেনেন। বিক্রমপুরের ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা। ২০ বছর বয়সে জীবিকার সন্ধানে ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জ। সে সময় তিনি নারায়ণগঞ্জের ১ নম্বর রেলগেট এলাকার ফলপট্টিতে ছোট্ট একটি টংঘরে চা-নাশতার দোকান দিয়ে বসেন। সেই শুরু। শুরুর পরপরই টংঘরটি জনপ্রিয় হতে থাকে।

এভাবেই একদিন ভুলুবাবুর টংঘরটি একটি রেস্তোরাঁয় পরিণত হয়। নাম হয়ে যায় নিউ বোস কেবিন। বর্তমানে ভুলুবাবুর নাতি তারক চন্দ্র বসু বোস কেবিনের মূল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শুরু থেকেই বোস কেবিনের খাবারের মান নিয়ে কোনো রকম আপস নেই জানালেন ব্যবস্থাপক সুজিত সাহা।

বোস কেবিনে যারা এসেছেন:
একসময় বোস কেবিনে বিখ্যাত সব ব্যক্তির পায়ের ধূলা পড়েছে। এই বোস কেবিনে চা খেয়েছেন নেতাজি সুভাষ বসু, ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। আরো যাদের পা পড়েছে এই বোস কেবিনে তাদের মধ্যে অন্যতম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

ঐতিহ্যের টানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থেকে শুরু করে শহরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা বোস কেবিনে নিয়মিত আসেন।

খাবারের তালিকা:
নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী বোস কেবিনের কড়া লিকারের চায়ের নামডাক সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। এ চা পান করে প্রশংসা করেছিলেন নেতাজি সুভাষ বসু। কড়া লিকারের সেই চা বড় কাপে পান করতে পারবেন মাত্র ১০ টাকায়। সবসময় এখানে চা পাওয়া যায়। অনেকে এখানে আসে কেবল কাটলেটের স্বাদ নিতে। বোস কেবিনের কাটলেট এক কথায় অসাধারণ।

বোস কেবিনে সকালের নাস্তায় পাওয়া যায় পরোটা, দাম ৫ টাকা। ডাল ও হালুয়া ৮ টাকা। ডিমের ৬ রকমের পদ ছাড়াও খাসি ও মুরগির মাংস।

দুপুর ১২টা থেকে পাওয়া যায় আলুরচপ ১৫ টাকা। পোলাও ৪০ টাকা। মোরগ পোলাও ৮০ টাকা। কারি ৮০ টাকা। চিকেন কাটলেট ৭০ টাকা। এখানে দুপুরে ভাত বিক্রি হয় না।

প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে বোস কেবিন, শুরু থেকেই এই নিয়মে চলছে। ছুটির দিনগুলোতে এখানে তিল ধারণেও জায়গা থাকে না।

ঢাকা, সোমবার, জুলাই ৩১, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৭৯০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন