সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

গল্প: নিরাশ্রয়তার আশ্রয় || ইমরান নিলয়

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৪, ২০১৭

57964420_1503592312.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
সেদিনও তার সাথে দেখা হল। সেই চেনা হাসিমুখ। আয়ত দুই চোখে এক পৃথিবী মায়া। কিছুটা গাঢ় শ্যামলাবরণ চেহারা সেই মায়া কমাতে পারে নি, বরং বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে। কারণ মায়ার রঙ শ্যামলা। তার কালো চুলের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ লালচে রেখা দেখা যায়। সবুজ মেহেদীর গুন। গোলগাল মুখটায় অন্যরকম এক স্নিগ্ধতা। কিছু কিছু মুখ থাকে, চোখ থাকে, তাকালে চোখের আরাম হয়। অনেকটা শরতের বিকেলে নদীর পাড়ে হেলান দিয়ে রোদহীন আকাশ দেখার মত। অদ্ভুত একটা ভালোলাগা কাজ করে।

বাইরে তখন শান্ত বিকেল ছিল। রোদগুলো ছায়া হয়ে আসছে। একসময় ছায়ারা রাত হবে। তিনি বসে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। হয়ত কোন খুনের খবর, বা এসিড দিয়ে ঝলসানো তরতাজা তরুণী। এদেশের পেপার পড়লে মনে হয় না খবরের কাগজ পড়ছি, মনে হয় হাতে একটি দুর্দান্ত ক্রাইম থ্রিলার উপন্যাস। এত অল্প পয়সায় প্রতিদিন হাতে আস্ত একটা থ্রিলার উপন্যাস পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। এর পুরো কৃতিত্ব সাংবাদিক আর উপন্যাসের নায়কদের। তাদের পরিশ্রম অস্বীকারের কোন উপায় নেই।

তার চোখের চশমাটা একটু নিচু হয়ে নাক ধরে ঝুলছিল। দেখে মনে হয় যেকোন সময় পড়ে যেতে পারে। খুব মনযোগ দিয়ে কিছু পড়ছিলেন হয়ত। আমার পায়ের শব্দ পেয়ে মুখ তুলে তাকালেন। প্রায় সাথে সাথেই ঠোঁটের কোনে হাসিটুকু ফুটে উঠল। আমি কখনো তাজা গোলাপ ফুটতে দেখি নি। একদিন দেখতে হবে। কারো মুখে হাসি নাকি বাগানের গোলাপ- কোনটার ফোটাটা বেশি সুন্দর, কে জানে।

'কি খবর রাহাত? কেমন আছ?'
'জ্বী আন্টি ভালো। আপনি কেমন আছেন?'
'ভালই আছি'। তার গলা কাচের চুড়ির মত কানে বাজে। 'দুপুরে খেয়েছ?'
'বাসা থেকে খেয়ে আসছি।'
'খাবা আবার?' তার মুখে অমলিন হাসি।
মানুষ কখনো দুইবার ভাত খায় নাকি? সাকিবের আম্মার কথায় আমার হাসি পেয়ে যায়। মুচকি হেসে দুদিকে মাথা নেড়ে দ্রুতপায়ে সাকিবের রুমে ঢুকে যাই। কেউ এত যত্ন করে খাওয়ার কথা বললে ভীষন অস্বস্তি হয় আমার, লজ্জা লজ্জা লাগে।

নানা কারণে প্রায়ই সাকিবের বাসায় যেতাম। মনে মনে সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা। কারণ বিকেল পেরুতেই ওর মায়ের হাতের মজার মজার সব খাবার চলে আসত এ ঘরে। কখনো নুডুলস, নানারকম পিঠা, ফিরনি, হাতে বানানো সিঙ্গাড়া-চপ, কখনো হয়ত কাবাব, তেঁতুলের টকের বাটির সাথে ঝাল ঝাল চটপটি, একমগ ধোঁয়াওঠা চা। মাঝে-সাঝে বাইরে থেকে গরম গরম মোগলাই পরোটা আসত। একজন ভোজনরসিক হিসেবে এই খাদ্যবৈচিত্র্যের প্রতি একরকম টান অনুভব করতাম প্রায়ই। সেই টানেও মাঝে মাঝে ওর বাসায় গিয়ে উপস্থিত হতাম। ছোটকাল থেকেই ভালোমন্দ খাওয়া-খাদ্যের সাথে আমার একটা অন্যরকম সম্পর্ক। কখনো কখনো রাত হয়ে গেলে আন্টি না খেয়ে আসতে দিতেন না।  

আজকে আকাশ জুড়ে কালো মেঘের আনাগোনা। তাদের ছায়ায় রাস্তাঘাট ফ্যাকাসে হয়ে আছে। চারিদিকে একটা থমথমে অবস্থা, মন খারাপের ভাব। আকাশের গুমোট ভাব মানুষজনের মনের ভেতরও জায়গা করে নিয়েছে। তারা গম্ভীর মুখে দ্রুতপায়ে চলছে। যেকোন মূহুর্তে আকাশ ফুটো হয়ে যেতে পারে। সেটা ঘটলে সমূহ বিপদ।

আমার অবশ্য তেমন তাড়া নেই। একসময় বাসায় পৌঁছুলেই চলে। শরীরটা অবশ্য ক্লান্ত লাগছে খানিক। ক্লান্তির কারণটা ঠিক স্পষ্ট না। পরিশ্রমের কাজ বলতে যা বোঝায় তেমন কিছুই করিনি। সব অন্যরাই করেছে। শেষমুহূর্তে শুধু হাত দেওয়া- সাকিবের আম্মাকে ধরে কবরে নামিয়েছিলাম। সেটাও যে খুব পরিশ্রমের কাজ ছিল তা বলা যায় না। তার শরীরটা বেশ ঠাণ্ডা ছিল। সাদা, মোটা কাফনের কাপড়টার উপর থেকেও টের পাওয়া যাচ্ছিল তা। অথচ এখন শরীর ঠান্ডা লাগার কোন কারণ নেই। শীতকাল পেরিয়েছে অনেক আগেই। চারিদিকে এখন ভ্যাপসা গরম।

সাকিবের আম্মা কিছুদিন আগেও আমার বন্ধুর মা ছিলেন। বাসায় গেলে হেসে কথা বলতেন। এটা-সেটা জিজ্ঞেস করতেন। তার হাতের কাবাব খেয়ে কতবার তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছি। অথচ আজ তিনি শুধুই একটা শরীর। প্রাণহীন। মৃতদেহ। ইংরেজীতে ডেডবডি। ইচ্ছে হলেই কোন ছুতায় সাকিবের বাসায় গিয়ে খাবারের জন্য অপেক্ষা করা হবে না আর। কেউ মমতা মাখানো গলায় জিজ্ঞেস করবেনা, 'রাহাত ভাত খাবা?'

জলজ্যান্ত একটা মানুষ নাই হয়ে গেল। দুঃখ লাগার চেয়ে অবাক লাগে বেশি। সবাই কি এভাবে হারিয়ে যায়?

ধিরাজকাকু আমাদের সাথেই থাকতেন। আব্বুর অফিসের পিয়নটাইপ একটা কাজ করতেন। ঠিক বুঝতাম না তখন। তিনি আমার চাঁদ-তারা কার্টুন আঁকা ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে রোজ সকালে স্কুলে দিয়ে আসতেন। ছোট ছোট আঙ্গুল দিয়ে তার খসখসে হাত ধরে থাকতাম আমি। চারিদিকে কত রঙ, কত গল্প। ধিরাজকাকুকে সবসময় প্রশ্ন করতাম। এটা কি, ওটা কেন। কাকু হাসতে হাসতে শুদ্ধ আর আঞ্চলিক ভাষা মিলিয়ে জবাব দিতেন। তার কিছু কিছু কথা যে বড় অদ্ভুত ছিল তা বড় হয়ে বুঝেছি। কাকুকে জিজ্ঞেস করতে যাইনি সেসব আর কখনো। একবার ছুটিতে বাড়ি গিয়ে শুনলাম ধিরাজকাকু মারা গেছেন। সত্যি বলতে কি- খুব একটা কষ্ট পেলাম না, তবে ভেতরটা হু হু করে উঠল কেমন জানি। মনে হল জীবনের অনেকটা সকালের জন্য একা হয়ে গেলাম।

এর অনেকদিন পর একদিন কাকুর সাথে দেখা। আমি তার হাত ধরে স্কুলে যাচ্ছি। তার কাঁধে সেই ব্যাগটা। চাঁদ-তারা, কার্টুন আঁকা। ধিরাজকাকু মাথা নিচু করে হাঁটছেন। আমি তার হাত ধরে আছি। খসখসে একটা হাত। অথচ আমার ধরে থাকতে খুব ভালো লাগছে। এই খসখসে ভাবটার মধ্যে কেমন যেন একটা নির্ভরতা আছে। আমরা হাঁটছিলাম। বড় বাজার পেরিয়ে মসজিদটাকে ডানে রেখে এগিয়ে চলি। চলতে চলতেই স্বপ্নটা একসময় ভেঙ্গে গেল। জেগে দেখি বাইরে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। সেই ভোরে একা একা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। মাঝে মাঝে ভোরের শিশির শুধু ঘাসেই জমে না, চোখেও জমে।

অতনুর সাথে আমার খুব ভাব ছিল। আমরা একসাথে বিকেলে পাখির বাসা খুঁজতে বেরুতাম। অতনুর এটা নেশার মত ছিল। আমাদের ছোট মফস্বল শহরটার পাশের নদীটা, যেটা কিনা এঁকেবেঁকে নীলগঞ্জের দিকে এগিয়ে গেছে, তার পাড় ধরে অনেকদূর চলে যেতাম। আমাদের পকেটভর্তি মার্বেল হাঁটার তালে তালে ঝুম ঝুম করত। যেন পকেটভর্তি শব্দ। কখনো কখনো নদীর ধারের গাছের নিচে বসে পড়তাম। নদীর দিকে চেয়ে চোখ আর শরীর দু'টোরই বেশ আরাম হত। আমরা নদীর ওপারে, নীলগঞ্জেরও পরে কি আছে জানতে চাইতাম। কখনো কখনো অচেনা মানুষদের সামনে পড়ে যেতাম।
তারা জিজ্ঞেস করত, তোমরা কোন এলাকার খোকা?
আমাদের ছোট গ্রাম কিংবা মফস্বলের নাম বলতাম।
- কই যাও?
- নদীর সাথে হাঁটি
তারা কখনো-সখনো হাসত। 'যাও বাড়ি যাও খোকা' বলে হয়ত হাতে তুলে দিত একটুকরা জাম্বুরা কিংবা একফালি তরমুজ। আমরা ফিরে আসতাম। হেলে পড়া দুর্বল সূর্য মাথায় নিয়ে ফিরতাম দু'জন।

একবার আমাদের অতনু মারা গেল। মামাবাড়িতে গিয়েছিল বেড়াতে। জঙ্গলের মাঝে পড়ে ছিল। সাপের কামড়ে মারা গেছে। তার মামারা যখন তার দেহটা খুঁজে পেল, ততক্ষণে সাপটা অতনুর জীবন মুখে নিয়ে অনেক দূরে সরে গেছে। শুধু অতনুর ঘাড়ের কাছে দু'টো ছিদ্র রেখে গেলো। রক্তের ফোঁটা জমে কালচে হয়ে ছিল সেখানটায়।

এই সবই শোনা কথা। আমি আর কখনো অতনুকে দেখিনি। ওকে নাকি ওর নানাবাড়ির পাশে কবর দিয়েছিল, অন্ধকারে। আমি ওর মাকে অনেকবার বলতে চেয়েছিলাম- অতনু অন্ধকার ভয় পায়। তিনি কেন জানি অর্ধেক কথা শুনেই উঠে যেতেন সবসময়, পুরোটা শুনতেন না। আর মাঝে মাঝে আমাকে বুকে চেপে কাঁদতেন। আমি কি করব বুঝতে পারতাম না। অসহায়ের মত চুপ করে থাকতাম। আর অতনুটা যে কেন এখনো আসছে না তা ভেবে ভেবে বিরক্ত হতাম। অতনু আর কখনো আসেনি। ওর হয়ত অন্ধকারের সাথে ভাব হয়ে গিয়েছিল।

ঘাড়ের ওপর জলের ফোঁটাটা আচমকা হুল ফোটালো। শহরের ওপরের আকাশে কালো রঙ চেপে বসেছে। রাস্তাটা প্রায় খালি। সবাই যার যার নিরাপদ আস্তানার দিকে পা বাড়িয়েছে হয়ত। একটা এক পা ভাঙ্গা হলদে নেড়ী কুকুর শুধু রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়াচ্ছে। কি করবে বুঝতে পারছেনা যেন।

চারিদিক কালো হয়ে গেছে। আকাশের ছায়া। এই কালো অশুভ কালো না, এটা অসহায়ত্বের কালো। গম্ভীরমুখো থমথমে বাতাস কঠিন ঝড়ের আভাস দিয়ে যায়। মৃদু হুঙ্কার লাফিয়ে লাফিয়ে পড়ে বুকের উপর। এর মধ্যে বৃষ্টি বেশ বড় বড় ফোটায় পড়তে শুরু করল। তাদের কিছু কিছু আমার চুলের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে হয়ত। একসময় বাসার কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। সবুজ রঙের গেইটটা দেখা যাচ্ছে। একসময়ের উজ্জ্বল সবুজ কালক্রমে কালচে হয়ে গেছে। আধখোলা কপাট। বাতাসের অজুহাতে অস্থিরভাবে জায়গা বদল করছে। একবার ডানে, একবার বাঁয়ে। তারপর আবার ডানে, আবার বাঁয়ে।

**
মনে হচ্ছে অনন্তকাল ধরে বেল চেপে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি। পুরো শরীরের ভার বহনের জন্য দু'টি পা ঠিক যেন যথেষ্ট না। দাঁড়িয়ে থাকতে দুর্বল লাগে।

একসময় দরজা খুলে গেল। দরজা যিনি খুললেন, সেই ভদ্রমহিলাকে আমি চিনি। অনেকদিন ধরেই চিনি, জন্মের পর থেকেই চিনি; মা। সেই চেনা মুখটা। আয়ত দুই চোখে এক পৃথিবী মায়া। কিছুটা গাঢ় শ্যামলাবরণ চেহারা সেই মায়া কমাতে পারে নি, বরং বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে। কারণ মায়ার রঙ শ্যামলা। দুপুররোদের ছায়ার মত একঝলক স্নিগ্ধতা।

ছোটবেলার নিয়ম ছিল- বিকেলবেলা মায়ের সাথে ঘুমাতে হবে। মহাবিরক্তিকর কাজ। নড়া যায় না, চড়া যায় না, আবার ঘুমও আসে না। আমার তখন মন পড়ে থাকে বালুর মাঠে খেলতে থাকা ছেলেদের মাঝে। তবে মা যখন কখনো কখনো গল্প বলতেন, আর আমাদের মাথার ওপরের সিলিংটা তখন আকাশ হয়ে যেত। সেই আকাশে নানারঙের ছবি ফুটে উঠত।

'মা ঐ গল্পটা বল না।'
'কোনটা?'
'রাজপুত্র আর রাক্ষসেরটা'
'এক গল্প আর কতবার শুনবি?' মায়ের কন্ঠে কপট বিরক্তির প্রলেপ।
একজোড়া নাছোড়বান্দা চোখের দিকে চেয়ে নিয়ে মা গল্প শুরু করত। শুনতে শুনতে চোখজুড়ে ঘুম নামত। ঘুমাতে চাইতাম না। প্রাণপণে জেগে থাকার চেষ্টা করতাম। তবু অবাধ্য চোখের পাতা লেগে আসত। যখন চোখ খুলতাম ততক্ষনে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। দূরের মসজিদের আযানের শব্দ। ছোট বুকটা ভয় পেত হয়ত। মাকে খুঁজতাম।

'কিরে দরজায়ই দাঁড়িয়ে থাকবি? ভেতরে আসবি না? সকালে না বলে চলে গেলি। ফোনটাও নিলি না।'
মায়ের ডাকে চমক ভাঙ্গে। সকালে সাকিবের মায়ের মৃত্যুর খবরটা শুনেই বেরিয়ে গিয়েছিলাম। কাউকে কিছু বলে যাওয়া হয় নি।

তারপর আমি আজ অনেক অনেকদিন পর মায়ের চেহারার দিকে ভালো করে তাকালাম। মা-টা বেশ বুড়িয়ে গেছে আগের চেয়ে। বয়স হয়ে যাচ্ছে। মুখের চামড়া শিথিল হয়েছে। চুলগুলো হারাচ্ছে প্রাণ, আগের সেই চকচকে ভাবটা আর নেই। নজর করে দেখলে মাথার এখানে-সেখানে সাদা চুলের চেহারা নজরে পড়ে। তারা যেন অসীম সাহসের সাথে বয়সের প্রাচীনতার ঘোষণা দেয়। শুধু হাসিটা আছে। আগের মতই। অমলিন। কতদিন থাকবে জানি না। মাও একদিন হারিয়ে যাবে। ধিরাজ কাকু, অতনুদের মত। অন্ধকারের সাথে তারও নিশ্চয়ই ভাব হবে। খুব ভাব। জীবনের ভাব।
 
আমি কিছু বললাম না। যদিও আমার বলতে ইচ্ছা হল। মাকে খুব করে জড়িয়ে ধরে বলতে ইচ্ছা করল। মা কখনো চলে না যায়। আমি এখানে একলা থাকতে পারব না। এখনো সন্ধ্যার আযানে আমার অস্থির লাগে। মাকে দেখলে শান্ত লাগে। হাজার সমস্যাতেও তার চেহারাটা দেখে কিছুটা হলেও ভরসা পাই। আরো কথা। অনেক কথা। বলতে ইচ্ছা করে- তোমার হাতের রান্নাছাড়া আমার একদিনও মুখে রুচি হবে না। তুমি বেড়ে না দিলে কিছু খেতে পারব না। প্লিজ মা...
আমাদের সামনে দাঁড়ানো মা তখন ঝাপসা হতে শুরু করেছে। চোখভর্তি হয়ে আসতে চায় সমুদ্রকণায়।

আমাদের তখন ইচ্ছে করে এই দুই পয়সার নষ্ট বুক ছিঁড়ে ফেলে এই মা-টাকে তার ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়ে একলাফে অন্য কোথাও চলে যেতে। আমাদের খুব ইচ্ছা হয়। কিন্তু কিছুই করা হয় না। কিছু বলাও হয় না। বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত ছেলেগুলি এই এক বিপদ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। এদের বুকভর্তি মায়া থাকে। কিন্তু কেউ হয়ত কখনো জানতেই পারে না সেই কথা। আমিও জানতে দিতে চাই না। চোখের সমুদ্র আড়াল করে মায়ের পাশ দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়লাম। চোখসমুদ্রে জোয়ার আসে। চারিদিক ঝাপসা থেকে আরো ঝাপসাতর হয়ে আসছে। খুব তুফানের ইঙ্গিত।

পৃথিবীতে বোকা মানুষ আশ্রয় খোঁজে। হয়ত সারা জীবন ধরেই খোঁজে। কিন্তু কখনো কি খুঁজে পায় সেই আরাধ্য আশ্রয়স্থল? সব হারানোর নামই যখন বেদনা, তখন নিরাশ্রয়তাই যে তার একমাত্র সঙ্গী হবে তাতে আর আশ্চর্য কী। হারিয়েছে বলে কেউ কাঁদে না হয়ত; পেয়েছিলো বলেই কাঁদে।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৪, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // ই নি এই লেখাটি ১১৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন