সর্বশেষ
রবিবার ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফার্মেসি মালিকই এখন ডাক্তার

বুধবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৭

1792045594_1508326266.jpg
আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ চৌরাস্তার শহীদ মাজহারুল মুনীর সড়কের পাশে হাওলাদার মার্কেট। এখানে গিয়ে আশপাশে থাকালেই চোখে পড়বে ‘মেডিসিন হাউজ’ নামে একটি ফার্মেসি। এটির মালিক স্থানীয় প্রমিলেন্দু দাশ।

ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র দেখে ওষুধ বিক্রি করেন তিনি। ডাক্তারি সনদ না থাকলেওে ওষুধ বিক্রির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে তিনি নিজেই হয়ে ওঠেছেন ডাক্তার। ছোটখাটো রোগের চিকিৎসা থেকে সময়ের সাথে সাথে এখন শিশুরোগ থেকে শুরু করে নবজাতক, শিশু ও কিশোর, মেডিসিন, গ্যাস্ট্রিক, হার্ট, লিভার, ডায়াবেটিস, বাত ব্যথাসহ প্রায় সব রোগের চিকিৎসাই করে থাকেন প্রমিলেন্দু দাশ। সেই হিসেবেই ছাপিয়েছেন ব্যবস্থাপত্রের প্যাড। পরিচয়ের জায়গায় লিখতে শুরু করেন ডাক্তার।

এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে ডাক্তার হিসেবেই জানে। রোগী প্রতি ফি ধার্য করেছেন একশ টাকা, আর পুরাতন রোগী হলে সেক্ষেত্রে পঞ্চাশ টাকা। পাশাপাশি রোগী দেখার সময় উল্লেখ করে সাইনবোর্ডও লাগিয়েছেন। সেখানে লেখা আছে-প্রতিদিন সকাল ৮ থেকে দুপুর ১২ টা এবং বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত রোগী দেখেন তিনি।

জানা গেছে, এই এলাকায় প্রমিলেন্দু দাশের মতো আরো অনেক ডাক্তারই রয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ভুয়া ডাক্তারকে আটক করে সাজা দেয়। এমন সংবাদ আশেপাশে ছড়িয়ে পড়লে চতুরতার আশ্রয় নেন প্রমিলেন্দু দাশ। এবার তিনি ব্যবস্থা পত্রে সরাসরি ডাক্তার না লিখে প্রোপ্রাইটর শব্দ ব্যবহার করা শুরু করেন।

গত রোববার সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ গ্রামের জহির-সুমি দম্পতি তাদের ছয় মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে আসেন ডাক্তার প্রমিলেন্দু দাশের কাছে। তারা বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের শিশুকন্যার জ্বর দেখা দিলে ডাক্তার প্রমিলেন্দু দাশের কাছে নিয়ে এলে তিনি একশ টাকা ফি নিয়ে তিনটি সিরাপ লিখে দেন। এতে জ্বর ভাল না হওয়ায় আজ আবার আসছি। এবার তিনি পঞ্চাশ টাকা নিয়ে আরো তিনটি সিরাপ দিয়েছেন।
 
আন্ধারমানি গ্রাম থেকে এক বছর বয়সী শিশু পুত্রকে নিয়ে এসেছেন ফারুক। তিনি জানান, বাচ্ছাটার সর্দি জ্বর, ডাক্তারবাবু তাকে দুই থেকে তিন মিনিট দেখে তিন ফাইল ওষুধ দিয়ে দিয়েছেন। বললেন সাতদিন পর আবার নিয়ে আসবেন।

চৌরাস্তা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কুন্ডুল বাবু জানালেন, তিনমাস পূর্বে তার ৭ বছরের মেয়ে উলমি পালের কান ব্যাথা হয়েছিল। তখন তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন ডাক্তার প্রমিলেন্দু দাশের কাছে। প্রথমে এক সপ্তাহের ওষুধ দেন। এতে কাজ হওয়ায় পরে দেন আরো পাঁচ দিনের ওষুধ পাশাপাশি কান অপারেশন করতে হবে বলে জানিয়ে দেন। পরে আমি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ৫ টাকার একটি টিকেট কেটে ডাক্তার দেখালে একটি ড্রপ ও চারটি ট্যাবলেট দেয়। এতেই আমার মেয়ে ভালো হয়ে যায়।

তবে প্রমিলেন্দু দাশ বলেন, এক সময় আমি ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তার ব্যবহার করতাম। যেদিন থেকে সরকার নিষেধ করেছে, সেদিন থেকে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করি না। বর্তমানে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র লেখি। কেউ একশ বা দুইশ টাকা দেয়, অনেকে আবার দেয় না।

এ প্রসঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল-সার্জন ডা. মোস্তাফা খালেদ বলেন, এমবিবিএস ছাড়া কেউ ব্যবস্থাপত্র লেখতে পারে না। যারা লেখেন তারা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও অবৈধভাবে এসব করে সমাজের সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করেন। যেসব পল্লী-চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তার লেখেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ঢাকা, বুধবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ২১৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন