সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২০ নভেম্বর ২০১৮

দক্ষিনাঞ্চলে ধরা পড়ছে লক্ষ লক্ষ ডিমওয়ালা ইলিশ!

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৭

1085754091_1508859415.jpg
এম মিরাজ হোসাইন, বরিশাল :
বরিশাল তথা দক্ষিনাঞ্চলের নদ-নদী আর সাগর মোহনায় ধরা পড়ছে লক্ষ লক্ষ ডিমওয়ালা মা ইলিশ। ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়।

বরিশাল পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে আসা হাজার হাজার মন ইলিশের প্রায় প্রতিটিতেই পাওয়া যাচ্ছে ডিম। এই অবস্থায় প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা কোন কাজে আসলো কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন মৎস্য আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীদের। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রজনন মৌসুম পরিবর্তিত হলেও মৎস্য বিভাগ তথা সরকারের মৌসুম নির্ধারনে ভুলের কারনেই হয়তো ঘটছে এমন ঘটনা। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ মৎস্য বিভাগ। তাদের মতে, এমন ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রজনন মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে ইলিশের পেটে কিছু ডিম থাকতেই পারে।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বরিশালের নদ-নদীতে আবারো শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার ব্যস্ততা। রোববার রাত থেকেই ইলিশ ধরা শুরু করেন জেলেরা। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় এখন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। মোকামে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিপুল সমাগম।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ের শেষ দিন রোববার রাতেও বরিশালে অবৈধ ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ ও নৌ পুলিশ। অভিযানে ৪৫জন জেলেকে আটকের পাশাপাশি জব্দ করা হয় ৩ লাখ ১৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২ মণ ইলিশ।

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হওয়ার এক রাত পার হতে না হতেই বরিশাল বাজারে উঠেছে প্রচুর ইলিশ। বড় ইলিশের পাশাপাশি রয়েছে ছোট আকারের ইলিশও। তবে সব মাছের মধ্যেই রয়েছে ডিম। বরিশাল ইলিশ মোকামে গতকাল মঙ্গলবার কেজির ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা, এলসি মাছ বিক্রি হয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ও জাটকা ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা দরে মন প্রতি।

মৎস্য শ্রমিক মো. সুমন, সেলিম বলেন, সাধারনত ভরা মৌসুমেও দৈনিক ৫/৬শ’ মন’র বেশী ইলিশ আসেনা দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশের মোকাম বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডে। কিন্তু সেখানে একদিনেই ৩ থেকে ৪ হাজার মন ইলিশ আসছে। পরিস্থিতি এমন যে এতো ইলিশ রাখার মতো কোন জায়গা পর্যন্ত নেই এখানে। সেলিম ও সুমন বলেন, নদী আর পানিতে সমান এই যে বিপুল পরিমান ইলিশ ধরা পড়ে এখন মোকামে আসছে তার সবগুলোর পেটেই রয়েছে ডিম। ধরা পড়া হাজার হাজার মন ইলিশের মধ্যে পেটে ডিম নেই এমন ইলিশ খুজে পাওয়া মুশকিল।

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে যে ডিম ওয়ালা ইলিশই যদি ধরা পড়লো তাহলে কি লাভ হল এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায়? তবে কি এই অভিযান ব্যর্থ। এ বিষয়ে মোকামের আড়ৎদার মো. খলিলুর রহমান জানান, এমন পরিস্থিতি যে এবারই প্রথম তা নয়। এর আগেও প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা পেরুনোর পর দেশের নদ নদী আর সমুদ্র মোহনায় ধরা পড়েছে লক্ষ লক্ষ মন ডিমওয়ালা ইলিশ। প্রথম দিকে প্রজনন মৌসুমে ৭ দিন বন্ধ রাখা হত ইলিশ শিকার। পরবর্তিতে গ্রহ নক্ষত্র আর অমাবষ্যা পূর্নিমার হিসেব কষে ১০/১২/১৫ এবং ২০’র পর এবার ২২ দিন বন্ধ রাখা হল ইলিশ শিকার। তারপরও নদী সাগরে ডিম ওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ার প্রেক্ষিতে মৎস্য বিভাগ তথা সরকারের প্রজনন মৌসুমের সময়কাল নির্ধারন নিয়েই এখন সৃষ্টি হয়ে প্রশ্নের।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. জহির সিকদার বলেন, ইলিশ রক্ষায় বছর জুড়েই নানা আয়োজন থাকে সরকারের। মৎস্যজীবি জেলে এবং ব্যবসায়ীরাও স্বতস্ফুর্তভাবে সমর্থন দেয় সেসব আয়োজনে। কিন্তু মৌসুম নির্ধারনের ভুলে সেই আয়োজন যদি ব্যর্থ হয় তাহলে শেষ পর্যন্ত কি সত্যি সত্যি রক্ষা করা যাবে ইলিশ? এটাই এখন প্রশ্ন সর্বস্তরের সাধারন মানুষের।

বিষয়টি সর্ম্পকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আলাপকালে বরিশাল জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা (হিলসা) বিমল চন্দ্র দাস জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ই লক্ষ্য করা গেছে নদীতে প্রচুর ইলিশের উপস্থিতি। তাই প্রচুর ইলিশ পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলিশ মূলত একবারে শতভাগ ডিম ছাড়ে না। ৬টি অমাব্যস্যা-পূর্ণিমায় এরা ভাগ ভাগ করে ডিম ছাড়ে। আমরা মূলতঃ মূখ্য একটি অমাবস্যা-পূর্ণিমায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি, আর এতে যে পরিমান ডিম ছেড়েছে ইলিশ তাতে চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে। বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশ থাকতে পারে তবে এর পরিমান নগন্য।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বাজারে অনেক ইলিশ ধরা পড়ছে। এটা দেশবাসীর জন্য খুশির সংবাদ। তবে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরার পড়ার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। যদি এমন হয় এই বিষয়ে নতুন করে গবেষনার পর সময় পরিবর্তন করতে হবে তবে সেটাই করবে মৎস্য বিভাগ। জলবায়ু পরির্বতনের বিষয়টি আমা দেরও মাথায় রয়েছে।

ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জেড ইউ এই লেখাটি ৩৪৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন