সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

সামগ্রিকভাবে দেশের দারিদ্র্য কমেছে: দারিদ্র্য হার ২৪.৩

বুধবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৭

343208345_1508310498.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
দেশের দারিদ্র্য হার ২৪ দশমিক ৩ ভাগে নেমে এসেছে। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে অতি দরিদ্র্য মানুষের হার ১২ দশমিক ৯ ভাগে নেমে এসেছে। পরিবার প্রতি আয় বাড়লেও আয় বৈষম্য কিছুটা বেড়েছে। জীবন যাত্রার মান আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হলেও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ব্যয় জরিপ-২০১৬ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিবিএস ভবনে জরিপের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের মানুষের আয় ও ভোগ বৈষম্য কিছুটা বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পকিল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টক রাজশ্রী এস পালাকার, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
 
‘হাউজ হোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেনডিচার সার্ভে ২০১৬’ প্রকল্পের পরিচালক দিপঙ্কর রায় নতুন জরিপের প্রাথমিক তথ্য উপস্থাপন করেন। প্রকল্পের পরিচালক দিপঙ্কর রায় উল্লেখ করেন, দেশে দারিদ্র্য হার দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৩ ভাগে। গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৪ ভাগ এবং শহরাঞ্চলে এই হার ১৮ দশমিক ৯ ভাগ। ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে দরিদ্র্য মানুষের এই হার ছিলো ৩১ দশমিক ৫ ভাগ। সে সময় গ্রামীণ অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার ছিলো ৩৫ দশমিক ২ ভাগ এবং শহরাঞ্চলে এই হার ছিলো ২১ দশমিক ৩ ভাগ।

অন্যান্য সূচক :
সর্বশেষ জরিপের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে দেশে ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ পাকা বাড়ি, যা ২০১০ সালে ছিল ২৫ দশমিক ১২ শতাংশ।

# ২০১০ সালে  টিন ও কাঠের বাড়ি ছিল ৩৮ দশমিক ৪৬ ভাগ, ২০১৬ সালে এসে বেড়ে হয়েছে ৪৯ দশমিক ১২ ভাগ।

# ২০১০ সালে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে এমন পরিবার ছিল ৫৫ দশমিক ২৬ ভাগ। ২০১৬ সালে বিদ্যুতের এই হার ৭৫ দশমিক ৯২ ভাগে উন্নীত হয়েছে।

# ২০১০ সালে স্বাক্ষরতার হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯ ভাগ, ২০১৬ সালে এই হার বেড়ে হয়েছে ৬৫ দশমিক ৬ ভাগ।

# সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে উপকারভোগী ২০১০ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৬ ভাগ, ২০১৬ সালে তা ২৮ দশমিক ৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে।

# ২০১০ সালে দেশে অক্ষম লোকের হার ছিল ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে।

# ২০১০ সালে ৩২ শতাংশ মানুষ ছিল ঋণগ্রস্ত, ২০১৬ সালে এ হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশে।

তিনি আরো জানান, প্রতি পাঁচ বছর পর পর খানার আয় ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য পেতে এ ধরনের জরিপ করা হয়। এবারের জরিপে নমুনা আকার বাড়ানো হয়েছে। ২০১৬ সালে খাদ্য বহির্ভূত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৩০ শতাংশে, যা ২০১০ সালে ছিল ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১৬ এই সময়ে মানুষের আয়ের মাঝে যে বৈষম্য ছিলো সেটি অল্প হলেও বেড়েছে। তাছাড়া সাধারণ মানুষের খাদ্য বহির্ভূত খাতে ব্যয় আগের চেয়ে বেড়েছে।

গ্রামে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে বেশি :

প্রতিটি পরিবারের আয় যেমন বেড়েছে, খরচও বেড়েছে। বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। ছয় বছরের ব্যবধানে মাসিক গড় আয় বেড়েছে ৪ হাজার ৪৬৬ টাকা। সার্বিকভাবে শহরের একটি পরিবার এখন গ্রামের আরেকটি পরিবারের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি আয় করে। শহরের পরিবারের গড় আয় ২২ হাজার ৫৬৫ টাকা, গ্রামের পরিবারের আয় ১৩ হাজার ৩৫৩ টাকা।

বিবিএস প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্রামের একটি পরিবার মাসে যত আয় করে, এর চেয়ে বেশি খরচ করে। গ্রামের পরিবার মাসে গড়ে ১৪ হাজার ১৫৬ টাকা ব্যয় করে, যা আয়ের চেয়ে ৮০৩ টাকা বেশি। শহরের পরিবারের গড় খরচ ১৯ হাজার ৬৯৭ টাকা। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে একটি পরিবারকে সংসার চালাতে মাসে গড়ে ১৫ হাজার ৯১৫ টাকা খরচ করতেই হয়।
 
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিবেদনে ভালো খবরটি হলো দেশে দারিদ্র্য হার কমছে। কিন্তু খারাপ খবরটি হলো ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যে হারে দারিদ্র্য হার কমেছিলো এখন সেটি ধীর হয়েছে। তাছাড়া আয় ভোগের ক্ষেত্রে ব্যবধান কিছুটা হলেও বেড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরণের তথ্য নীতি নির্ধারকদের জন্য উপযোগী হবে।
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সালে দেশে ৪০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করতো। এই হার ২০১০ সালে কমে হয়েছে ৩১ দশমিক ৫ ভাগ। অন্যদিকে ২০১৬ সালে এই হার কমে হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ ভাগ। সে হিসাবে দারিদ্র্য হার কমার গতি ধীর হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের ভাত, আটা খাওয়ার পরিমাণ কমেছে এটি ভালো খবর। তাছাড়া সবজি খাওয়া বেড়েছে এবং ডিম গ্রহণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশে হতদরিদ্রের হার ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এই হার ১৬ শতাংশ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির কারণেই দারিদ্র্য কমছে।

বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পালালকার বলেন, ২০০০ সালের পর থেকে এই পর্যন্ত বাংলাদেশ দারিদ্র্য অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, যা একটি বিরাট সাফল্য। তখন প্রতি দুজনে একজন গরিব মানুষ ছিল। কত মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠল, নীতিনির্ধারণের জন্য তা জানা দরকার।

ঢাকা, বুধবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ১০৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন