সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

ভাঙা সেতুতে দুর্ভোগ

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

1481176358_1510642075.jpg
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এখানে কোন নতুন সেতু তৈরি হচ্ছে। তাই প্রাথমিকভাবে চলাচলের জন্য বাঁশ দিয়ে সেতু বানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ঘটনার পুরোটা জানলে আপনার চোখ আকাশে উঠবে।

কারণ এটা কোন নির্মাণাধীন সেতু নয়, এটি একটি পুরনো সেতু ভেঙে এই হাল হয়েছে। ঝিনাইদহের নারিকেলবাড়িয়া-টিকারী সড়কের সানচাই নদীর টিকারী সেতু এটি।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালের ৬ জুন এই সেতুটি ধসে পড়ে। কিছুদিন পর স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সেতুর উপরের অংশটুকুও ভেঙে ফেলেন। এভাবে প্রায় ১৬ মাস পার হলেও নতুন করে সেতু নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, সেতুটি ধ্বসে পড়ার পূর্বে তারা এলজিইডি অফিসে খবর দিয়েছিলেন। খবর পেয়ে তারা ভারী যানবাহন চলাচল না করার জন্য একটি সাইনবোর্ড দিয়ে যান। সেই ভাবেই চলে আসছিল।

এরপরে সেতুটির ওপর দিয়ে আর ভারী যানবাহন চলাচল করত না। শুধু ভ্যান, নসিমন, করিমন, বাইসাইকেল চলাচল করতো। মাঝে মধ্যে দুই একটি গরুরগাড়ি চলাচল করতো। এই অবস্থায় সেতুটি ধসে পড়ে।

এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল জিতড়, মিয়াকুন্ডু, কুশোবাড়িয়া, ধননঞ্জয়পুর, মুক্তারামপুর, মাড়নিব্দ, নারিকেলবাড়িয়া, টিকারী, দহখোলা, দিঘিরপাড়, লক্ষিপুর, মালঞ্চি, ব্যাংশ, বেরুইলসহ পাশ্ববর্তী বেশ কিছু গ্রামের হাজারো মানুষ।

সেতু ভাঙার পর এলাকাবাসীর দুর্দশার যেন শেষ নেই। মালামাল পারাপার করছেন নৌকায় করে। নতুন সেতুর জন্য দৌড় ঝাঁপ করেছেন বিভিন্ন অফিসে, তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন নতুন সেতু নির্মাণের।

স্থানীয় সুবোধ কুমার নামের এক ব্যক্তি পারাপারের জন্য বাঁশের একটি সেতুটি তৈরি করেছেন। তবে এই সেতু দিয়ে পার হলে জনপ্রতি গুনতে হচ্ছে তিন টাকা করে। আর মোটরসাইকেল বা বাইসাইকেল ধরনের ছোট যান পার করলে দিতে হয় ১০ টাকা করে। এও আরেক নতুন ভোগান্তি। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। এসব দেখার আপাতত কেউ নেই। তাই বিড়ম্বনাই মেনে নিতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

সরেজমিনে গিয়ে এমন অবস্থাই দেখা গেছে। তবে বাঁশ দিয়ে সেতু নির্মাণকারী সুবোধ কুমার বলেন অন্য কথা। তার দাবি এটা করে তিনি মানুষের খেদমত করছেন।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, এই সেতুটি তৈরি না করলে জনসাধারণের ভোগান্তির শেষ ছিল না।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ইতিমধ্যে সেতুটি নির্মাণের তারা টেন্ডার করিয়েছেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাজ করতে পারছেন না। তিনি আশা প্রকাশ করেন বলেন, দ্রুত সেতুটি তারা নির্মাণ করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় এলজিইডি বিভাগ সেতুটি নির্মাণ করেন। যেটি ২০১৬ সালের ৬ জুনে ধসে পড়ে।



ঢাকা, মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ১৭১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন