সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

ভোলাহাটে রেশমের বাম্পার ফলন, চাষিদের মুখে হাসি

বুধবার, নভেম্বর ২২, ২০১৭

174796744_1511350579.jpg
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
পরপর কয়েক মৌসুম লোকসানের পর রেশমের জন্য বিখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে চলতি মৌসুমে রেশমের বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। একসময় রেশম, আম আর লাক্ষার জন্য বিখ্যাত ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট। কিন্তু কালের বিবর্তনে লাক্ষা চাষ এখন বিলুপ্তপ্রায়।

অন্যদিকে দেশের বাইরে থেকে রেশম আমদানি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বারবার রেশম চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকে রেশম চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। তবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু চাষি এখনও এটি ধরে রেখেছেন। উপজেলায় রয়েছেন তালিকাভুক্ত ১৬৫জন বসনী (রেশম চাষি)।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, ভোলাহাটে রেশম চাষে জমির পরিমাণ ও চাষির সংখ্যা অনেক কমে গেছে এখন। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩'শ বিঘা তুঁত জমি (রেশম চাষের জমি) ও ১৬৫জন তালিকাভুক্ত বসনী (রেশম চাষি) রয়েছেন। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক তুঁত জমি ও পলুঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্পূর্ণ আবাদ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তুঁতের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চাষিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ১৪ হাজার রেশম ডিম সকল বসনীর মাঝে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে প্রায় ৭ হাজার রেশম ডিম ও বিশোধন সামগ্রী ৬৫জন বসনীর মাঝে চলতি অগ্রহায়ণী-১৪২৪ বন্দে (রেশম চাষ মৌসুমকে বন্দ বলে আর বছরে তিনটি বন্দ থাকে) বিতরণ করা হয়েছিল। এ বন্দে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেনি ফলে রেশম চাষিদের দ্বারা নিয়মিত নিবিড় তত্ত্বাবধায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এবং মাঠ পর্যায়ে ও চাষিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছেন রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (যুগ্মসচিব) মো. কামাল উদ্দিন, বোর্ডের জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক কাজী মাসুদ রেজা, ফার্ম ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন, রেশম প্রতিপাদক অলিউলসহ বিভিন্ন কর্মীরা। ফলে মিলেছে বাম্পার ফলন।

বোর্ড আশা করছে, ৭ হাজার ডিমে প্রায় ৫ হাজার কেজি রেশম গুটি উৎপাদিত হবে (ভাল মানের এক কেজি রেশমগুটির মূল্য সাড়ে ৩'শ টাকা)।

চরধরমপুরের রেশম চাষিরা জানান, এ বন্দে রেশমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছর এ বন্দে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বস্ব হারিয়ে ছিলেন তারা। এ বন্দেও বন্যায় তুঁত জমি তলিয়ে যাওয়ায় অনেক বসনী চাষ করতে পারেননি। তবে যারা চাষ করেছেন তারা সবাই বাম্পার ফলন পেয়েছেন। চাষিরা রেশম বোর্ডের নিবিড় সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

চাষি ও রেশম কর্মকর্তারা বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে রেশমের হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব। সেই সাথে রেশম চাষিরা দ্রুত নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারবেন।

ঢাকা, বুধবার, নভেম্বর ২২, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // ম এইচ ন এই লেখাটি ৩৭৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন