সর্বশেষ
রবিবার ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজাপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ

সোমবার, অক্টোবর ৯, ২০১৭

135935476_1507534560.jpg
ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাতকাঠি গ্রামের ভাতকাঠি বিদ্যালয় এলাকা থেকে পশ্চিম ভাতকাঠি বালিকা বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা। এবারের বন্যায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বন্যা চলে গেলেও আর সংস্কার করা হয়নি।

গ্রামের এই একটি মাত্র রাস্তা ব্যবহার করে নিত্যদিনের কাজকর্ম করেন পার্শ্ববর্তী আট গ্রামের মানুষ। বন্যায় ভেঙ্গে, কাদা জমে রাস্তাটির অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাই কঠিন। তার মধ্যে গ্রামে কারো অসুখ-বিসুখ হলে তো দুর্দশার শেষ নেই।

এমন অবস্থায় এলাকাবাসী সংস্কারের আশায় চেয়ে চেয়ে দিন কাটিয়েছেন বেশ অনেকদিন। তবে কষ্ট-দুর্দশা তাদের সেই অপেক্ষায় চির ধরিয়েছে। অবশেষে গ্রামবাসী মিলেই লেগে পড়েছেন রাস্তা সংস্কারে।

নিজেদের টাকা দিয়েই ইট বালু ফেলে নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন এলাকাবাসী। এতে প্রায় ১১ লক্ষ টাকার বেশি খরচ পড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

টাকা দিয়ে গ্রামবাসীর এই মহান কাজে সহায়তা করছেন সেচ্ছাসেবী সংগঠন রোটারেক্ট ক্লাব অব ইয়াং প্রিমিয়ার, এলাকার কয়েকজন ধনী সমাজসেবক ও ভাতকাঠি বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এই রাস্তা সংস্কার হলে আশপাশের কাঠাখালি, সত্যনগর, পুটিয়াখালি, উত্তমপুর, সাতআনি ও ভাতকাঠিসহ আট গ্রামের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে বলে জানা গেছে। সেই সাথে আট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে পারবে নির্বিঘ্নে।

রোববার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী ভাতকাঠি সরকারি বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন। এর আগের দশ দিনে তারা পুরো রাস্তা জুড়ে আট ফুট প্রস্থ ও এক ফুট গভীর করে মাটি কেটে রাস্তার ওপর রেখেছেন।

গ্রামের অন্যদের সাথে এ কাজে স্বত্বঃফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থীসহ সকলে। এ কাজ শেষ হলে ভাতকাঠি বালিকা বিদ্যালয়ের পর থেকে আঙ্গারিয়া আলিম মাদ্রাসা পর্যন্ত বাকি কাজও করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

তাদের এ উদ্যোগে সমাজসেবী কুলসুম বেগম সেবু, সেচ্ছাসেবী সংগঠন রোটারেক্ট ক্লাব অব ইয়াং প্রিমিয়ারের সভাপতি রোটা. এ এম আলী হায়দার নাফিজ, সহ-সভাপতি রোটা. আতিকুর রহমান, শিক্ষক আব্দুল জলিল হাওলাদারসহ অনেকেই গ্রামবাসীর সাথে থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ সহায়তা দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজাপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান জানান, প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা হওয়ায় আঙ্গারিয়া থেকে ভাতকাঠির পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত এ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে এই সড়কে মাটি ফেলা হয়েছিল, তবে বর্ষায় কাদা হয়ে ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণের এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রসংশনীয়, এ জন্য তাদের সাধুবাদ জানাই। রাস্তাটিতে ইট সলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করা হবে। সড়কটি পাকা করতে ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। এটি পাস হলে এ দুর্ভোগ লাগব হবে।

ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ৯, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ৫৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন