সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

লাল কাপড়ে বিরিয়ানির হাঁড়ি ঢেকে রাখার রহস্য!

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৭

1322480096_1508395894.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
দেশের বড় বড় শহরগুলোতে রাস্তার পাশে লক্ষ্য করলে দেখা যায় লাল শালু জড়ানো একটা বড় হাঁড়ি। এটুকু থাকলেই যথেষ্ট। ওটাই চেনা বামুনের পইতে। লাল শালু দেখে বিরিয়ানিপ্রেমীরা ছুটবেন খাবার খেতে, এমনটাই কি মনে করেন পরিবেশকরা?

বিরিয়ানির প্রথম প্রচলন হয় দিল্লিতে মোগলাই এবং অওধি ক্যুইজিন হিসেবে। কিন্তু বাঙালির মন জয় করতে এই পদের বেশি সময় লাগেনি। আর এখন মফ্সসল হোক কি শহর বিরিয়ানির দোকান সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। চিকেন বিরিয়ানি, মটন বিরিয়ানি, আন্ডা বিরিয়ানি, আলু বিরিয়ানি বা ভেজ বিরিয়ানি— বিরিয়ানির প্রকারভেদ রয়েছে পছন্দ অনুযায়ী। তবে কোনোদিন কী ভেবে দেখেছেন, কেন বিরিয়ানির ডেকচি লাল-কাপড়ে ঢাকা থাকে?

সহজভাবে চিন্তা করে দেখুন যখন বিদেশি অতিথি আসেন তখন তাকে কেন লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়? নীল বা হলুদ নয় কেন? বিরিয়ানি, হালিমের ডেগেই বা লাল কাপড় কেন? কালো বা চকমকে মখমল বা দামি কারুকাজ কাপড়ও তো ব্যবহার করা যায়? পান ও পনিরওয়ালারাও এই লাল শালু ব্যবহার করেন কেন?

কারণ মানুষের ভাষার মতো রং এরও কিছু নিজস্ব ভাষা আছে। আপনার চিন্তায় কিন্তু রং প্রভাব রাখে। তাই নয় কি? তেমনি পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই রংয়ের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও ব্যবহার রয়েছে। পতাকাগুলো দেখুন, বেশির ভাগ ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর পতাকার রঙ সবুজ ও সাদা। কেন? কারণ সবুজকে শান্তি আর সাদাকে স্বচ্ছন্দতা ও শুদ্ধতার প্রতীক বলে মনে করা হয়। তেমনই লাল রংয়ের ব্যবহার একেক দেশে ভিন্ন ভিন্ন।

কোনো দেশে লাল শৌর্য, আক্রমণ, বিপদ অর্থে ব্যবহার হয়। যেমন, যুদ্ধে লাল নিশানা সৈন্যদের নির্দেশনা দান করত শত্রুর মোকাবিলায়। আবার দেখুন ট্রেনের বা রাস্তার সিগনাল। শুধু কি তাই! মাঠে ফুটবল রেফারীও কিন্তু প্রথমে সতর্কতা হিসাবে হলুদ পরে বিপদজনক আচরণের জন্য লাল কার্ড ব্যবহার করেন।

তবে লাল রংকে সাধারণত ধরা হয় সৌভাগ্য, উষ্ণতার, আনন্দ-উৎসব ও ভালবাসার আবেগের প্রতীক হিসেবে। হৃদয়ের রং কী? শুধু তাই নয়, উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রকাশের ক্ষেত্রেও হৃদয়ের লাল রং ব্যবহার হয়।

গোড়ার দিকের মুঘল শাসকরা ছিলেন পারস্য সংস্কৃতি প্রভাবিত। তারা তাদের জীবনে এই ধারা অনুকরণ করতেন। সম্রাট হুমায়ুন হলেন এর পথপ্রদর্শক। কারণ তিনি যখন রাজ্য হারিয়ে ইরানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন তাকে পারস্য সম্রাট সেই লালগালিচার উষ্ণ অভ্যর্থনাই দিয়েছিলেন। খাদ্য পরিবেশনে দরবারি রীতিগুলো- রুপোলি পাত্রের খাবারগুলোর জন্য লাল কাপড় আর ধাতব ও চিনামাটির জন্য সাদা কাপড় দিয়ে ডেকে নিয়ে আসা হতো। যা মুঘলরাও তাদের দরবারে চালু করেন। শুধু তাই নয় সম্মানিত ব্যক্তি বা আধ্যাত্মিক সাধকদের জন্য ছিল লাল পাগড়ির ব্যবস্থা।

বিরিয়ানি ভারতে পা রাখে মুঘল আমলে। খাদ্য পরিবেশনে এই প্রথা ও রঙের ব্যবহার শহর লখনউয়ের নবাবরাও অনুসরণ করতেন। সমাজ জীবনে তাই অভিজাত্য, বনেদি, উষ্ণতা প্রকাশে লাল বা লাল শালুর ব্যবহার চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় বিরিয়ানির হাড়ি গুলোতে এখনও শোভা পায় লালশালু বা লাল রংয়ের কাপড়।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৫৭৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন