সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভরা মৌসুমে চট্টগ্রামে মিলছেনা ইলিশ

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৭

69180492_1509445281.jpg
কে.এম জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো :
চলছে ইলিশের মৌসুম, জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালী ইলিশ। জেলেদের মুখে হাসির ঝিলিক। এ বাক্যটি সত্য হলেও চট্টগ্রামে ইলিশ ধরায় দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। ভরা মৌসুমেও আশানুরূপ দেখা মিলছে না রুপালি ইলিশের। মাছ না পাওয়ায় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে জেলে পরিবার। হাহাকার চলছে জেলেপাড়া ও আড়তগুলোতে। অভাব অনটন আর চরম হতাশার মধ্যে দিনযাপন করছে জেলে পরিবারগুলো। সাগরে জাল ফেলে মনএক ইলিশের দেখা মিললেও আশানুরূপ ইলিশ ধরা না পড়ায় আড়ত ও জেলেদের মাঝে নেমে এসেছে হতাশা। তবে মৎস্যবিজ্ঞানিরা বলছেন, সহসাই সাগর থেকে ইলিশের ঝাঁক মোহনা এবং নদীর দিকে ছুটে আসবে। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইলিশ পট্টি সদরঘাট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম মৎস্য বিপনন কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শামসুল আলম বলেন, ইলিশকে ঘিরেই এখানকার জেলে এবং আড়তদারদের জীবন ও জীবিকার চাকা ঘুরছে। আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় জেলে এবং আড়তদারদের পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, নিষেজ্ঞার পর শুরুতে কয়েকদিন মাছ ধরা পড়ছিল। এর পরের সপ্তাহে থেকে আর ইলিশ ধরা পড়ছেনা। তবে ৫ থেকে ৬ দিন পর আর্তি পূর্ণিমার সময় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আড়তদার মো. ওসমান গণি বলেন, বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। কিন্তু এ মৌসুমের শুরুতে দুই তিনদিন ইলিশ ধরা পড়লেও এ সপ্তাহে জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। সারাদিন জাল বেয়ে খরচের টাকা উঠছে না। সাগরে জাল ফেলে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। তিনি বলেন, আড়তদাররা ইলিশের ওপর নির্ভর করে জেলেদের মাঝে কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু তাদের চোখে এখন বিষাদের ছোঁয়া।

আড়তদার মো. আলী আকবর বলেন, গেলবার দৈনিক প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ মন মণ ইলিশ ধরা পড়তো। সে তুলনায় বর্তমানে ইলিশের মৌসুমে মাত্র ৪ থেকে ৫ মণ মাছ নিয়ে জেলেরা ঘাটে আসছে। তিনি বলেন, বাজারে ছোট ইলিশ মণপ্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা এবং মাঝারি সাইজের ইলিশ মণপ্রতি ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কয়েকদিন পর আড়তদার ও জেলেদের হতাশা কাটতে পারে।

খুচরা বিক্রেতা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এ মৌসুমে তেমন ইলিশের দেখা মিলছেনা। পূর্বে যেভাবে ইলিশ পাওয়া যেত এবার ধরা পড়ছে না। আমরা আড়ত থেকে কম সংখ্যক মাছ পাচ্ছি। বাজারের চাহিদা মেটাতে পারছিনা। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের দাম একটু বেশি। প্রতিকেজি ইলিশ আকার ভেদে ৮ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। সাগরে ইলিশ কম ধরা পড়ায় তাই বাজারেও তেমন দেখা মিলছেনা।

বোট মালিকরা মো. আবুল কালাম বলেন, মাছ না পাওয়ায় জেলেদের অনেকেই নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। জেলেরা জাল, বোট নিয়ে অলস সময় পার করছেন। তিনি বলেন, শুরু জেলেই নন, সাগরে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় আড়ত, বোট মালিকরা সুনশান নীরবতা চলছে। এতে জেলেদের কাছে টাকা লগ্নি করে চরম বেকায়দায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও।

জেলে মো. জসিম উদ্দীন বলেন, শুরুতে কয়েকদিন ইলিশের দেখা মিললেও এ সপ্তাহে তেমন মাছ ধরা পড়ছেনা। কয়েকদিন ধরে জেলারা সাগরে জাল ফেলে ৪ থেকে ৫ মণ মাছ নিয়ে ফিরছে। তাই হতাশায় দিন কাটছে জেলেদের। গেল বারের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ১০০ মণের উপরে ইলিশ ধরা পড়েছিল। এবার তার চেয়ে অনেক গুণ কমে গেছে। পরিবার পরিজনদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। তিনি বলেন, ঋণের বোঝা প্রতিদিন ঘাড়ের উপর এসে পড়ছে। ভরা মৌসুমে মাছ না ফেলে জেলেদের ঋণ পরিশোধ করে উঠাই অসম্ভবর হবে। তবে আগামী ৫ থেকে ৬ দিন পর আর্তি পূর্ণিমায় সাগরে ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জেলেরা জানান।

ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ১২৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন