সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে সেফটি ট্যাঙ্কে নেমে যুবকের মৃত্যু

রবিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৭

7727904_1510495368.jpg
চট্টগ্রাম ব্যুরো :
চট্টগ্রামের রাউজানে পশ্চিম গুজরায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেফটি ট্যাঙ্কে কাজ করতে নেমে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (২৮) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের জান মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ীর আবদুর রহিমের তিন পুত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আব্দুস সামাদ, আবদুল হাশেম ও রুবেল মিলে নতুন ভিটেয় একটি পাকা দালান নির্মাণ করেছিলেন। নির্মাণাধীন এই ভবনে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতো রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই বাজারস্থ হাজী বাচা মিয়া মেম্বারের বাড়ীর মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। বিগত সাত মাস ধরে ভবনের ঠিকাদার আনোয়ারা উপজেলার চৌমুহনী এলাকার মো. আরিফ আর জামালের অধীনে কাজ করতো সে। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে কাজ করতে গেলে ঠিকাদার তাকে নির্মাণাধীন এই ভবনের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে সেন্টারিংয়ের কাঠ খোলার জন্য বললে সে সেফটি ট্যাংকে নেমে পড়ে। আধঘন্টা পর আরেক নির্মাণ শ্রমিক ইয়াহিয়া রফিককে দেখার জন্য সেফটি ট্যাংকে নেমে বুক সমান পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি করে উপড়ে উঠে মিস্ত্রী এবং অন্যান্য শ্রমিকদের জানালে তারা নিচে নেমে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।

পরে খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন সাহাব উদ্দিন আরিফ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এ সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুলাল হোসেন। এ সময় নিহত রফিকের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন পুলিশ ও রফিকের পরিবারের সদস্যরা। পরে নিহতের পরিবারের অনুরোধে এবং লাশের ব্যাপারে তাদের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেয় পুলিশ।

এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুলাল হোসেন বলেন, খবর পেয়েই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকের ভেতর জমে থাকা পানি অতিরিক্ত ঠান্ডা হওয়ায় কারণে অথবা ট্যাংকের ভেতরে অক্সিজেন শূণ্যতায় তার মুত্যু ঘটতে পারে। তবে লাশের শরীরে আমরা কোনো আঘাতের চিহৃ দেখতে পাইনি। এবং লাশের ব্যাপারে তার পরিবারের কোনো প্রকার অভিযোগ নেই। পরে সেখান থেকে লাশ তার বাড়ীতে নিয়ে গেলে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।

স্থানীয় লোকজনের সাখে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারে ছয় ভাই দুই বোনের মধ্যে রফিক ছিল সবার ছোট। তিন বছর আগে উপজেলার ইয়াছিন নগর এলাকার আজিজুল হকের কন্যা শেলী আকতারকে বিয়ে করেন রফিক। তের মাস বয়সী আলভী নামের তাদের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

ঢাকা, রবিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // ই নি এই লেখাটি ১৭১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন