সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করে বিপদে সৌদি আরব

বুধবার, নভেম্বর ৮, ২০১৭

1189292757_1510115623.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের রিয়াদে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন। সৌদি আরব গত শনিবার জানিয়েছিল, রিয়াদের আকাশে একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করা হয় এবং সেটি ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া হয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগের জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, "শত্রুরা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরোপের জন্য যে কোনো সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। সুতরাং আমরাও বিষয়টিকে হাল্কা করে দেখছিনা।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেন যুদ্ধ এখন সৌদি আরবের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় হাজার হাজার মানুষ হতাহত হওয়া ছাড়াও বহু অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ সৌদি আরব ইয়েমেনে আগ্রাসন শুরু করে। বিমান হামলার ২৭ দিন পর যুদ্ধ পানি ও স্থলপথেও ছড়িয়ে পড়ে।

সৌদি আরবের রাজনৈতিক ও সামরিক নীতি নির্ধারকরা ভেবেছিলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা ইয়েমেনে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন কিন্তু সে স্বপ্ন আজো পূরণ হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সময় ইয়েমেনে হস্তক্ষেপের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন যখন রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের ইরাক ও সিরিয়া নীতি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ওই ব্যর্থতা ঢাকার জন্য তারা এখন ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।

ইরানের সাবেক কূটনীতিক সাইয়্যেদ মুসাভিয়ান চীনের একটি টিভি চ্যানেলের গোলটেবিল বৈঠকে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ওই অপরাধে আমেরিকাও শরীক রয়েছে। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ কখনোই নিরাপত্তা আনতে পারে না বরং ইয়েমেনে রিয়াদের আগ্রাসনের ফলে দীর্ঘ মেয়াদে সৌদি আরব নিরাপত্তাহীনতার কবলে পড়বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা এমন সব পদক্ষেপ নিয়েছে যার পরিণতিতে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, সুদানসহ আরো অনেক দেশে আমেরিকার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ইরানও আমেরিকার ওই যুদ্ধনীতির স্বীকার হয়েছে।

আমেরিকার টাকসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক চার্লস চামিৎয ইরানের মেহের বার্তা সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, "ইয়েমেন যুদ্ধে আমেরিকার অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে।" তিনি বলেন, "আমেরিকা একদিকে সরাসরি আল কায়দা বিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে অন্যদিকে গোপনে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে শরীক হয়েছে।"

আমেরিকা শুধু যে নিজেই বিভিন্ন দেশে হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত তাই নয় একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনে ইসরাইল ও সৌদি আরবের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিও সমর্থন যোগাচ্ছে। আমেরিকার উস্কানিতে সৌদি আরব গত কয়েক বছর ধরে ইয়েমেনে যে হামলা চালিয়ে আসছে তারই প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেন রিয়াদে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কিন্তু তারপরও আমেরিকা তার দোষ স্বীকার না করে ইয়েমেন পরিস্থিতির জন্য এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিজের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় উল্টো ইরানকে দায়ী করছে। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এ অঞ্চলে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির ধারা অব্যাহত রাখতে সৌদি আরবকে উৎসাহিত করছে আমেরিকা।

ঢাকা, বুধবার, নভেম্বর ৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ৩৫৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন