সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২০ নভেম্বর ২০১৮

যুদ্ধবিগ্রহে প্রযুক্তির বিপ্লব

শুক্রবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৭

1370411856_1510895056.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই বিশেষজ্ঞরা প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে যে ভয়াবহ ‘বিপ্লব’ ঘটছে, তা থেকে সাবধান করে দিয়েছেন৷ কিন্তু আগে থেকে যেসব অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে যুদ্ধবিগ্রহ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর কী হবে?

এআই: ‘যুদ্ধবিগ্রহে তৃতীয় বিপ্লব’

এআই-এর শতাধিক বিশেষজ্ঞ প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ তারা বলছেন, এখনও কোনো হত্যাকারী রোবট সৃষ্টি হয়নি, কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেভাবে এগোচ্ছে তাতে এর সম্ভাবনা বেড়ে চলেছে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারুদ আর পারমাণবিক অস্ত্রের পর এ ধরনের অস্ত্র ‘যুদ্ধ বিগ্রহে তৃতীয় বিপ্লব’ ঘটাতে পারে৷

বারুদ

‘যুদ্ধবিগ্রহে প্রথম বিপ্লব’ ঘটায় চীন৷ দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে গান পাউডার , অর্থাৎ বারুদ আবিষ্কার করে তারা, যেটা বন্দুকে ব্যবহার করা যায়৷ এর ব্যবহার ধীরে ধীরে পরবর্তী দুই শতকে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে৷

কামান

বারুদ আবিষ্কারের পর যুদ্ধক্ষেত্রে কামান ব্যবহার শুরু হয়৷ ষোড়শ শতাব্দীতে এসে সৈন্যরা বিভিন্ন শহর, নগরের প্রতিরক্ষা দেয়ালে বা দুর্গে এই কামান স্থাপন করে এবং এর ভেতর ভারী ধাতব বল প্রবেশ করিয়ে বারুদ ভরে প্রতিপক্ষের দিকে ছোড়া হয়৷ ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে এই কামান ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, যার স্বরূপ দেখা গেছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে৷

মেশিনগান

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে বিভিন্ন ধরনের বন্দুক আবিষ্কারে সফলতা দেখা যায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রেও এদের ব্যবহার বেড়ে যায়৷ সুরক্ষিত স্থানে থেকে শত্রুর উপর আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে মেশিনগান৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ থেকে মেশিনগান ব্যবহার করেছিল সেনারা৷

যুদ্ধ বিমান

১৯০৩ সালে যুদ্ধ বিমান আবিষ্কার হয়৷ এর ছ’বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রথম অস্ত্র ছাড়া সামরিক বিমান চালু করে, যেটি রাইট মিলিটারি ফ্লাইয়ার নামে পরিচিত৷ এর পরবর্তী বছরগুলোতে যুদ্ধ জাহাজ এবং বোমারু বিমানের উদ্ভাবন হয়৷ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে এগুলোর ব্যবহার হয়৷

যান্ত্রিকীকরণ

যন্ত্রপাতি বহন এবং স্থানান্তরে আগে সেনাবাহিনী সৈন্য ও ঘোড়াদের কাজে লাগাতো৷ কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ট্যাংক এবং সাজোয়া যানের ব্যবহার শুরু হয়৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে জার্মানির নাৎসিরা এই সব যানবাহনের আরও সংস্করণ করে বিধ্বংসী যানে পরিণত করে৷ এর মাধ্যমে করা হামলাকে বলা হয় ‘লাইটনিং ওয়ার’৷

ক্ষেপণাস্ত্র

যদিও কামান বেশ কার্যকর তবে এর রেঞ্চ সীমিত৷ ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কয়েক শত কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ক্ষেপণাস্ত্র আবিষ্কার হয়৷ প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি হলো জার্মান ভি-২, যেটি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহনে সক্ষম৷

জেট ইঞ্জিন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে জেট বিমানের আবির্ভাব ঘটে৷ জেট ইঞ্জিন খুব তাড়াতাড়ি বিমানের গতি বাড়াতে পারে, পাশাপাশি দ্রুত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম এটি৷

পারমাণবিক অস্ত্র

‘যুদ্ধবিগ্রহে দ্বিতীয় বিপ্লব’ ঘটে ১৯৪৫ সালের ৬ই আগস্ট, যখন যুক্তরাষ্ট্র ‘লিটল বয়’ নামক ভয়াবহ আণবিক বোমা ফেলে জাপানের হিরোশিমাতে৷ এতে মুহূর্তে প্রাণ হারায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ৷

ডিজিটাইজেশন

গত কয়েক দশকে বিশ্ব দেখেছে কীভাবে কম্পিউটারের মাধ্যমে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে৷ এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও সহজ হয়েছে৷ পাশাপাশি অনেক অস্ত্রের উন্নয়নও সহজ হয়েছে৷ বিশ্বের সশস্ত্রবাহিনীগুলো সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাইবার প্রতিরক্ষার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে৷

ঢাকা, শুক্রবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ১৬৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন