সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৫ নভেম্বর ২০১৮

বিশ্বসাহিত্যের কিংবদন্তি 'জুল ভার্ন'

শনিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৭

796234243_1510993808.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
জুল গ্যাব্রিয়েল ভার্ন, আমাদের কাছে পরিচিত 'জুল ভার্ন'। উনবিংশ শতাব্দীর এক ফরাসি লেখক, যিনি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন কল্পবিজ্ঞানের জগতে।

১৮২৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি, ফ্রান্সের পশ্চিমে বিস্কে উপসাগরে এক ব্যস্ত বন্দর নগর 'নান্তেস' এ জন্ম হয়েছিল জুল ভার্নের। জাহাজের আসা-যাওয়ার দৃশ্য ছিলো জুল ভার্নের শৈশব-কৈশোরের নিত্যদিনের অংশ, হয়তো এ দৃশ্যই তার ভ্রমণ কল্পনাকে করেছিলো প্রসারিত।

১২ বছর বয়সে জাহাজে কেবিন বয়ের চাকরি নিয়ে পালিয়ে যেতে গিয়ে ধরা পড়েন মায়ের হাতে। সে থেকে ভেবেই নিয়েছিলেন তার অভিযানগুলো হবে কল্পনাতে। অভিযানের রোমাঞ্চ সৃষ্টি হবে কলমে-কাগজে। আর তাই বোর্ডিং স্কুলে থাকা কালেই জুল ভার্ন শুরু করেন ছোট গল্প ও কবিতা লেখা।

জুল ভার্নের পিতা পিয়েরে ভার্ন ও মা সোফি এলো দে লা ফুয়ে। পিতা ছিলেন নামকরা আইনজীবী। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান হবার কারণে আইনজীবী পিতার ইচ্ছাপূরণের ভার বর্তায় জুল ভার্নের ওপরেই এবং তাকেও আইন বিষয়ে পড়াশুনা করতে পাঠানো হয় প্যারিসে।

কিন্তু প্যারিসে গিয়ে জুল ভার্নের সাহিত্যপ্রেমে যেন আরো দোলা লাগে! পড়াশুনার ফাঁকফোকরে জুল ভার্ন আসা-যাওয়া শুরু করেন প্যারিসের বিখ্যাত সাহিত্য প্রাঙ্গণগুলোতে। সেখানে অনেক সাহিত্যিক-শিল্পীর সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। জুল ভার্নের সে সময়ের বন্ধু তালিকায় ছিলেন আলেকজান্ডার দ্যুমা ও তার পুত্রও।

সাহিত্যের এত কাছে আসার সু্যোগ পেয়ে জুল ভার্ন যেন খোঁজ পেয়ে গেলেন এতদিনের কাঙ্খিত স্থানের। আর তাই ১৮৪৯ সালে আইন বিষয়ে ডিগ্রী লাভ করার পরও জুল ভার্ন থেকে গেলেন প্যারিসেই, ভাবলেন আরো কিছুদিন শানিয়ে নেয়া যাক সাহিত্যচর্চাকে!

সাহিত্যাঙ্গনে জুল ভার্নের প্রবেশ ঘটে মঞ্চনাটক রচয়িতা হিসেবে, তার প্রথম নাটকটি ছিল একটি একাঙ্কিকা- 'ব্রোকেন স্ট্রোস'। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি আইনের পেশাও চালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন জুল ভার্ন।

কিন্তু না, পারলেন না নিজের সাথে মিথ্যাচার করতে। তাকে নিয়ে নান্তেসে আইন ব্যবসা চালু করার যে স্বপ্ন তার পিতা দেখেছিলেন, তা বাদ দিয়ে জুল ভার্ন 'থিয়েটার লিরিক' এ সেক্রেটারি হিসেবে নিযুক্ত হন। এই পেশায় থাকাকালীন তিনি সৃষ্টি করেন 'ব্লাইন্ড ম্যান'স ব্লাফ' ও 'দ্য কম্প্যানিয়নস অফ দ্য মার্জোলাইন' এর মতো নাটক।

১৮৫৬ সালে জুল ভার্ন তার হৃদয়ের গাঁটছড়া বাঁধেন অনরাইন দি ভিয়েনার সাথে। অনরাইন ছিলেন একজন বিধবা এবং তার দু'টি মেয়েও ছিল- সুজানে মরেল ও ভ্যালেন্টাইন। ১৮৫৭ সালে তারা দুজন বিয়ে করেন এবং দুই মেয়ের যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেন জুল ভার্ন। বাড়তি পরিবারের জন্য প্রয়োজন পড়ে বাড়তি রোজগারেরও। আর তাই স্টোকব্রোকার হিসেবে কাজ নেন জুল ভার্ন। তবে কখনোই তিনি তার সাহিত্যচর্চা ছেড়ে দেননি। সে বছরই প্রকাশ পায় তার প্রথম গ্রন্থ 'দ্য ১৮৫৭ স্যালন'।

১৮৫৯ সালে জুল ভার্ন ও অনরাইন ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশ্যে একটি জাহাজযাত্রায় শামিল হন এবং এটি তার লেখনীতে নতুন করে উৎসাহ জোগায়। ১৮৬১ সালে এই দম্পতির একমাত্র পুত্রসন্তান মাইকেল ভার্নের জন্ম হয়।

১৮৬২ সালে প্রকাশক হ্যাটজেলের সাথে সাক্ষাৎ ছিল জুল ভার্নের জীবনের একটি অন্যরকম মোড়। হ্যাটজেল জুল ভার্নের লেখার সর্বোপরি পৃষ্ঠপোষকতা করেন ও তাকে আরো লিখতে উৎসাহ জোগান। জুল ভার্নের প্রথম লেখা উপন্যাস 'ফাইভ উইকস ইন এ বেলুন' এর কাহিনী অবাস্তব বলে কোনো প্রকাশকই তা প্রকাশ করতে চাননি। ক্ষোভে দুঃখে একদিন সে পাণ্ডুলিপি আগুনে পুড়িয়ে ফেলতেও চেয়েছিলেন জুল ভার্ন। পরে তার স্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা রক্ষা পায়।

হ্যাটজেলই একমাত্র প্রকাশক যিনি ১৮৬৩ সালে এই উপন্যাসটি প্রকাশ করেন এবং তার জনপ্রিয়তা তো আজ কোনো কল্পবিজ্ঞানপ্রেমীরই অজানা নয়! জানা থাকা ভালো যে, এই বইয়েরই সিক্যুয়েল হিসেবে আমরা পেয়েছি আরেক জগদ্বিখ্যাত উপন্যাস 'দ্য মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ড', বিটিভিতে একসময় কিশোর-কিশোরীদের চোখ আটকে যাওয়া সিরিজও ছিল এটি। দেখা পাই ক্যাপ্টেন নিমো আর হার্ডিংয়ের, দেখা পাই সেই ডুবোজাহাজ নটিলাসের।

জুল ভার্নকে কল্পবিজ্ঞানের জনক বলেও অভিহিত করেন অনেকে। তার লেখায় কল্পনার পাশাপাশি ফুটে ওঠেছে সমসাময়িক ইতিহাস, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা। জুল ভার্ন সবসময় ফরাসিতেই লিখতেন, তবে তার অধিকাংশ বই-ই অনুবাদ করা হয় ইংরেজি ভাষায়। আগাথা ক্রিস্টির পর জুল ভার্নই সেই লেখক যার লেখা সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। জুল ভার্নের সব কটি বইই উল্লেখযোগ্য।

এর মাঝে কয়েকটি বই হলোঃ অ্যারাউন্ড দ্য ওয়াল্ড ইন এইটটি ডেইজ, প্যারিস ইন দ্য টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি, এ জার্নি টু দ্যা সেন্টার অফ আর্থ।

১৯০৫ সালের ২৪শে মার্চ ফ্রান্সের আমিয়েন্সে ডায়াবেটিসের কারণে জুল ভার্ন মৃত্যুবরণ করেন। তখন তার বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর। আমিয়েন্সে জুল ভার্নের একটি স্মারকসৌধও আছে।

ঢাকা, শনিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ১৮২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন