সর্বশেষ
সোমবার ৯ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী দাবি এক নারীর

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭

495983805_1506035763.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাসিন্দা রহস্যময়ী নারী মাদাম জিজেল ইয়াজ্জি। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নাকি তাকে বিয়ে করেছেন। বিশ্বের ক্ষমতাধর সব ব্যক্তিদের সঙ্গেই তার যোগাযোগ। শুধু তাই নয় শীর্ষ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের পরামর্শদাতাও তিনি।

জিজেল ইয়াজ্জির মুখোমুখি হতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। মার্কিন দৈনিকের হাতে থাকা অসংখ্য অভিযোগের প্রমাণ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে কথা বলবেন বললেও শেষমেশ তা আর হয়নি। তবে মঙ্গলবার এই নারীকে নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বিশ্বের অনেক দেশেই বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে। ৫০ বছর বয়সী জিজেল ইয়াজ্জির দাবি করেছেন, তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি’র গোপন স্ত্রী। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজেরও সাবেক স্ত্রী। এমনকি নিজেকে ইভানকা ট্রাম্পের মেন্টর হিসেবে দাবি করেন। এছাড়া ট্রাম্প-কন্যা ইভাঙ্কার পর হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অফিসটিও তার দখলে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফাত্তাস আল সিসির মধ্যে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও নাকি তিনি করে দিয়েছেন।

এরকম দাবির শেষ নেই তার। তবে হুগো চাভেজ ও সিসির সঙ্গে কবে তার বিয়ে হয়েছে, তা জিজেল জানাননি। এছাড়া হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জিজেল নামে হোয়াইট হাউসে কেউ কাজ করেন না।

জিজেলের অর্থ-সম্পদ নিয়ে তার প্রতিবেশীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন রয়েছে। জিজেলের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অ্যাটর্নির কার্যালয়। ব্যক্তিগত জেট বিমানে চলাচল করা এই নারীর তথ্যগুলো কতটা সঠিক, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

কে এই মাদাম জিজেল: ওয়াশিংটন ছাড়িয়ে মেরিল্যান্ডের চেভি চেজের ৭১৩ নম্বর অভিজাত বহুতল ভবনে থাকতেন। ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে টি-শার্ট বিক্রির বুদ্ধি দুই ব্যক্তিকেই বাতলে দিয়েছিলেন জিজেল! এ থেকে হাতিয়ে নেন কাড়ি কাড়ি ডলার। বব আন্ডারউড আর সাদি, দুই পড়শি পরস্পরকে চিনতেনও না। মাদাম জিজেলের (এই নামে ডাকতেন তাকে) সূত্রেই জানতে পারেন, কী ভাবে প্রতারিত হয়েছেন তারা।

পরিবারের কাছেও জিজেল এক আতঙ্কের নাম। সন্তানেরা তার থেকে দূরে থাকতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। মেরিল্যান্ডের ওই ভবনে কখনো লবি, কখনো লিফটে ‘রূপের’ ছটায় জিজেল আলাপ জমাতেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে। ৫৩ বছরের ববের ৭ বছরের কন্যার সঙ্গে ভাব জমিয়ে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে মাদাম জিজেল ঢুকে পড়েন আন্ডারউড পরিবারে। ববকে বলেছিলেন, জন্ম লেবাননে। ঘুরেছেন সারা বিশ্ব। মাসে আয় রোজগার ২১ লাখ ডলার! সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থাকতে তার কষ্ট হয়। ববের মেয়েকে তাই তার এত পছন্দ!

হুগো চাভেজের সঙ্গে বিয়ের গল্পটা শুনেছিলেন বব-ই। অসুস্থ চাভেজের সঙ্গে কী ভাবে জিজেল কিউবায় যান, সেখানকার চিকিৎসকেরা কী বললেন, সেই গল্পও তিনি বলেন। তার বাকপটুতায় মুগ্ধ হয়ে অনেকে তাকে বিশ্বাস করতেন। বিবাহবিচ্ছেদের পরে সংসারে টানাটানি চলছিল ববের। টি শার্ট বিক্রি করে লাভের গল্প তখনই সামনে এল। ২০১৫-র শেষ দিকে রাজি হলেন বব। দিনে দিনে পুঁজির চাহিদা তুঙ্গে উঠল। গুনে গেঁথে বব দেখছেন, ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি বেরিয়ে গেছে তার। এরপর এ বছর জুনে বব দেখা পান সাদি’র। বৃত্ত পূর্ণ হয় তখনই।

সাদিও স্বপ্ন দেখতেন, বড় বাড়ি, পিএইচডি ডিগ্রির। টি-শার্ট বেচার গল্প শুনে বিনা কাগজে পাঁচ হাজার ডলার জিজেলকে দেন। পরে সাদি গুগলে জানতে পারেন, মাদাম জিজেল আসলে কে। কলম্বিয়ায় বেশ পরিচিত একটা নাম জিজেল। ওখানেই প্রতারণায় হাত পাকে মাদামের। কারাবাসও হয়েছিল। আদালতের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসেন। কলম্বিয়ায় আর ফেরেননি। সে দেশ তাকে চেনে ‘বিখ্যাত ফেরারি’ হিসেবে।

ঢাকা, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জেড ইউ এই লেখাটি ২০২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন