সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

অ্যাটম বোমাতেও কিছু হয়নি এ গাছের

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১০, ২০১৭

796289229_1502361220.jpeg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
গাছটির নাম জিংগো বা জিংকো। পুরো নাম জিংগো বাইলোবা। গাছটির আরেক নাম মেইডেন হেয়ার। এ গাছের আদি নিবাস হলো চীনে। উদ্ভিদবিজ্ঞানে জিংকোফাইটা বিভাগের গাছ এটি। চীনে এই বিভাগের গাছের ফসিল পাওয়া গেছে ২৭০ মিলিয়ন বছর আগের। উচ্চতায় এ গাছ ১৬০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। শিকড় অনেক নিচে প্রবেশ করে। ঝড়, বাতাস, বরফে ক্ষতি হয় না।

অ্যাটম বোমা বিস্ফোরণেও যার কোনো ক্ষতি হয়নি। ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ৬ ও ৯ আগস্ট এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেই বিস্ফোরণে ক্ষতির পরিমাণ বিশ্বের কারও অজানা নেই। বলতে গেলে সেখানে জীবিত প্রাণীর অস্তিত্ব খুবই কম ছিল। তবে বিস্ফোরণের পর সেখানে একই প্রজাতির ছয়টি গাছ বেঁচে ছিল।

অ্যাটম বোমার আঘাতের পরও বেঁচে যাওয়া গাছটির বংশধরকে ২০১৩ সালের ৬ আগস্ট সুদূর জাপান থেকে নিয়ে এসে রোপণ করা হয় জেনেভায়। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের উদ্যোগে ওই বছর হিরোশিমা দিবস উপলক্ষে তাদের প্রধান কার্যালয় চত্বরে গাছটি রোপণ করা হয়।

এ গাছের পাতার আকৃতি অপূর্ব। পাতার রং সারা বছর সবুজ থাকে, বসন্তকালে দু-তিন সপ্তাহ হলুদ রং ধারণ করে। এ গাছের পাতার নির্যাস ব্যবহারের গবেষণা চলছে। ডিমেনশিয়া, আলঝেইমারস রোগের চিকিৎসায় এ গাছের ব্যবহারের গবেষণায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। পনেরো শতকে চীনে প্রথম ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও জার্মানিতে ওষুধ হিসেবে ১৯৬৫ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ গাছের কাঠে কখনোই পোকামাকড় আক্রমণ করে না। ১ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো গাছও রয়েছে। জাপানের মানুষ টেম্পল হিসেবে শ্রদ্ধা করে পুরোনো এই গাছগুলোকে। এটা টোকিওর অফিশিয়াল গাছ। গাছের পাতা টোকিওর প্রতীক।

এ গাছের বীজের ভেতরের বাদামজাতীয় অংশ চীনে বিয়ে এবং নববর্ষের অনুষ্ঠানে ট্র্যাডিশনাল খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অ্যালার্জিসহ অন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে এ গাছের।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১০, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ২৩২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন