সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

মহেশখালীতে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১৫

শুক্রবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৭

1980907112_1507904925.jpg
চট্টগ্রাম ব্যুরো :
কক্সবাজারের মহেশখালীর ক্রাইমজোন কালারমারছরা এলাকায় বিনা ওয়ারেন্টে ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সভাপতিকে আটকের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ উত্তাপন করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। পুলিশের দাবি একটি গুলিভর্তি ম্যাগজিন লুট করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর থেকে ম্যাগজিন উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে কালারমারছরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজু আহমদ গাজী বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পর কালারমারছরা পরিষদ এলাকা থেকে তালিকাভূক্ত আসামী গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করেন তারা। এ খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শতাধিক এলাকাবাসী ফাঁড়িতে আক্রমন চালায়। তারা এএসআই অহিদুর রহমানসহ অপর ৪ কনস্টেবলকে প্রহার করে আসামি ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। প্রহারের আঘাতে এএসআইসহ অন্যরা গুরুতর আহত হয়েছে। আত্ম রক্ষার্থে পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায়।

অপরদিকে কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তারেক বিন শরীফ বলেন, গত সপ্তাহে কালারমারছরা ও পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের দু’শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মাঝে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। বিষয়টি সমাধানে ব্যবস্থা নিতে জুমার নামাজের পর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ সভাপতি গোলাম মোস্তফা আমার সাথে পরিষদে বসেন। এমন সময় এসআই রাজু পরিষদে ঢুকে গোলাম মোস্তফাসহ অন্যদের পরিষদ থেকে বের করে দিতে নির্দেশ দেন। তার কথা মতো পরিষদটি বন্ধ করতে সহকারিকে নির্দেশ দিয়ে আমি বাসায় চলে আসি।

এরপরও মোস্তফারা পরিষদ থেকে বের না হওয়ায় পুলিশ ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন আসবাব ভাংচুর করে মোস্তফাকে টেনে-হেচড়ে ফাঁড়িতে নিয়ে যান। দিন দুপুরের ঘটনা হওয়ায় বাজার ও আশপাশের শত শত লোক জমা হয়ে যায়। খবর পেয়ে আমি বাড়ি থেকে দ্রুত ফাঁড়ির উদ্দেশে আসি। সেখানে গিয়ে মোস্তফাকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানতে চাইলেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং আমাকে ফাঁড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আমাকে গুলি করতে নির্দেশ দেন এসআই রাজু। অন্য পুলিশ সদস্যরা নির্দেশ পাওয়া মাত্র গুলি চালালে আমাকে ঘিরে রাখে স্থানীয়রা। তখন সাধারণ জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে এমপি সমর্থিত দলীয় প্রার্থী তার কাছে পরাজয়ের পর থেকে একেকটি ইস্যু বানিয়ে এলাকার পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলছেন তারা। এতে পুলিশকে কৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

এরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হোছাইন ইব্রাহিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম, মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

মহেশখালী থানার ওসি বলেন, সিএনজি-টেম্পু শ্রমিকদের মাঝে সংগঠিত ঘটনায় মামলার আসামি গোলাম মোস্তফাকে আটকের পর এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ৮ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র ম্যাগজিন উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। তবে নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে পুলিশ ব্যবহার হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

ঢাকা, শুক্রবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ৬২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন