সর্বশেষ
বুধবার ৩০শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৪ নভেম্বর ২০১৮

হীরা এখন আর বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন বস্তু নয়

সোমবার, অক্টোবর ২, ২০১৭

76167391_1506934533.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
এতদনি ধরে জেনে এসেছি হীরা সবচেয়ে কঠিন বস্তু। হীরাই সবচেয়ে কঠিন বস্তু ছিলো, তবে এখন আর নেই। ২০০৯ সাল হতে হীরার এই মুকুট পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকটি বস্তুর শিরে স্থানান্তরিত হয়েছে।

২০০৯ সালে হীরার চেয়ে কঠিন দুটি বস্তু উদ্ভাবিত হয়। উটর্জাইট বোরন নাইট্রাইড এবং লোনসডালেইট। প্রথমটি চাপ দিয়ে খাঁজ তৈরির বিরুদ্ধে হীরার চেয়ে ১৮% বেশি বাধা প্রদর্শন করে। আর দ্বিতীয়টির কৃতিত্ব আরো মারাত্মক। এটি হীরার চেয়ে ৫৮% বেশি প্রতিরোধ দেখায়। অর্থাৎ কিনা লোনসডালেইট হীরার চেয়ে দেড়গুণরও বেশি কঠিন।

দুর্ভাগ্যবশত, এই উভয় বস্তুই প্রকৃতিতে বিরল এবং এগুলোর স্থিতিশীলতাও কম। এই বস্তুগুলোর উদ্ভাবকগণ এদের প্রয়োগ যোগ্যতা উপেক্ষা করে কেবল ‘কাঠিন্য’ পরীক্ষা করে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তাই এই আবিষ্কার অনেকটাই তাত্ত্বিক।

কিন্তু ২০১৩ সালে নেচার সাময়িকীর জানুয়ারি সংখ্যায় কাঠিন্য বিষয়ক আরেকটি রচনা প্রকাশিত হয় যাতে নতুন একটি কাঠিন্যের প্রতিযোগী যুক্ত হয়। এটি বোরন নাইট্রাইডেরই একটি সংস্করণ। গবেষকগণ বোরন নাইট্রাইড কণিকাকে চাপে সংকুচিত করে ‘আলট্রা হার্ড ন্যানো টোয়াইনড কিউবিক বোরন নাইট্রাইড তৈরি করেছেন।’ কণিকাগুলোর সজ্জা পরিবর্তনের মাধ্যমে এদের এই নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে কিউ কার্বন (Q carbon) আবিষ্কৃত হয়। হীরার মতোই এটি কার্বনের আরেকটি রূপভেদ। আবিষ্কারকগণ দাবী করেছেন এটি হীরার চেয়ে ৬০% বেশি কঠিন যদিও এখনো এই দাবীর পক্ষে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা সম্ভব হয় নি। তবে এর কাঠিন্য হীরার চেয়ে কমপক্ষে ২০-৩০% বেশি হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি চুম্বকত্বের দিক থেকে ফেরো-ম্যাগনেটিক, বিদ্যুৎ পরিবাহী এবং নিন্ম শক্তিতে উন্মুক্ত করলে উজ্জ্বলতা প্রদর্শন করে। এই তৈরি করতে খরচ অপেক্ষাকৃত কম হয়।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ হীরার কার্বন পরমাণুগুলোর মধ্যে sp3 বন্ধন থাকলেও কিউ কার্বনে sp2 এবং sp3 এর মিশ্রণ থাকে। ন্যানোসেকেন্ডের লেজার স্পন্দনের মাধ্যমে কার্বনকে গলিত করা হয়। তারপর এটিকে অতিদ্রুত শীতল করলে কিউ কার্বন উৎপন্ন হয়।

এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতার ইলেক্ট্রনিক এবং ফোটনিক যন্ত্রপাতি, উচ্চ গতির মেশিন, গভীর সমুদ্রের ড্রিলিং এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্ণয়-যন্ত্র ইত্যাদি। কিউ কার্বনের নিন্ম ওয়ার্ক ফাংশন এবং ঋণাত্মক ইলেক্ট্রন আসক্তি একে ফিল্ড ইমিশন ডিসপ্লে তৈরির ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ২, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৪১৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন