সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

লক্ষ্মীপুরে ভাঙনের মুখে বাজার-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭

428335198_1508740197.jpg
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
বৃষ্টি ও জমে থাকা পানি সরতেই লক্ষ্মীপুরের রহমতখালি নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে মজু চৌধুরীর হাটসহ মৎস্য ঘের, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ভাঙন হুমকিতে।

ভাঙনে সবচেয়ে বেশি প্রকট আকার ধারণ করছে সদর উপজেলার রহমতখালী নদী ও ওয়াপদার খালটি। এদিকে রহমত খালী নদী ভাঙনে ৫’শ একর জমি নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।

মেঘনার তীর রক্ষাসহ রহমতখালী নদী ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টিতে জমে থাকা পানি দ্রুত সরতে গিয়ে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর হয়ে রহমতখালী নদী দিয়ে প্রবল বেগে স্রোতের কারণে এ ভাঙন। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে পাথর বাঁধ দেয়া হলে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব।

জানা গেছে, নোয়াখালী-কুমিল্লা জেলার একমাত্র পানি সরবরাহের পথ লক্ষ্মীপুরের রহমতখালী নদীটি। বৃষ্টি ও জমে থাকা পানি সরতেই প্রবল স্রোতে রহমতখালী নদীর ভাঙন দেখা দেয়। এতে সদর উপজেলার মেঘনার সংযোগ রহমতখালী নদী ও ওয়াপদাখালের আইয়ুব আলীর পোল থেকে মজু চৌধুরীর হাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের চররমনী মোহন, কালিরচর এলাকাসহ দশ কিলোমিটার ভাঙনের মুখে পড়ে।

ইতিমধ্যে ৫শ' হেক্টর জমি বিলীন হয়েছে। ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও গাছপালা। এসব এলাকার প্রায় কয়েক হাজার পরিবার ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে বহু মানুষ। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়ি বাঁধ ভাঙনের ফলে পানি নিষ্কাশনের রেগুলেটর বর্তমানে ভাঙন হুমকিতে।

স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের ছাত্রী সালমা আক্তার। তিনি বলেন, আমাদের কালির চর এলাকায় ব্র্যাকের দুটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসাসহ দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখানকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সদর উপজেলার কালির চর গ্রামের ভাঙনের শিকার শামছুল হক, তাজুল ইসলাম, শফিক উল্লাহ্সহ অনেকেই জানান, কিছুদিন আগে রহমতখালী নদীর পানি কম ছিল, তখনই ভাঙন শুরু হয়। বিষয়টি আমরা লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীসহ স্থানীয় এমপিকেও জানিয়েছি।

একই এলাকার এডভোকেট হারুন অর রশিদ জানান, ‘কয়েক বছর ধরে কালির চরএলাকায় ভাঙন চলছে। এতে শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারা হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে দরখাস্ত দেয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিনিময়ে মিলেছে শুধু প্রতিশ্রুতি।

সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়াল জানান, লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য এক সময় রহমতখালী নদী ছিল জমে থাকা পানি সরানোর রহমত। এখন তিন জেলার পানি সরতে গিয়ে ভাঙনের ফলে এটি অভিশাপে পরিণত হয়েছে। পানি সরতেই স্রোতের তোড়ে ভাঙছে বাড়ি-ঘরসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজি ইয়ার আলী জানান, কুমিল্লা, লাকসাম, নোয়াখালীর পানি লক্ষ্মীপুর রহমতখালী নদী হয়ে মজু চৌধুরীর হাট ও মেঘনা নদীতে প্রবাহিত হয়। মজু চৌধুরীর হাট এলাকার বেড়ি বাঁধসহ টুমচর, কালির চর এলাকা ভাঙন রোধে ইতিমধ্যে প্রকল্প দেখানো হয়েছে। প্রকল্প পেলে কাজ শুরু করা হবে।

ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ১৮১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন