সর্বশেষ
বুধবার ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

তাড়াশে অকাল অন্ধত্বের কবলে একই পরিবারের ৩ জন

সোমবার, অক্টোবর ৯, ২০১৭

1304018547_1507542319.jpg
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মালশিন গ্রামের মো. আকবার আলী। বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ছেলে-মেয়ে নাতী নিয়ে মোটামুটি সুখেই কাটছিল তার জীবন। তবে সেই সুখ বেশিদিন সয়নি তার কপালে। ধীরে ধীরে তার সুখের ঘরে হানা দেয় নতুন এক রোগ। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই রোগ কেড়ে নেয় তার দুই মেয়ে ও এক ছেলের চোখ। অকালে অন্ধ হয়ে যায় তারা। এতে আকবার আলীর জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠে।

ষাটোর্ধ্ব আকবার আলী পেশায় একজন মেকানিক, হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি সারেন। আর এ দিয়ে কোন রকমে তার পরিবারের ১০ সদস্যের খাবারের ব্যবস্থা করা গেলেও এই রোগের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তার নেই।

দৃষ্টি হারানোর কারণে ইতিমধ্যে তার দুই মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে। তারাও এখন তার পরিবারের অংশ। বড় ছেলে টুটুল (২৭) উপার্জন করে সংসারের হাল ধরার কথা দৃষ্টি হারানোর কারণে সেও এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আকবার আলীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন জানান, জন্মের সময় স্বাভাবিকই ছিল তার সন্তানেরা। তবে জন্মের ৬-৭ পর এরা অল্প অল্প করে দৃষ্টি শক্তি হারাতে থাকে। এক পর্যায়ে এসে বর্তমানে ছেলে-মেয়ে তিন জনই পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি অন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, বড় মেয়ে আফরোজা ও আলিম পড়ুয়া ছোট মেয়ে মাহফুজার বিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দুই মেয়ে প্রায় পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। আর এ কারণে দুই মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে। ফলে তারা এখন বাবার সংসারে। আর স্বামীরা নতুন করে বিয়ে করায় তাদের খোঁজ খবরও নেয় না।

আকবার আলী তার তিন ছেলে-মেয়ের অন্ধত্ব নিয়ে বলেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিন ছেলে মেয়ের দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। স্থানীয়ভাবে হোমিও চিকিৎসা নিলেও কাজ হয়নি। ভালো চিকিৎসা করানোর মত সামর্থ্য আমাদের নেই।

ছোট ছেলে ফারুক বর্তমানে ভালো থাকলেও তাকে নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানান বাবা আকবার আলী। সম্পদ বলতে সরকারি খাস জমির দুই শতাংশ বাড়ির জায়গা ছাড়া আর কিছুই নেই। তার মৃত্যুর পর দৃষ্টিশক্তি হারানো এতগুলো সদস্য নিয়ে পরিবার কীভাবে চলবে এ নিয়ে তার হতাশার শেষ নেই।

ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ৯, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ৭৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন