সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৩রা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সৌদির সামনে খোলা দুই পথ

বুধবার, নভেম্বর ৮, ২০১৭

1265385461_1510114467.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ইরান বিরোধী ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট ও যুদ্ধ উন্মাদনা সৃষ্টির জন্য আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের যৌথ ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী গত শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরব দাবি করে ইরান ইয়েমেনকে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করছে।

যদিও ইরান তা অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান বিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল যুবায়েরও ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দেয়ার অভিযোগ তোলেন। ইরানকে সঠিক সময়ে এবং পন্থায় যথাযথ জবাব দেয়া হবে বলে তিনি হুমকি দেন।

এদিকে, বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ বিন আহমাদ আলে খলিফা এবং আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আনওয়ার কারাকাশও ইরানের বিরুদ্ধে একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন।

এইসব উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ বন্ধ করে যতদ্রুত সম্ভব ইয়েমেনের নিরীহ মানুষ হত্যা থেকে বিরত থাকার জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা এবং দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘটনাবলীতে হস্তক্ষেপের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অথচ সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত ২ মে আল আরাবিয়া টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে ইরানেও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ইসরাইলের দৈনিক জেরুজালেম পোস্ট তেলআবিব ও রিয়াদের একটি গোপন সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে লিখেছে, "কিছুদিন আগে সৌদি আরব ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল করে দেয়া বিষয়ে পরীক্ষা চালায় যাতে ইসরাইল সহজে বিমান হামলা চালাতে পারে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার সমর্থন নিয়ে সৌদি আরবের এ ধরণের উস্কানিমূলক তৎপরতা সমগ্র এ অঞ্চলের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগণ এক বিবৃতিতে বলেছে, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ঠেকানোর জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াবে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ গত সোমবার টুইট বার্তায় বলেছেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরের পর বাহরাইনে অত্যাচার নির্যাতন বেড়েছে এবং এরপর কাতারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে অন্য আরব দেশ।"

যাইহোক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের সামনে এখন দু'টি পথ খোলা রয়েছে। হয় সৌদি আরবকে বর্তমান নীতিই মেনে চলতে হবে যার পরিণতি হচ্ছে নিশ্চিত ধ্বংস। অথবা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজ আচরণ সংশোধন করে মধ্যপ্রাচ্যে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

ঢাকা, বুধবার, নভেম্বর ৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ৯৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন