সর্বশেষ
বুধবার ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শক্তিশালী হয়েছে ইয়েমেনের যোদ্ধারা, চিন্তায় ঘুম হারাম সৌদির

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৭

1267488766_1510202380.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর এক বিবৃতিতে ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে ওই দেশটির ওপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায় নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অব্যাহত হামলার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইয়েমেনের আকাশ, সমুদ্র ও স্থল পথে সৌদি নিষেধাজ্ঞার ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর ইয়েমেনে সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে সমস্ত ক্রসিং পয়েন্ট খুলে দেয়ার জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি আরব ইয়েমেনের সমস্ত ক্রসিং পয়েন্ট বন্ধ করে দিয়ে ওই দেশটির পুরো জনগোষ্ঠীকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেছে। সৌদি আরব যদি মানবিক ত্রাণ সরবরাহের জন্য সমস্ত পথ খুলে না দেয় তাহলে ক্ষুধায় জর্জরিত ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষের ভাগ্যে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের এ ধরণের অবরোধ ও হত্যাযজ্ঞ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ১৯৫০ এর দশকের প্রথম দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে একটি কনভেনশন পাশ করা হয়। কনভেনশনের প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, শান্তি কিংবা যুদ্ধকালীন অবস্থায় গণহত্যা আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। দ্বিতীয় ধারায় গণহত্যা বন্ধ ও এর শাস্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, একটি জাতি, বর্ণ কিংবা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে পুরোপুরি কিংবা আংশিকভাবে নির্মূল করাকেই গণহত্যা বলে। এই কনভেনশন অনুযায়ী যেসব পদক্ষেপ একটি জনগোষ্ঠীর জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে যা ধীরে ধীরে তাদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয় কিংবা ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাও গণহত্যার শামিল।

ইয়েমেন পরিস্থিতির দিকে নজর দিলে আমরা দেখতে পাই সৌদি আরব দেশটির জনগণের ওপর গণহত্যা চালানোর জন্য সবরকম কৌশলই ব্যবহার করেছে এবং বর্তমানে দেশটিতে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা রিয়াদকে আরো বেপরোয়া করে তুলেছে। ইয়েমেনের জনগণের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিরোধের কারণে সেদেশে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় আলে সৌদি সরকার হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইয়েমেনের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি সেদেশের জনগণের অনুকূলে রয়েছে। ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা সৌদি আগ্রাসনের মোকাবেলায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলায় এবং সামরিক দিক থেকেও আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় সৌদি কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছে এবং তারা কী করবে ভেবে পাচ্ছে না।

এ কারণে সৌদি সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এবং অপরাধযজ্ঞের ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য ইয়েমেনের অকুতভয় যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করছে। ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরবের মানবতা বিরোধী আচরণ এখন সবার কাছেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের কারণে আন্তর্জাতিক সমাজ এতদিন ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের বিষয়ে নীরব থাকলেও তারা এখন নড়েচড়ে বসেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে তা থেকে সৌদি আরবের অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে তাদের অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ৪৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন