সর্বশেষ
সোমবার ৯ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রিন্সেস ডায়না: স্কুল শিক্ষিকা থেকে বিশ্ব ব্যক্তিত্ব

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭

571222376_1504639418.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
প্রিন্সেস ডায়নাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছেই নেই। ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লসের স্ত্রী নিজের গুণেই বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়েছিলেন। ফ্যাশন, দাতব্য কর্মকান্ড, মানবতার পক্ষে আন্দোলন প্রভৃতি তাকে এনে দিয়েছিল আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। এছাড়া প্রণয়-ঘটিত ব্যাপারেও তিনি বারবার সংবাদ-মাধ্যমের শিরোনাম হতেন।       

প্রিন্সেস ডায়নার পুরো নাম ডায়না ফ্রান্সেস স্পেন্সার। বিয়ের পরে অবশ্য তার নাম বদলে হয় ‘ডায়না, প্রিন্সেস অব ওয়েলস’। তিনি ১৯৬১ সালের ১ জুলাই ইংল্যান্ডের এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রী হিসেবে তেমন ভাল ছিলেন না তিনি। ও লেভেলে দুইবার ফেল করেন। তবুও তিনি মনোবল হারাননি। ডায়না বিশ্বাস করতেন তার জীবনে ভাল কিছুই আসবে।

বিয়ের আগে ডায়না একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। লন্ডনের পিমলিকো জেলার এ স্কুলে কাজ করার সময় তিনজন মিলে ফ্ল্যাট ভাগাভাগি করে থাকতেন।  

ব্রিটিশ যুবরাজের সাথে যখন ডায়নার প্রথম দেখা হয় তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। মজার ব্যাপার হল, এসময় প্রিন্স চার্লস ডায়নার বড় বোনের সাথে প্রেম করতেন! তাদের প্রেমের ৩ বছরও পেরোয় নি এমন সময় ডায়না চার্লসকে বালমোরাল ক্যাসলে পোলো খেলা অবস্থায় প্রথমবারের মত দেখেন। সেই দেখা থেকেই একে অপরের প্রতি মুগ্ধতার শুরু।

প্রিন্স চার্লস ও ডায়না বিয়ের আগে মাত্র ১৩ বার দেখা করেছিলেন। যখন তাদের প্রেম চলছিল, সেসময় চার্লসকে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। প্রিন্স চার্লস ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ডায়নাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ডায়না সানন্দে তা গ্রহণ করেন। এরপর রূপকথার মত এক বিয়ের আয়োজন হয়। সারাবিশ্বের গণমাধ্যম যেন হামলে পড়ে। বিশ্বের ৭৫০ মিলিয়ন মানুষ তাদের এ বিয়ে উপভোগ করে। সেসময় তাদের বিয়েতে খরচ করা হয়েছিল ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিয়ের পরের বছরই এ দম্পতির ঘরে জন্ম নেন প্রিন্স উইলিয়াম, যিনি বর্তমানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী। এর দুই বছর পর ডায়না ও চার্লসের ঘরে আসেন প্রিন্স হ্যারি।   

প্রিন্স চার্লসের অফিশিয়াল ভ্রমণে তার স্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার কারণে ডায়না আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি তাদের সংসারেও ফাঁটল ধরে। তারা দুজনেই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রিন্স চার্লস তার বর্তমান স্ত্রী ক্যামিলি পার্কার বোওলেসের সাথে গোপনে দেখা করতেন। উল্লেখ্য, ডায়নাকে বিয়ে করার আগে থেকেই পার্কারের সাথে চার্লসের প্রেম ছিল।

১৯৯২ সালে এ দম্পতি আলাদা থাকতে শুরু করেন। প্রিন্সেস ডায়নাই এ খবর সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়।

বিবাহ বিচ্ছেদের আগেও ডায়না নানা রকম সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর এ কাজে তিনি সময় বাড়িয়ে দেন। তিনি এইডস রোগীদের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টির জন্য জন-সচেতনতা সৃষ্টি করেন। ভূমি মাইনের ব্যবহার বন্ধ করতে কাজ করেন, ক্যান্সারের রোগীদের পাশে দাঁড়ান।

এদিকে ডায়নাও বিভিন্ন পুরুষের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮৫ সালে ডায়না পাকিস্থানি হার্ট সার্জন হাসনাত খানের সাথে প্রেমে জড়িয়ে যান। ১৯৯৭ সালে তাদের এ সম্পর্কে ভাঙন দেখা দিলে ডায়না ডোডি আল ফায়েদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ডোডি আল ফায়েদ ছিলেন এক মিশরীয় ধনকুবেরের ছেলে। ১৯৯৭ সালে এ প্রেমিকের সঙ্গে থাকা অবস্থায় প্যারিসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিন্সেস ডায়না নিহত হন।

প্রিন্সেস ডায়নার মৃত্যুতে সারাবিশ্ব স্তব্দ হয়ে যায়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ডায়নাকে জনগণের প্রিন্সেস বলে অভিহিত করেছিলেন। গত ৩১ আগস্ট হয়ে গেল প্রিন্সেস ডায়নার চলে যাওয়ার ২০ বছর।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


ঢাকা, বুধবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৭৮৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন