সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

আজ বাউল সম্রাট লালন শাহের তিরোধান দিবস

সোমবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৭

1111760520_1508125125.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আজ ১৬ অক্টোবর, পহেলা কার্তিক। বাউল সম্রাট মহামতি ফকির লালন সাঁইজির ১২৭তম তিরোধান দিবস।

এ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব।
 
এবার উৎসবের শিরোনাম করা হয়েছে, 'কে তোমার আর যাবে সাথে।' আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আখড়াবাড়ির মূল আঙিনার বাইরে মরা কালীগঙ্গা নদীর তীরে লালন উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে লালন স্মরণোৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ।  
 
মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণানুষ্ঠান উপলক্ষে লালন একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দলে দলে মানুষ এখন ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ছেঁউড়িয়ায়। সাঁইজির সান্নিধ্য লাভের আশায় তারা ছুটে আসছেন।
 
মহামতি ফকির লালন সাঁইজি। যিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার, গায়ক, বাউল সম্প্রদায়ের গুরু, মানবতাবাদী মনিষী ও লৌকিক ধর্মাচার প্রতিষ্ঠার পুরোধা পুরুষ। তার জন্ম ও ধর্ম নিয়ে আছে বিতর্ক। ফকির লালন সাঁই নিজে তার জন্ম, ধর্ম, জাত-কুল সম্পর্কে কখনো কিছু বলে যাননি। তবে তিনি তার গানে বলেছেন, 'সব লোকে কয় লালন কিজাত সংসারে, ফকির লালন কয় জেতের কিরূপ আমি দেখলাম না দুই নজর' আবার আরেকটি গানে তিনি বলেছেন 'এমন সমাজ কবে-গো সৃজন হবে। যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান জাতি গোত্র নাহি রবে।'
 
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৭৯০ সালে তীর্থ ভ্রমণে বেড়িয়ে পথিমধ্যে গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন লালন। সঙ্গী সাথিরা একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে নদীতে ভেলায় ভাসিয়ে দেন। ভেলা ভাসতে ভাসতে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেউড়িয়া গ্রামে কালীগঙ্গা নদীর তীরে আটকে যায়। এ সময় নদীতে জল আনতে গিয়ে ছেউড়িয়া গ্রামের মতিজান বিবি ভেলায় তীরে আটকে থাকা মৃতবৎ লালনকে দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক তার স্বামী মলম শাহকে বিষয়টি বলেন। তখন মলম শাহ দ্রুত নদী থেকে তুলে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন লালনকে। এরপর দীর্ঘ সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠেন লালন। প্রসঙ্গত, মতিজান বিবি ও মলম শাহ দম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন। পরবর্তীতে লালন তাদের পালক সন্তান হিসেবে ছেউড়িয়াতেই আমৃত্যু বসবাস করেন।  
 
এখানেই চলতে থাকে তার সাধন ভজন। সাধনার মধ্যদিয়ে তিনি মানবতাবাদ, দেহতত্ত্ব ও পারমার্থিক চেতনায় ঋদ্ধ হয়ে লালন সাই বা সাঁইজিতে পরিণত হন। লালনের দর্শনে বিশ্বাসী হয়ে পালক পিতা-মাতা তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

ভক্ত ও পালক পিতা মলম শাহের দানকৃত জমিতে ১৮২৩ সালে লালন সাঁইজি ছেঁউড়িয়ায় গড়ে তোলেন আখড়াবাড়ি। সেসময় লালন দর্শন ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সরাসরি লালনের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ভক্তদের কাছে লালনের গান শুধু সুরে বসানো শব্দমালা নয়। তাদের কাছে লালনের গান জীবন-জিজ্ঞাসার অন্বেষণ। ভক্ত-শিষ্য অনুসারীদের নিয়ে ছেউড়িয়া আখড়াবাড়িতে ফাল্গুনের দোল পূর্ণিমায় লালন সাঁই সাধন ভজনের মধ্যদিয়ে দোল উৎসব উদযাপন করতেন।
 
ছেউড়িয়ায় বসবাসের একশ’ বছর পর ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর পহেলা কার্তিক আখড়াবাড়িতেই ভক্ত-শিষ্যদের উপস্থিতিতে দেহত্যাগ করেন মহামতি ফকির লালন সাঁই।
 
ছেউড়িয়া লালন আখড়া বাড়ির মূল আঙিনায় ফকির লালন সাঁইজিসহ তার সরাসরি শিষ্য ও ভক্তদের সমাধী রয়েছে ৩২টি। মূল মাজারে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ফকির লালন সাঁই ও তার পালক মাতা মতিজান ফকিরানী।
 
তিরোধানের পর থেকে ভক্তরা লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস জাঁক-জমকপূর্ণভাবে পালন করেন। দীর্ঘ দিন ধরে লালন একাডেমির তত্বাবধানে ছেঁউড়িয়ায় বছরে দুটি উৎসব উদযাপিত হয়। ফাল্গুনের তিথিতে দোল উৎসব আর পহেলা কার্তিক লালনের তিরোধান দিবস।

উৎসব দুটি লালন ভক্ত শিষ্য অনুসারির পাশাপাশি লাখো জনতার মিলন মেলায় পরিনত হয়। দেশের নানাপ্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন ছেউড়িয়া আখড়াবাড়িতে। প্রতিবারের মতো এবারও মূল মাজারের বাইরে মরা কালীগঙ্গা নদীর তীরে উৎসব ঘিরে বসেছে গ্রামীণ মেলা।

ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ২৪০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন